১৫ বছর পর জন্ম দেয়া সন্তানটি চুরি হয়ে গেল মায়ের | সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার:
গভীর রাতে মা-বাবার পাশে ঘুমন্ত অবস্থায় মাসুদুর রহমান নামে ১১ মাস বয়সের এক শিশু চুরি হয়েছে। শনিবার ভোরে কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার মুদাফরগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়নের শ্রীয়াং দক্ষিণ পাড়ার রাজন ভূঁইয়া বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। শিশুটির সন্ধানে এলাকাজুড়ে মাইকিংসহ থানায় অভিযোগ করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাতের খাবার খেয়ে ওই গ্রামের শফিকুর রহমান ও তার স্ত্রী সালমা বেগম শিশুটিকে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। শনিবার ভোর রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় কৌশলে ঘরের দরজা খুলে মা-বাবার পাশ থেকে শিশুটিকে চুরি করে নিয়ে যায় চোর। সকালে ঘুম থেকে উঠে সন্তানকে না পেয়ে মা-বাবা চিৎকার-কান্নাকাটি করতে থাকেন।
এ সময় বাড়ির লোকজন ছুটে আসে। আশপাশের ঘরে খোঁজাখুঁজির পর এলাকার বিভিন্ন স্থানে মাইকিং করা হয়। পরে থানায় খবর দিলে কুমিল্লা জেলা সহকারী পুলিশ সুপার (লাকসাম সার্কেল) ইমরান রহমানসহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
স্থানীয়রা জানায়, ১৫ বছরের দাম্পত্য জীবনে তাদের আর কোনো সন্তান নেই। একটি সন্তানের আশায় তারা ধরনা দিয়েছেন ডাক্তার-কবিরাজ, ফকির-দরবেশসহ নানা চিকিৎসালয়ে। বহু চিকিৎসার পর অবশেষে ১১ মাস আগে তাদের কোলজুড়ে মাসুদুর রহমান নামে একটি পুত্রসন্তান আসে। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে পিতা-মাতা এখন পাগলপ্রায়।
এ বিষয়ে লাকসাম থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নিজাম উদ্দিন বলেন, আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ঘটনাটি গভীরভাবে তদন্ত করা হচ্ছে।

সিঙ্গাপুরের আদলে এগোতে চায় বাংলাদেশ | সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার:
বিশ্বে ‘ইজি অব ডুয়িং বিজনেস’ বা সহজে ব্যবসায় সিঙ্গাপুরকে মডেল বলে মনে করা হয়। আর বাংলাদেশ সেভাবেই এগোতে চায় বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী মো. আমিনুল ইসলাম।
আজ (রোববার) রাজধানীর একটি হোটেলে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের ‘ব্রিফিং অ্যান্ড প্রেজেন্টেশন ফর সিঙ্গাপুর বিজনেস ডেলিগেশন’ বিষয়ক সেমিনারে এ কথা বলেন বিডা প্রধান। এ সময় সিঙ্গাপুরের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘গত দশ বছরে অবকাঠামো উন্নয়নসহ বাংলাদেশের অনেক পরিবর্তন হয়েছে। এনার্জি, কমিউনিকেশন, লজিস্টিক, ইকোনোমিক জোনন্স ডেভলপমেন্ট, রিয়েল এস্টেট, আইসিটি প্রতিটি ক্ষেত্রে আমরা উন্নয়ন করেছি। বাংলাদেশে ব্যবসার পরিবেশ প্রতিনিয়ত সহজ থেকে সহজতর হচ্ছে। বিশ্ব বাজারে শতভাগ রপ্তানির সুযোগসহ আমাদের রয়েছে বিশাল দেশীয় বাজার। বিশ্বে তৈরি পোশাক শিল্পে বাংলাদেশ ২য় অবস্থানে থাকলেও লাভের দিক দিয়ে চীনের থেকে বেশি। বর্তমানে বাংলাদেশে কর্পোরেট লাভ প্রায় ১৮ শতাংশ, যা বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ।’
বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের অসংখ্য তরুণ উদ্যোক্তা রয়েছে, যারা বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চায়। তাদের দরকার অর্থনৈতিক সহযোগিতা। তারা বিশ্বের বড় বড় প্রতিষ্ঠানের সাথে কাজ করতে আগ্রহী।’
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী, বিডার পরিচালক আরিফুল হকসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
পিডি/এনএফ/পিআর
সূত্র জাগো নিউজ

আসামিরা প্রকাশ্যে, বিচার পাবে কী শারমিনের পরিবার? | সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার: প্রকাশিত: ১০:৪২ অপরাহ্ণ, ২৫ আগস্ট ২০১৯

‘মা/ভাইয়া আমাকে ক্ষমা করে দিও। আমি বাঁচতে চেয়েছিলাম, কিন্তু নিষ্ঠুর পৃথিবীর মানুষেরা আমাকে বাঁচতে দিল না। আমার মৃত্যুর জন্য দায়ী তারেক, তারেকের মা ও তার বোন কনিকা। আমার মৃত্যুর প্রতিশোধ তোমরা নিও।’
বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে ইভটিজিংয়ের শিকার হয়ে এই চিঠি লিখে আত্মহত্যা করেছিল চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার ফরিদ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির ছাত্রী শারমিন আক্তার মিনু।
ঘটনার ৪ বছর অতিবাহিত হলেও জাল জালিয়াতির মাধ্যমে আইনের চোখ ফাঁকি দিয়ে বহাল তবিয়তে রয়েছে মামলার মূল আসামি মমিন হোসেন তারেকসহ অন্যরা। পুলিশের পক্ষপাতদুষ্ট অভিযোগ গঠনের কারণে দফায় দফায় তদন্ত কার্যক্রম পরিবর্তন ও আসামি পক্ষের হুমকি-ধমকির ফলে সন্তান হারানোর বিচার চেয়ে ভীতিকর জীবন কাটাতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বাদী পরিবার। এখনো বিচার না হওয়ায় হতাশ শারমিনের মা শাহিদা বেগম। তবে তিনি এখনো রয়েছেন ন্যায়বিচার পাওয়ার আশায়।
সরেজমিনে গত মঙ্গলবার হাঁড়িয়া গ্রামে নিহত শারমিনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, সুনশান নীরবতার মাঝেই চলছে শারমিনের চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকীর আয়োজন। প্রিয়জন হারানো স্বজনরা ৪ বছরেও ভুলতে পারেননি সেদিনের দুঃসহ স্মৃতি। সাংবাদিকদের দেখেই দীর্ঘদিনের চাপা কান্না বাঁধ ভেঙ্গে উপচে পড়ে তাদের। পাশে উপস্থিত এলাকার ২/১ জন আড়ালে গিয়ে অশ্রু সংবরণ করছে।
কথা হয় শারমিনের মায়ের সাথে। সংবাদকর্মীদের দেখেই তিনি কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। শারমিনের ডাক নাম মিনু। কান্না জড়িত কণ্ঠে মিনুর মা বলেন, আমি রাস্তায় বের হই না, স্কুল ড্রেস পরা মেয়েদের দেখলে আমার কলিজা ফেটে যায়। বিকেল হলেই মনে হয় দলবাঁধা মেয়েদের সারি হতে ছুটে এসে স্কুল ব্যাগ খাটে ছুঁড়ে মিনু আমায় ডাকছে- ‘মা, খেতে দাও’ সে আশায় আজো তার পথ চেয়ে আছি। আমি একটু বিচার চেয়েছি, তাও আজ এটা, কাল ওটা। দোষীদের শাস্তি দেখলে আমার মিনুর আত্মা শান্তি পাবে। যাদের কারণে আমার মেয়ে পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলো আমি তাদের বিচারের আশায় রয়েছি।
মিনুর বড়ভাই প্রবাসী শাহজাহান সোহাগ মোবাইল ফোনে জানান, আমরা ৫ ভাইয়ের একমাত্র বোন মিনু। অনেক স্বপ্ন নিয়ে তাকে বিদ্যালয়ে পাঠিয়েছিলাম মানুষের মতো মানুষ বানাতে। সেই বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ ও ক্যাম্পাসে নিষ্ঠুর পৃথিবীর মানুষরূপী কিছু অমানুষের অমানবিক আচরণের কারণে পৃথিবী ছাড়তে হয় তাকে। চার বছরেও মায়ের চোখের জল শুকায়নি, ন্যায্য বিচার পাওয়ার আশায় প্রতিটি প্রহর গুণছেন তিনি দীর্ঘশ্বাস নিয়ে। আর অপরাধীরা দিব্যি চোখের সামনে ঘুরাফেরা করছে। চার বছরে মামলা তুলে নিতে অনেক অনুরোধ, হুমকি ও প্রলোভন পেয়েছি অথচ শুণ্য বুকের হাহাকার মিটানোর জন্য এতোটুকু সান্ত্বনা দেবার মতো কাউকে পাইনি।
জানা যায়, উপজেলার হাড়িয়া গ্রামের পন্ডিত বাড়ির প্রবাসী মোহাম্মদ আলীর মেয়ে শারমিন আক্তার মিনু। তাকে প্রায়ই প্রেম নিবেদন ও উত্যক্ত করতো সহপাঠী একই ইউনিয়নের সংহাই গ্রামের প্রবাসী আবু তাহেরের ছেলে তারেক। তারেক কোনোভাবে মিনুকে প্রেমে রাজি করতে না পেরে মা রূপবান বেগম ও বোন কনিকাকে সহযোগিতা করতে বলে। এ ব্যাপারে ঘটনার ৩ দিন আগে ২০১৫ সালের ১৭ আগস্ট সোমবার বিকেলে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. ইসমাইল হোসেনের নিকট শারমিনের ছোট ভাই নয়ন মৌখিক ভাবে একটি অভিযোগ দেয়। ২০ আগস্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের উপস্থিতিতে ইংরেজি ক্লাস চলাকালে রূপবান বেগম ক্লাসের ভেতরে ঢুকে মিনুকে দাঁড় করায়। পরে তার ছেলের সাথে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করার পরামর্শ দেয়। এ প্রস্তাব মিনু প্রত্যাখ্যান করলে তারা মিনুকে অকথ্য ভাষায় বিভিন্ন প্রকার গালিগালাজ করে। পরে বিরতির সময় রূপবান বেগমের সাথে তার মেয়ে কনিকা এসে আরও অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করে। ওই সময় তারেক মিনুকে চড় মারে ও মুখে থুতু দেয়। উপস্থিত অন্যান্য সহপাঠীদের সামনে অপমানিত হয়ে রাগে ক্ষোভে স্কুল থেকে ছুটি নিয়ে বাড়িতে যায় মিনু।
এরপর তাদের বসত ঘরের নিচ তলায় ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে সে। পরিবারের সদস্যরা তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মিনুর আত্মহননের পর তার ঘর হতে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করে পুলিশ। যাতে লেখা ছিলো- ‘মা, ভাইয়া, আমাকে ক্ষমা করে দিও। আমি বাঁচতে চেয়েছিলাম কিন্তু নিষ্ঠুর পৃথিবীর মানুষেরা আমাকে বাঁচতে দিল না। আমার মৃত্যুর জন্য দায়ী তারেক, তারেকের মা ও তার বোন কণিকা। আমার মৃত্যুর প্রতিশোধ তোমরা নিও।’
ঘটনার পর মিনুর ভাই শাহাবুদ্দিন নয়ন ৫ জনের নাম উল্লেখ করে শাহরাস্তি মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় কেবল অভিযুক্ত তিনজনের মধ্যে বখাটে তারেককে গ্রেফতার করা হয়। মামলার বাদি শাহাবুদ্দিন নয়ন জানান, ধূর্ত তারেকের পরিবার অর্থের বিনিময়ে বয়স কমিয়ে ভুয়া জন্মসনদ তৈরি করে। তাতে তারেকের বয়স দেখানো হয় ১৭ বছর ৫ মাস ১২ দিন। অথচ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট চাঁদপুর জেনারেল হাসাপাতালের জুনিয়র কনসালটেন্ট (রেডিওলজি) ডা. এম মাঈন উদ্দিনের মেডিকেল রিপোর্টের তথ্য অনুযায়ী তারেকের বয়স ২০ বছর। এই ভুয়া জন্মসনদ দিয়ে তারেককে অপ্রাপ্তবয়স্ক দেখিয়ে ৩২ দিন কারাবাস শেষে প্রতারণামূলক তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে তার জামিন নেয়া হয়। কিন্তু মিনুর আত্মহত্যায় প্রধান প্ররোচনাকারী বখাটে তারেকের মা রূপবান বেগম ও তার বোন কনিকাকে আজও আটক করা হয়নি।
মিনুর আত্মহননের ৩ দিন পর লিখিত ভাবে প্রতিবেদন দাখিল করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সিদ্দিকুর রহমান পাটওয়ারী। তার প্রতিবেদনে ইভটিজিংয়ের কোন ঘটনা উল্লেখ করা হয়নি। ২৩ আগষ্ট ২০১৫ তৎকালীন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আলী আশ্রাফ খানের নিকট ওই প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে তারেক, তার মা রূপবান বেগম ও বোন কনিকার অপরাধ আড়াল করে বিদ্যালয়ে ইভটিজিংয়ের কোন ঘটনা ঘটেনি এবং শারমিন ও তার অভিভাবক বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নিকট ইভটিজিং অথবা কোন উশৃঙ্খল আচরণের জন্য তারেকের বিরুদ্ধে ইতোপূর্বে কোনো লিখিত অভিযোগ দেয়নি মর্মে উল্লেখ করা হয়।
ভিকটিমের পরিবার আরও জানায়, দক্ষিণ সূচীপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে বখাটে আচরণের দায়ে বহিষ্কার হওয়া তারেককে কোন প্রকার ছাড়পত্র (টিসি) ছাড়াই এ বিদ্যালয়ে ভর্তি করে প্রধান শিক্ষক। ওই ঘটনায় অপরাধীকে বিদ্যালয় হতে বহিষ্কার না করে তার শিক্ষাজীবন অক্ষুণ্ণ রাখতে প্রধান শিক্ষকের প্রচেষ্টায় লাকসামের একটি বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়ার সুযোগ করে দেয়া হয়। জাতির বিবেক খ্যাত শিক্ষকের অপরাধীদের সাথে এমন সখ্যতা ও অপরাধী পরিবারকে বাঁচাতে তার এই কর্মকাণ্ডে একজন শিক্ষকের পেশাদারিত্ব ও দায়বদ্ধতা নিয়ে নানা বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
ওই মামলায় শাহরাস্তি মডেল থানার তৎকালীন এসআই মো. নিজাম উদ্দিন ২০১৫ সালের ২ ডিসেম্বর তারেক ও তার মা রূপবান বেগমকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগ পত্র প্রেরণ করে। এতে মামলা থেকে ৩ জন আসামির নাম বাদ দেয়া হয়। তারা হলো- মৃত আব্দুল জলিলের পুত্র তারেকের বন্ধু আবু রায়হান, ছালেহ আহমেদের পুত্র মো. শামীম হোসেন ও তারেকের বোন নুরুন্নাহার আক্তার কনিকা। এরপর গত ৩১ জানুয়ারি ২০১৬ তারিখে অভিযোগ পত্রে তদন্ত কর্মকর্তা পক্ষপাতদুষ্ট তদন্ত করেছেন মর্মে তার দাখিলকৃত চার্জশীটের উপর নারাজি আবেদন করেন বাদিপক্ষ।
এরপর গত ১৬ মার্চ ২০১৬ তারিখ নারাজি আবেদন মঞ্জুর হয়ে মামলাটি বিজ্ঞ আদালত সিআইডিতে প্রেরণ করে। সিআইডি পুনঃতদন্ত শেষে গত ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৬ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিলে আদালত মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) আবারো তদন্তের নির্দেশ দেন। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ২০১৭ সালের নভেম্বরে বর্তমানে মামলাটি দুভাগে দুটি চার্জশিট প্রদান করে (যা ৬.১৮ ও ৯.১৮)। এতে তারেক, তার মা রূপবান বেগম ও বোন কণিকাকে আসামি করা হয়। তিন আসামির বিরুদ্ধে আদালত কর্তৃক চার্জগঠন হয়েছে। যা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।
মিনুর ভাই মামলার বাদি শাহাবুদ্দিন জানান, জামিনে এসে তারেক ও তার মা তাকে প্রতিনিয়ত তাদেরকে হুমকি দিয়ে আসছে। আদালতে মিথ্যা তথ্য দিয়ে তারেক জামিন নিয়েছে, তার মা ও বোন প্রকাশ্যে ঘুরছে। তারা জনসম্মুখে বলে বেড়াচ্ছে, মামলা শেষ হয়ে গেছে, কোনো কিছুই হবে না।
শাহাবুদ্দিন আরও জানান, নিজের বোন হারানোর ঘটনার বিচার চেয়ে এখন নিজের জীবন নিয়ে নিজেই শঙ্কায় রয়েছি। ইভটিজিং ও যৌন হয়রানি প্রতিরোধে সরকার ব্যাপক কর্মসূচী গ্রহণ করলেও জামিনে এসে বখাটে তারেক ও অন্য আসামিরা প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা ও বাদি পরিবারের সদস্যদের মামলা তুলে নেয়ার হুমকি মিনুর মায়ের বিচার পাওয়ার আশা ক্ষীণ করে তুলেছে। ওই ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছে স্থানীয়রা।
প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের ২০ আগস্ট শাহরাস্তি উপজেলার আয়নাতলী ফরিদ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির ছাত্রী শারমিন আক্তার মিনু বিদ্যালয়ে বিরতির সময় শ্রেণিকক্ষে সহপাঠী বখাটে তারেকের দ্বারা উত্ত্যক্তের শিকার হয়। পরবর্তীতে উত্ত্যক্তকারী তারেকের পরিবারের সদস্যদের হাতে আবারো নাজেহাল হয়ে ক্ষোভে-অপমানে আত্মহত্যা করে শারমিন।
এআইআর/ডিএ

ভাগ্নিকে নিয়ে উধাও খালু! | সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার:
প্রেম, ভালোবাসা মাঝে মাঝে সত্যিই অন্ধ করে দেয় মানুষকে। তাইতো প্রেম মানে না কোন বয়স, কোন নিয়ম। সমাজ যতই বাঁকা চোখে তাকাক, যতই কটু কথা শোনাক না কেন, প্রেমের ক্ষেত্রে কিন্তু কোনও কিছুই বাধা মানে না।
কিশোররগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার বীর পাকুন্দিয়া থেকে বউকে ফেলে স্কুল পড়ুয়া ভাগ্নিকে নিয়ে গা ঢাকা দিয়েছিলেন আপন খালু আব্দুল হক। ঘটনার ৩ মাস পর শনিবার (২৪ আগস্ট) রাতে ভৈরবের পঞ্চবটি এলাকার জনৈক ধন মিয়ার বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ভৈরব থানা পুলিশ।
জানা যায়, কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার জামসাইদ এলাকার সবজি বিক্রেতা আব্দুল হক গত জুনে নিজের বউকে ফেলে তার বড় বোনের অষ্টম শ্রেণি পড়ুয়া মেয়েকে নিয়ে উধাও হন। এরপর থেকে তারা কখনো ভৈরব, কখনো রায়পুরা এলাকায় আত্মগোপনে থেকে বিয়ে না করেই স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বসবাস করতে থাকে। মেয়ের মা ও খালা ভৈরবে এসে পঞ্চবটি এলাকায় মেয়ের ছবি দেখিয়ে তার সন্ধান চাইলে ওই এলাকার ধন মিয়ার ভাড়া বাসা থেকে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাদের আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।
আব্দুল হকের স্ত্রী জানান, গত তিন মাস যাবত তিনি আমাদের কোনো খোঁজ-খবর না নিয়ে আমার বোনের মেয়েকে নিয়ে পালিয়ে আসে। আমি আমার স্বামীর এমন জঘন্য কর্মকাণ্ডে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।
ওই মেয়ের মা বলেন, তিনি আমার মেয়েকে ফুঁসলিয়ে এনেছেন। আমরা অনেক খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে খবর পেয়ে ভৈরবে ছুটে আসি। এসে দেখি এখানে এলাকাবাসীর হাতে তারা অসামাজিক কাজের জন্য আটক রয়েছে। আমি তার শাস্তি কামনা করছি।
ভৈরব থানার এএসআই আসাদ মিয়া জানান, খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে এসে এলাকাবাসীর জিম্মায় থাকা অবস্থায় আব্দুল হক ও মেয়েটিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসি। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

৮০টির পর্যালোচনায় ডেঙ্গুতে মৃত্যু ৪৭ : ডেথ রিভিউ কমিটি | সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার:
সরকারি হিসাবে চলতি বছর (১ জানুয়ারি থেকে ২৫ আগস্ট পর্যন্ত) মোট ৬৩ হাজার ৫১৪ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন। এরমধ্যে ৪৭ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) রোগতত্ত্ববিদ ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ সমন্বয়ে গঠিত ডেথ রিভিউ কমিটি। যদিও বেসরকারি হিসাবে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা আরও অনেক বেশি।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট সেন্টারের সহকারী পরিচালক আয়শা আখতার জানান, আইইডিসিআরের ডেথ রিভিউ কমিটির কাছে এখন পর্যন্ত মোট ১৬৯ জনের ডেঙ্গুতে মৃ্ত্যু পর্যালোচনার জন্য পাঠানো হয়। তারমধ্যে ৮০টি মৃত্যু পর্যালোচনা করে ৪৭ জনের ডেঙ্গুতে মৃত্যু নিশ্চিত হওয়া গেছে। এখনও ৮৯টি মৃত্যু পর্যালোচনার অপেক্ষায় রয়েছে।
পর্যালোচনার জন্য পাঠানো ১৬৯টি মৃত্যুর মধ্যে ঢামেক থেকে ২৩ জনের, মিটফোর্ডে একজনের, ঢাকা শিশু হাসপাতালে ১০, শহীদ সোহরাওয়ার্দী ৫, বিএসএমএমইউ ৩, মুগদা ১৫, কুর্মিটোলা থেকে দুটি পাঠানো হয়। এ ছাড়া বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক থেকে ৭৮টি ও বিভিন্ন বিভাগীয় হাসপাতাল থেকে ৩২ জনের ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে উল্লেখ করে পর্যালোচনার জন্য পাঠোনো হয়।
মৃত্যু নিয়ে লুকোচুরি করা হচ্ছে-এমন অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘চলতি বছর আশঙ্কাজনকভাবে ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে মানুষের মধ্যে আতঙ্কও বিরাজ করছে। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে যেন মৃত্যু না হয় সে জন্য জ্বর হলেই চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণের এবং প্রয়োজনে ডেঙ্গু হয়েছে কিনা তা জানতে পরীক্ষা করার পরামর্শ দেয়া হয়। আতঙ্কগ্রস্ত মানুষ অনেকেই ভয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই ডেঙ্গু পরীক্ষা করিয়েছে। অস্বীকার করার জো নেই ডেঙ্গুতে আক্রা ন্ত হয়ে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষও মারা গেছেন। কিন্তু বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে যেভাবে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার সংবাদ আসছে তার সবগুলোই কিন্তু ডেঙ্গুর কারণে মৃত্যু হয়নি।’
মৃত্যু কী কারণে হয়েছে তা নিশ্চিত হতেই রোগতত্ত্ব ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত ডেথ রিভিউ টিম রোগীর মৃত্যুর পর তার হাসপাতালে ভর্তির আগে ও পরের সব পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্ট ও চিকিৎসার ব্যবস্থাপত্র যাচাই করে দেখছেন।
স্বাস্থ্য মহাপরিচালক বলেন, ‘ভবিষ্যতে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়ন ও গবেষণার জন্য ডেঙ্গুতে আক্রান্ত এবং ডেঙ্গুর কারণে মৃত্যুর সঠিক পরিসংখ্যান জানা খুবই জরুরি।’
তিনি জানান, ডেথ রিভিউ কমিটির পর্যালোচনায় দেখা গেছে, অনেক সময় চিকিৎসকরাও মৃত্যুর কারণ ডেঙ্গু লিখে দিলেও প্রকৃতপক্ষে ডেঙ্গুতে রোগীর মৃত্যু হয়নি।
এমইউ/এনডিএস/জেআইএম
সূত্র জাগো নিউজ

দুদকে ৬ ঘণ্টার জিজ্ঞাসাবাদ শেষে যা বললেন মাহী | সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার: দুদকের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন মাহী বি চৌধুরী এমপি। ছবি: সংগৃহীতঅর্থপাচার ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং ষড়যন্ত্রের অংশ বলে মনে করেন মাহী বি চৌধুরী এমপি। এ বিষয়ে আগামী ২৭ বা ২৮ আগস্ট সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত তুলে ধরবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
রোববার প্রায় ৬ ঘণ্টা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ সব কথা বলেছেন বিকল্প ধারা বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও যুগ্ম-মহাসচিব মাহী বি চৌধুরী।
সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত তাকে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন সংস্থাটির উপ-পরিচালক জালাল উদ্দিন আহমেদ।
মাহী বি চৌধুরী বলেন, আমার নামে দুদকে একটি অভিযোগ এসেছে। সে অভিযোগের প্রাথমিক অনুসন্ধান করছে দুদক। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য আমার বক্তব্য গ্রহণ জরুরি ছিল। সে কারণে আমাকে দুদক ডেকেছে।
তার বিরুদ্ধে আসা অভিযোগ রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে মাহী বলেন, ‘কিছু লোক তো আছেই যাদের আর কোনো রাজনীতি থাকে না, যাদের কোনো রাজনৈতিক অবস্থান থাকে না, দেশের জন্য দেয়ার মতো রাজনীতিও থাকে না, শুধু ষড়যন্ত্রের ওপর নির্ভর করে সে সব রাজনীতিক টিকে থাকার চেষ্টা করেন। এটা তাদেরই ষড়যন্ত্র।’
অভিযোগ সম্পর্কে আরেক প্রশ্নের জবাবে মাহী বলেন, এখানে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের কোনো সুযোগই নেই, মানি লন্ডারিংয়ের কোনো সুযোগই নেই। বাংলাদেশের বাইরে আমার যদি কোনো আয় ও ব্যয় থাকে সেটা বাংলাদেশের বাইরে আমার বৈধ আয় থেকে।
দুদক সূত্র জানিয়েছে, রোববার মাহীর সঙ্গে তার স্ত্রী আশফাহ্ হককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হলেও অসুস্থতার জন্য তিনি হাজির হতে পারেননি।
দুদক সূত্র জানায়, মাহী ও তার স্ত্রী বিভিন্ন সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার করেছেন বলে অভিযোগ এসেছে।
এতে আরও বলা হয়, অজ্ঞাত খাত থেকে আয়ের টাকা তারা কৌশলে বিদেশে নিয়ে গেছেন। বিএনপি সরকারের সময়সহ বিভিন্ন সময়ে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অবৈধ অর্থের মালিক হয়েছেন তিনি। সূত্র যুগান্তর

ক্যাটস আইয়ে টপস-শার্টের নতুন সংগ্রহ | সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার: প্রকাশিত: ১০:৪৩ অপরাহ্ণ, ২৫ আগস্ট ২০১৯

রোদ-বৃষ্টির এই মৌসুমে আড়ম্বরের পাশাপাশি চাই আরাম। তবে এসময়ের ফরমাল এবং স্ট্রিট ফ্যাশনে সৃষ্টি হোক নান্দনিক স্টাইল স্টেটমেন্ট, যা মিলবে ক্যাটস আইয়ের প্রতিটি স্টোরে।
মূলত নিজেকে পরিপাট রাখার জন্যই তারুণ্যের ট্রেন্ড-নির্ভর এসব পোশাক এনেছে ক্যাটস আই। এই গরমে সস্তি মিলবে ক্যাজুয়াল শার্ট, পলো, চিনোস, ডেনিম আর ওমেন টপসের নতুন সংগ্রহগুলোতে।
প্রিন্টের পাশাপাশি সবকিছুতেই প্যাটার্ন এবং ফেব্রিকে বৈচিত্র্যতা থাকছে। শার্টের প্রিন্ট বা রঙ, শার্টের কলার, শোল্ডার ফিট বা কাফ বা ফ্রন্ট লুকেও থাকছে আধুনিকতা। ডেনিম প্যান্টের বিশেষ কালেকশন, গরমে দিবে আরাম। গুণগতমান বাড়িয়েও পণ্যের দাম আরো সাশ্রয়ী করা হয়েছে, যা পুরোটাই ক্রেতা বান্ধব। এছাড়া অনলাইন স্টোর এবং এলিফ্যান্ট রোডের ডিসকাউন্ট শপে থাকছে অর্ধেক দামে পণ্য কেনার সুযোগও।
ক্যাটস আইয়ের নতুন পণ্যের ফটোশ্যুট এবং ভিডিও উপস্থাপনাও মিলবে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে। পণ্য নিয়ে বিস্তারিত জানা যাবে ক্যাটস আই ফেসবুক পেইজ এবং ওয়েবসাইটে। অনলাইন স্টোরের ঠিকানা : catseye.com.bd
এমআর/এনই

জরিমানা আদায়ে ফের চিঠি দিতে হবে গ্রামীণফোনকে | সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার:
‘গো’ ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা দানের জন্য গ্রামীণফোনকে করা জরিমানার ৩০ কোটি টাকা চেয়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) দেয়া তিনটি চিঠি বাতিল ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে বিটিআরসি আইনের ৬৩ ও ৬৫ ধারা অনুযায়ী চার মাসের মধ্যে নতুন করে গ্রামীণফোনকে চিঠি দিতে বলা হয়েছে।
ওই চিঠির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গ্রামীণফোনের রিটের প্রেক্ষিতে জারি করা রুল নিষ্পত্তি করে রোববার (২৫ আগস্ট) বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।
রায়ে এনটিটিএন নামের ইন্টারনেট সার্ভিসের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তা ২০১৬ সাল পর্যন্ত অব্যাহত রাখায় রাষ্ট্রের কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা অডিটর জেনারেল-এর মাধ্যমে নিরূপণ করতে বিটিআরসির প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।
আদালতে রিট আবেদনকারীপক্ষে আইনজীবী ছিলেন ব্যারিস্টার জুনায়েদ আহমেদ চৌধুরী। বিটিআরসির পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার খন্দকার রেজা-ই-রাকিব।
রায়ের পর ব্যারিস্টার খন্দকার রেজা-ই-রাকিব সাংবাদিকদের বলেন, ওই সার্ভিস চালু রাখার মাধ্যমে রাষ্ট্রের কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা অডিটর জেনারেলের মাধ্যমে নিরূপণের জন্য বিটিআরসিকে নির্দেশ দিয়েছেন।
‘গো’ ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবাকে অবৈধ ঘোষণার কারণ হিসেবে বিটিআরসির পক্ষ থেকে বলা হয়, টেলিযোগাযোগ আইন অনুযায়ী- কোনো মোবাইল ফোন অপারেটর সরাসরি তাদের অপটিক্যাল ফাইবারের মাধ্যমে এ ধরনের ‘লাস্ট মাইল কানেকটিভিটি’ সেবা দিতে পারে না। লাস্ট মাইল কানেকটিভিটি হলো অপটিক্যাল ফাইবারের মাধ্যমে ইন্টারনেটের সর্বশেষ পর্যায়ের সংযোগ।
কিন্তু গ্রামীণফোন ‘গো’ ব্রডব্যান্ড সেবার নামে সোনালী ব্যাংককে সরাসরি ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা দিচ্ছে- এমন অভিযোগ তোলে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি)। ২০১৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি বিটিআরসি’র কাছে তারা লিখিত অভিযোগ দেয়।
অবৈধ সেবা দেওয়ার কারণ জানতে ওই বছরের মার্চের শেষ দিকে গ্রামীণফোনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় বিটিআরসি। কিন্তু সন্তোষজনক উত্তর না পাওয়ায় গ্রামীণফোনকে জরিমানার সিদ্ধান্ত হয়।
এরপর ৩০ কোটি টাকা জরিমানা করে তা পরিশোধ করতে ওই বছরের ৬ ও ২৯ নভেম্বর এবং ২০১৭ সালের পহেলা জানুয়ারি পৃথক তিনটি চিঠি দেয় বিটিআরসি। এই চিঠির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০১৭ সালে রিট আবেদন করে গ্রামীনফোন। রিট আবদেনের পরিপ্রেক্ষিতে ওই বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট রুল জারি করেন এবং তিনটি চিঠির কার্যকারিতা স্থগিত করেন। সেই রুলের ওপর রোববার রায় দেওয়া হয়।

বাসচাপায় নিহত ১, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ | সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার:
গাজীপুর মহানগরীর ভোগড়া চৌধুরী বাড়ি সংলগ্ন ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে বাসচাপায় এক ব্যক্তির নিহত হওয়ার ঘটনায় বাসে আগুন এবং যানবাহনে ভাঙচুর করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা। নিহতের পরিচয় জানা যায়নি।
রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে রাত দশটার দিকে গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে বাসের আগুন নেভায়।

বাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম কাওসার আহমেদ চৌধুরী জানান, ঢাকাগামী অনাবিল পরিবহনের একটি বাস অজ্ঞাত পরিচয়ের এক ব্যক্তিকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ জনতা বলাকা পরিবহনের একটি বাসে অগ্নিসংযোগ করে এবং বেশকিছু যানবাহনে ভাঙচুর চালায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনে।
রাত সাড়ে দশটা থেকে ভোগড়া বাইপাস মোড় হতে ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। পুলিশ যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করতে কাজ করছে।
মো. আমিনুল ইসলাম/এমএসএইচ
সূত্র জাগো নিউজ

লৌহজংয়ে বাঘ আতংক! | সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার: শনিবার মধ্য রাত থেকে ঘড়ে বেড়াচ্ছে বাঘদুটি মেছো বাঘ ঘুরে বেড়াচ্ছে লৌহজং উপজেলার খিদিরপাড়া ইউনিয়নের ফুলকুচি ও পাশের রসকাটি গ্রাম। শনিবার মধ্য রাত থেকে বাঘ দুটিকে দেখতে পায় এলাকাবাসী।
শনিবার রাতে বাড়ির পাশে ধনঞ্চে খেতে বাঘ দুটি দেখে উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করেন স্থানীয়রা। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ কাবিরুল ইসলাম খান ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মোরাদ আলী ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তারাও বাঘ দুটিকে এলাকায় বিভিন্ন ঝোঁপ-জঙ্গলে ঘুরাফেরা করতে দেখেন।
রাতে এলাকাবাসীকে সাবধান করতে বিভিন্ন মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেয়া হয়। বলা হয়, এলাকায় বাঘ দেখা গেছে রাতের অন্ধকারে কেউ একা বের হবেন না। দলবদ্ধভাবে রাস্তায় বের হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয় জনগণকে।
রাতে লৌহজং থানাকে নির্দেশ দেয়া হয়, বাঘ আতংকিত এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করার জন্য। সারা রাত এলাকায় পুলিশ পাহারা চলে।
রোববার সকালে ফুলকুচি ও পার্শ্ববর্তী গ্রাম রসকাটি এলাকায় সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, এলাকার যুবক, কিশোর ও বয়স্ক অনেকেই দল বেঁধে হাতে লাঠিসোটা নিয়ে পাহারা দিচ্ছেন।
ফুলকুচি গ্রামের সাইফুল ইসলাম জানান, সকালেও ফুলকুচি গ্রামের কবরস্থানের সামনে একটি ধনঞ্চে খেতে বাঘ দুটিকে অনেকে দেখতে পেয়েছেন।
ফুলকুচি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লুৎফর নাহার জানান,বাঘ আতংকে অনেক বাচ্চা আজকে স্কুলে আসতে দেয়নি অভিভাবকরা। যারা স্কুলে এসেছে তাদের আমরা স্কুলের আঙ্গিনার মধ্যে রাখছি বাইরে যেতে দিচ্ছি না।
স্কুল থেকে বের হয়ে দেখা গেছে, এক অভিভাবক হাতে লাঠি নিয়ে স্কুল থেকে বাড়ি যাচ্ছেন। তিনি বলেন, বাঘের কথা শুনার পর বাচ্চাকে স্কুলে দিয়ে গিয়েছিলাম লাঠি হাতে নিয়ে।
এলাকার ছোট ছোট বাজার ও দোকানপাটে লোকের সমাগম অন্যান্য দিনের চেয়ে কম দেখা গেছে।
এই বিষয়ে এলাকাবাসী মাকসুদ জানান, শনিবার রাত থেকে এই এলাকায় দুটি বড় রকমের মেছো বাঘ দেখা যাওয়ায় এলাকাবাসী আতংকের মধ্যে রয়েছেন।
তবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জানান, বাঘ দুটিকে ধরতে বন বিভাগকে খবর দেয়া হয়েছে, বন কর্মকর্তারা দ্রুত আসবেন বাঘ দুটি ধরতে। তবে মেছো বাঘ দুটি হিংস্র নয়, তার কারণ ২৪ ঘণ্টা পার হলেও তারা কোনো মানুষকে ক্ষতি করেনি। সূত্র যুগান্তর