গত ২৫ দিন ধরে ধৈর্য ধরে সব শুনছি, দেখছি

স্টাফ রিপোর্টার: যুক্তরাষ্ট্রে অর্থ পাচা রের অভি যোগ অস্বী কার করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন বিকল্পধারা বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য মাহী বি চৌধুরী। রবিবার (২৫ আগস্ট) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদক প্রধান কার্যালয়ে তাকে করা জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ দাবি করেন।

মাহী বি চৌধুরীকে এদিন সাড়ে ৫ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করেন দুদক কর্মকর্তারা। সকাল সাড়ে ১০টায় শুরু হয়ে এ জিজ্ঞাসাবাদ শেষ হয় বিকাল ৪টা ১০ মিনিটে।মাহি বলেন, ‘আমি ষড়য ন্ত্রের শি কার। কিছু মানুষ আছেন যাদের রাজনীতিতে কিছুই দেওয়ার নেই, তারাই ষড় যন্ত্র করছেন।’ জাতীয় নির্বাচনের আগেই তার বি রুদ্ধে ষড় যন্ত্রের শুরু বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘বিদেশে অর্থ পাচারের প্রশ্নই আসে না। বিদেশে আমার কোনও অর্থ থেকে থাকলে তা অবশ্যই বৈধভাবে আয় করা। আমি মানি লন্ডা রিং করিনি। অ বৈধ আয়ে কোনও সম্পদও গড়িনি।’ মাহী বলেন, দুদক তার বি রুদ্ধে ওঠা অভিযো গের তদন্ত করেছে। তারা তাকে অভি যুক্ত করেননি।তার বি রুদ্ধে একতরফাভাবে মিডিয়া ট্রায়াল হচ্ছে দাবি করে বিকল্পধারার প্রেসিডিয়াম সদস্য আরও বলেন, ‘এই প্রক্রিয়ায় চরিত্রহ নন চলছে।

গত ২৫ দিন ধরে ধৈর্য ধরে সব শুনছি, দেখছি।’ দুদককে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে হবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য এটা জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি। মাহী বলেন, ‘দুদক আমাকে ডেকেছে। এতে আমি বিব্রত নই। তারা আমাকে বিব্রত করেননি। তারা আন্তরিক ছিলেন।’আগামী ২৭ আগস্ট দুদকের তলব বিষয়ে সংবাদ সম্মলনে বিস্তারিত তুলে ধরা হবে জানিয়ে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদের ব্যাখ্যা দেন। বলেন, ‘খুটিনাটি অনেক বিষয় জানতে চেয়েছেন তারা। আয়-ব্যয়ের হিসাব, ১০ বছরের ট্যাক্সের নথিপত্র নিয়ে কথা হয়েছে। প্রতিটি বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ। সব প্রশ্নেরই জবাব দিয়েছি।’ তিনি নিজের সবকিছুকে বৈধ দাবি করেন

ট্রেনে কাটা পড়ে দুই শিক্ষার্থীর মৃ ত্যু ঘিরে র হস্য

স্টাফ রিপোর্টার:কুমিল্লায় ট্রেনে কাটা পড়ে দুই শিক্ষার্থীর মৃ ত্যু নিয়ে রহ স্য দানা বেঁধেছে। তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল কিনা, তা নিয়ে চলছে নানা কথা। কিন্তু, তাদের পরিবার থেকে দাবি করা হয়েছে, প্রেমের বিষয়ে তারা কিছু জানেন না। শুক্রবার (২৩ আগস্ট) আদর্শ সদর উপজেলার বদরপুর এলাকায় রেলসেতুর দক্ষিণ অংশে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহ তরা হলো- সদর উপজেলার শাসনগাছা এলাকার মনিরুল হকের ছেলে স্বপ্নীল হক আদিত্য (১৩)ও ধর্মপুর এলাকার সুবল রায়ের মেয়ে সেতু রায় (১৪)। ছেলেটি কুমিল্লা পুলিশ লাইন্স স্কুলের সপ্তম শেণির ছাত্র ছিল। মেয়েটি রেলওয়ে পাবলিক স্কুলের নবম শেণির ছাত্রী ছিল। নি হতদের মরদেহ পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে আসা হয়েছে। সেতু রায়ের মা গোলাপী রানী রায় জানান, ‘তার মেয়ে শুক্রবার সকাল পৌনে ১০টায় নগরীর বাগিচাগাঁও এলাকায় পাইভেট পড়তে বাড়ি থেকে বের হয়। দুপুর ১২টার দিকে ট্রেনে কাটা পড়ে সেতু মারা গেছে বলে তিনি খবর পান।

নি হত আদিত্যের সঙ্গে সেতুর কোনও প্রেমের সম্পর্ক ছিল কিনা, তিনি জানেন না।’ স্বপ্নীল হক আদিত্যের বাবা মনিরুল হক বলেন, ‘নগরীর রেইসকোর্স এলাকায় পাইভেট পড়তো আদিত্য। শুক্রবার সকাল ১১টায় পাইভেট পড়তে বাড়ি থেকে সে বের হয়। দুপুর ১২টার দিকে আমরা খবর পাই, আদিত্য ট্রেনে কাটা পড়ে মারা গেছে। সেতু রায়ের সঙ্গে আদিত্যের কোনও প্রেমের সম্পর্ক ছিল কিনা, তা আমার জানা নেই।’

কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও কুমিল্লা সদর সার্কেল তানভীর সালেহীন ইমন বলেন, ‘নিহ ত দুই শিক্ষার্থী আ ত্মহত্যা করেছে, না ট্রেনে কাটা পড়ে মারা গেছে; তা পুলিশ খতিয়ে দেখছে।’ কুমিল্লা রেলওয়ে (জিআরপি) ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক মেজবাউল হক মেজবাহ জানান, ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী মহানগর প্রভাতী এক্সপ্রেস ট্রেনটি দুপুরে বদরপুর এলাকা অতিক্রম করছিল। তখন দুই শিক্ষার্থী ওই ট্রেনে কাটা পড়ে। স্থানীয়দের মাধ্যমে এমন খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নি হতদের মর দেহ উদ্ধা র করে কুমিল্লা রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে আসে। ময়নাতদন্তের জন্য তাদের মরদেহ কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, ঘুরতে গিয়ে সেতু রায় নামে ওই মেয়েটি রেল লাইনের একটি অংশে আটকা পড়ে। আদিত্য তাকে বাঁচাতে যায়। পরে তারা দুই জনই ট্রেনে কাটা পড়ে মা রা যায়। সূত্র বাংলা ট্রিবিউন

‘রোহিঙ্গারা ফেরত না যাওয়ার পেছনে এনজিওদের ভূমিকা রয়েছে’

স্টাফ রিপোর্টার: রোহিঙ্গা শিবির এলাকায় কর্মরত দেশি-বিদেশি কিছু বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) কারণে রোহিঙ্গারা মিয়ানমার ফেরত যেতে আগ্রহী হচ্ছে না বলে সংসদীয় কমিটিকে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে কমিটি রোহিঙ্গা শিবিরে কাজ করা এনজিওগুলোর কার্যক্রম মনিটরিং করার সুপারিশ করেছে।এদিকে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের প্রথম দিন বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) একজনও ফিরে রাজি না হলেও সংসদীয় কমিটি তাদের রাজি করানোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার পরামর্শ দিয়েছে।

এক্ষেত্রে মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য রোহিঙ্গা নেতাদের সমন্বয়ে একটি প্রতিনিধি দলকে আগে পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।বৃহস্পতিবার বিকেলে সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে কমিটি সভাপতি মুহাম্মদ ফারুক খান সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব তথ্য জানান। বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি বলেন, কিছু কিছু এনজিও রোহিঙ্গাদের বোঝাচ্ছে তারা যেন নিজ দেশে না যায়, নাগরিকত্বসহ কিছু শর্ত পূরণ না হলে যেন তারা না ফিরে যায়।

এ কারণে আমরা এসব এনজিওর কাজ মনিটরিং করে তাদের চিহ্নিত করতে বলেছি।ফারুক খান বলেন, প্রথম দিনে ২০০ থেকে ৩০০ জন ফিরে যাওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। কিন্তু মিয়ানমারের পক্ষ থেকে ফেরত নিতে রাজি হওয়ার তালিকায় ৩ হাজার ৪৫০ জনের নাম রয়েছে। বাকিদের ফেরানোর চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।তিনি বলেন, রোহিঙ্গারা যাতে দেশে ফেরার বিষয়ে আস্থা ফিরে পায় সেজন্য তাদের নেতাদের সমন্বয়ে একটি প্রতিনিধি দল আগে পাঠানো যেতে পারে বলে সংসদীয় কমিটি মনে করে। কারণ, মিয়ানমারেও জাতিসংঘের অফিস আছে। এখানকার মতো ওপাশেও চীনের প্রতিনিধি দলের সদস্য রয়েছেন। তারাও সেখানে কাজ করুক। ফারুক খান বলেন, ‘মানবিক কারণে তাদের বাংলাদেশ আশ্রয় দিয়েছে। এর মানে এই নয় তারা আমাদের জিম্মি হিসেবে ব্যবহার করবে। তারা যাতে দেশে ফিরতে ভরসা পায় সেজন্য তাদের নেতাদের প্রতিনিধি দলকে মিয়ানমার ঘুরিয়ে আনার সুপারিশ করা হয়েছে।’এদিকে সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে রোহিঙ্গাদের জন্য একটি ‘সেফ জোন’ সৃষ্টির প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে আলোচনার জন্য স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম সফরের জন্য মন্ত্রণালয়কে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।

বৈঠকে মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত বিদেশে অবস্থানরত চিহ্নিত বাংলাদেশি দালাল চক্র দেশে ফেরার সঙ্গে সঙ্গে আইনের আওতায় আনার সুপারিশ করা হয়।বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশের দূতাবাসে ভিসা পেতে বাংলাদেশি নাগরিক, বিশেষ করে সিনিয়র নাগরিকদের হয়রানি রোধে মন্ত্রণালয়কে কার্যকরী ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।বৈঠকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জন্য এ অর্থবছরে বাজেট বৃদ্ধি পাওয়ায় কমিটির পক্ষ থেকে সন্তোষ প্রকাশ করা হয়। বরাদ্দ টাকা যাতে সফল ও যথাযথভাবে ব্যয় করা হয়, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয়কে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।বৈঠকের শুরুতে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ তার পরিবারের নিহত সদস্য এবং ২১ আগস্টের গ্রে নেড হাম লায় নি হতদের স্মরণে শোক প্রকাশ করা হয় এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়।ফারুক খানের সভাপতিত্ব বৈঠকে অংশ নেন কমিটির সদস্য ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, নুরুল ইসলাম নাহিদ, গোলাম ফারুক খন্দকার প্রিন্স, আব্দুল মজিদ খান, কাজী নাবিল আহমেদ এবং নিজাম উদ্দিন জলিল (জন)।

মসজিদ থেকে ইমামের গ লাকাটা লা শ উ দ্ধার

স্টাফ রিপোর্টার: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে একটি মসজিদ থেকে দিদারুল ইসলামের ইমামের গলা কাটা লা শ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) সকালে ওই মসজিদের ইমামের রুম থেকে লা শটি উদ্ধা র করা হয়।

সোনারগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নি হত দিদারুল খুলনা রাজাপুর এলাকার আফতাব ফরাজির ছেলে। গত ২৬ জুলাই থেকে তিনি মল্লিকপাড়ার নারায়ণদিয়া এলাকায় বায়তুল জালাল জামে মসজিদে ইমাম হিসেবে নিয়োগ পান। স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার ভোরে ফজর নামাজ পড়াতে না আসায় মুসল্লিরা সকালে তার রুমের দরজা খুলে ম রদেহ দেখতে পান। পরে পুলিশকে জানালে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ লা শ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদরের জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

এ ঘটনায় পুলিশ এখন পর্যন্ত কাউকে আ টক করতে পারেনি। ওসি মনিরজ্জামান বলেন, ‘ধারণা করা হচ্ছে, রাতের কোনও এক সময় দুর্বৃ ত্তরা ধারালো অ স্ত্র দিয়ে ইমামকে গলা কে টে হত্যা করে পালিয়ে গেছে। কারা কী কারণে তাকে হ ত্যা করেছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’ এ হ ত্যাকা ণ্ডে জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রে ফতারের জন্য অভিযান চলছে বলেও জানান ওসি।

বাড়ির কাজ বন্ধ, ৯০ লাখ টাকায় মীমাংসার প্রস্তাব পুলিশ কর্মকর্তার! | সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার: ৯০ লাখ টাকার বিনিময়ে দুই পক্ষের বিবাদ মীমাংসা করে দেওয়ার প্রস্তাব দেন এক পুলিশ কর্মকর্তা। সে অনুযায়ী টাকা না পেয়ে তিনি রাজধানীর ভাষানটেক এলাকায় ৩১ জনের যৌথ মালিকানার একটি প্লটে ভবন নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি মালিকদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলাও দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় একটি চক্রের যোগসাজশে এ কাজ করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সিনিয়র সহকারী কমিশনার এস এম শামীম। এ বিষয়ে ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে পুলিশ সদর দফতর ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলে নড়েচড়ে বসেন এই পুলিশ কর্মকর্তা। অভিযোগকারীসহ অন্যদের ডেকে নিয়ে অভিযোগ তুলে নিতে চাপও দিয়েছেন তিনি। কিন্তু ডিএমপি কমিশনার বিষয়টি আমলে নিয়ে তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন। ইতোমধ্যে পুলিশের মিরপুর বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার শাহেন শাহ তদন্ত শুরু করেছেন।যোগাযোগ করা হলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পল্লবী জোনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার এস এম শামীম বলেন, ‘আমার কাছে জহিরুল নামে একজন আবেদন করেছিলেন। আমি বলেছিলাম যে জমিসংক্রান্ত বিষয় সমাধানের কাজ আমার নয়। তবু আইনশৃঙ্খলার অবনতি হতে পারে বলে আমি দুই পক্ষকে ডেকেছিলাম।’

তিনি বাড়ির নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেননি বা তাদের কাছে কোনও টাকাও চাননি বলে দাবি করেন।পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, “যিনি আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন তিনি আমাকে বিষয়টি সমাধান করে দেওয়ার জন্য বলেছেন। আমি তাকে বলেছি যে যদি জমির মালিককে ‘কম্পেনসেশন’ দিয়ে আপনারাই এটা সমাধান করেন।” পরে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দেওয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন।পুলিশ সদর দফতর (স্মারক নং ১০৫৬) ও ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্সে দেওয়া অভিযোগ থেকে জানা গেছে, ভাষানটেক থানার টোনারটেক মসজিদের পার্শ্বে ৫৮৫সি নম্বর প্লটে একটি ভবনের নির্মাণকাজ চলছিল। ২০১৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যৌথভাবে ওই জমি কেনেন ৩১ জন। গত বছরের ১৬ জুলাই তারা নির্মাণকাজ শুরু করেন। এ বছরের ১৮ এপ্রিল হঠাৎ পল্লবী জোনের সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার এস এম শামীম বাড়ির মালিকদের কাছে একটি চিঠি [স্মারক নং ২১৯(২)এসি (পল্লবী জোন)] পাঠান। ওই চিঠিতে তিনি বলেন, জহরিুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি জমির মালিক পরিচয় দিয়ে অভিযোগ করেছেন। এ জন্য বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য বাদী ও বিবাদীদের কাগজপত্র নিয়ে ২২ এপ্রিল হাজির হতে বলেন এস এম শামীম। তবে এ চিঠি ইস্যুর এক দিন পরই নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।জমির ৩১ মালিকদের একজন নটরডেম কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক শহীদুল হাসান পাঠান।

তিনি পুলিশ সদর দফতরে করা আবেদনে বলেন, বাড়ির কাজ বন্ধ না করলে ওই পুলিশ কর্মকর্তা তাদের ‘ক্রসফায়ার’-এ দেওয়ার হুমকিও দেন। এসময় তারা রাজউকের অনুমোদিত নকশা নিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত ভূমি কমিশনারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ভূমি কমিশনার জমিতে কোনও সমস্যা নেই বলে জানান। পরে আবারও তারা কাজ শুরু করতে গেলে পুলিশ কর্মকর্তা শামীম ক্ষিপ্ত হন। গত ১৪ জুন তাদের ৭ জনের বিরুদ্ধে একটি জিডি (নং ৪৯৮) করা হয়।ওই অভিযোগে বলা হয়, গত ২৭ জুলাই পল্লবীর ৯৫ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি হাফিজুর রহমান সরদার, এসএম সাদিকুরসহ ৩০-৩৫ জন তাদের সাইনবোর্ড ফেলে দিয়ে নতুন সাইনবোর্ড লাগিয়ে দেন। বাড়ির কাজ করলে মেরে ফেলা হবে বলে হুমকি দেন তারা। মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলহাজতে পাঠানোরও হমকি দেওয়া হয়। ওই দিনই মালিকদের কয়েকজন বিষয়টি এসি শামীমকে জানালে তিনি হাফিজুর রহমানের সঙ্গে টাকা-পয়সা দিয়ে মীমাংসা করতে বলেন। তা না হলে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হবে বলে হুমকি দেন। এ থেকে পরিত্রাণের উপায় জানতে চাইলে পুলিশ কর্মকর্তা শামীম বলেন, আপনারা ৩১ মালিকের প্রত্যেকে ৩ লাখ টাকা করে মোট ৯০ লাখ টাকা হাফিজকে দিয়ে দিন। এতে রাজি না হওয়ায় পরদিনই মোস্তাফিজুর রহমান নামে স্থানীয় এক ব্যক্তিকে দিয়ে মালিকদের মধ্যে ৫ জনের নামের একটি মামলা দায়ের করানো হয়। অভিযোগে বলা হয়, পুলিশ কর্মকর্তা শামীম এবং স্থানীয় কাউন্সিলর ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি হাফিজের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। এসি শামীম নিজেই হাফিজের মাধ্যমে জহিরকে দিয়ে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে কাজ বন্ধ করে রেখেছেন।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তদন্ত শুরু হওয়ার পর পুলিশ কর্মকর্তা এস এম শামীম বিষয়টি সমাধানের জন্য বাদী শহীদুল হাসান পাঠানসহ অন্য মালিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

বিষয়টি নিয়ে যাতে গণমাধ্যমে প্রকাশ করা না হয় সেজন্যও তদবির শুরু করেন তিনি। যোগাযোগ করা হলে অভিযোগকারী শহীদুল হাসান পাঠান পুলিশ মহাপরিদর্শক ও ডিএমপি কমিশনার বরাবর অভিযোগ করার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি সমাধানের প্রক্রিয়া চলছে।
পুলিশ সদর দফতর ও ডিএমপির একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পুলিশের উচ্চ পর্যায় থেকে জমিসংক্রান্ত যেকোনও ঘটনায় পুলিশের হস্তক্ষেপ না করার বিষয়ে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের কঠোরভাবে নিষেধ রয়েছে। দেওয়ানি মামলা সম্পর্কিত সব ঘটনা আদালতের মাধ্যমে সমাধানের নির্দেশনা রয়েছে।এদিকে ডিএমপি কমিশনার অভিযোগটি আমলে নিয়ে মিরপুর বিভাগের উপ-কমিশনারকে বিষয়টি তদন্ত করে দেখার নির্দেশ দেন। মিরপুর বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার শাহেন শাহকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তদন্তের অংশ হিসেবে অভিযোগকারী শহীদুল হাসান পাঠানকে গত ১৯ আগস্ট একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) তার বক্তব্য রেকর্ড করা হবে বলে জানা গেছে। জানতে চাইলে অতিরিক্ত উপ-কমিশনার শাহেন শাহ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্সের নির্দেশে বিষয়টি আমি তদন্ত করছি। উভয় পক্ষকে ডাকা হয়েছে। এছাড়া এসি তো আমার এখানেই রয়েছে।’ তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

বঙ্গবন্ধু হ ত্যায় জিয়া ওতপ্রোতভাবে জড়িত : ড. হাছান

স্টাফ রিপোর্টার:তথ্যমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধু হ ত্যায় ওতপ্রোতভাবে জড়িত। জিয়াসহ এ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কুশীলবদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত জাতির পিতার খু নীদের বিচার সম্পূর্ণ হবে না।

রবিবার (১৮ আগস্ট) বিকালে রাজধানীর কাকরাইলে তথ্য ভবনে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক সভায় তিনি এসব কথা বলেন।তথ্য মন্ত্রণালয়ের চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদফতর, গণযোগাযোগ অধিদফতর ও চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ড যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করে।হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বিচার এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। কারণ, পলাতক খু নি ও বঙ্গবন্ধু হত্যার নেপথ্যের কুশীলবদের বিচার এখনও হয়নি।

এ জন্য একটি কমিশন গঠন করে বিচার সম্পন্ন হলে তা ন্যায় প্রতিষ্ঠার উদাহরণ হয়ে থাকবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তথ্যমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু হ ত্যার নেপথ্য কুশীলবদের বিচারের জন্য একটি কমিশন গঠন এখন সময়ের দাবি।এ সময় জিয়াউর রহমানের স্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাবাস নিয়ে বিএনপি মহাসচিবের করা ‘বেগম জিয়া পাকিস্তানি সেনাদের কাছে যে সম্মান পেয়েছিলেন, এখন তাও পাচ্ছেন না’ মন্তব্যের সমালোচনা করেন হাছান মাহমুদ।

বলেন, ‘এমন মন্তব্যে স্বভাবতই প্রশ্ন জাগে, যেখানে মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিবাহিনীর কাউকে পানি খাওয়ানোর অপরাধেই পাকিস্তানি সেনারা মানুষ হত্যা করেছে, দুই লাখ সত্তর হাজার মা-বোনের ইজ্জত লুণ্ঠন করেছে, সেই পাকিস্তানি সেনাদের খালেদা জিয়াকে এত খাতিরের কারণ কী, সেটা নিয়ে তদন্ত হওয়া উচিত।

জিয়াউর রহমানের ঘোষণা শুনে ঢাকার অনেকে যুদ্ধে গিয়েছিলেন’—বিএনপি নেতাদের দেওয়া এমন বক্তব্যকে মিথ্যা দাবি করে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক বলেন, ‘চট্টগ্রাম বেতারের তখনকার সম্প্রচার আওতা ছিল ১০ কিলোওয়াট, যা কার্যত ছিল ৬ কিলোওয়াট। বর্তমানে তা ১০০ কিলোওয়াট হলেও চট্টগ্রামের বাইরে বেশি দূর তা শোনা যায় না।’তিনি বলেন,‘বঙ্গবন্ধুর দেওয়া স্বাধীনতার ঘোষণা প্রথম চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্র থেকে পাঠ করেন চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ হান্নান। তারপর তারা একজন সেনা অফিসার দিয়ে ঘোষণা পাঠ করাতে চান।

প্রথমবার জিয়াউর রহমান ভুল পড়েন, পরে তা শুধরে আবার পাঠ করেন। তিনি সেটা চার দেয়ালের মধ্যে পাহারায় থেকে পাঠ করেছিলেন আর চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগ অফিসের কর্মচারী নূরুল হক জীবন বাজি রেখে ২৬ মার্চ পুরো চট্টগ্রাম শহরে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা রিকশায় মাইকিং করেছেন।’অনুষ্ঠানে তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. মুরাদ হাসানও বঙ্গবন্ধু হ ত্যার নেপথ্য ভূমিকার জন্য জিয়াউর রহমানের মরণোত্তর বিচার দাবি করেন।চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদফতরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ ইসতাক হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় তথ্যসচিব আবদুল মালেক, গণযোগাযোগ অধিদফতরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ জাকির হোসেন ও চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান মো. নিজামুল কবীর তাদের বক্তব্যে বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্মের ওপর আলোকপাত করেন।সভাশেষে সবাই তথ্য ভবন প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধুর জীবনভিত্তিক দুর্লভ আলোকচিত্র প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন।

বিক্রি করতে না পেরে চামড়া মাটিতে পুঁতে ফেলা হয় : তদন্ত কমিটি

স্টাফ রিপোর্টার: বিক্রি করতে না পেরেই সৈয়দপুর হাফিজিয়া হোসাইনিয়া দারুল হাদিস মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ কোরবানির পশুর চামড়া মাটিতে পুঁতে ফেলে বলে জানিয়েছে তদন্ত কমিটি। সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার সৈয়দপুর সাহারপাড়া ইউনিয়নের এই মাদ্রাসাটি মঙ্গলবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে চামড়াগুলো মাটিতে পুঁতে ফেলে। এই ঘটনার পর উপজেলা প্রশাসনের গঠন করা তদন্ত কমিটির সদস্যরা বুধবার (১৪ আগস্ট) দুপুর ১২টায় মাদ্রাসা ক্যাম্পাস পরিদর্শন করেন।

তদন্ত কমিটির সদস্য জগন্নাথপুর উপজেলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন অফিসার নব কুমার সিংহ বলেন, ‘বুধবার (১৪ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে আমরা মাদ্রাসা ক্যাম্পাস সরেজমিনে পরিদর্শন করি। বিকাল ৫টা পর্যন্ত ওই এলাকায় পরিদর্শন করেছি। আমরা দেখেছি, চামড়া পুঁতে রাখা জায়গা থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। মাটির নিচে গ্যাসের কারণে চামড়াগুলো ফুলে ওঠে মাটি ভেদ করেছিল। পরে ব্লিচিং পাউডার বালি ও মাটির আস্তর দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। তদন্ত কমিটি মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটি, শিক্ষক ও স্থানীয় এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলেন। তারা জানান, সংগৃহীত চামড়া বিক্রি করতে না পারায় পরিবেশ রক্ষা করতে মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়েছে। তদন্ত কমিটি লিখিত প্রতিবেদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দিয়েছে।’

এ প্রসঙ্গে জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহফুজুল আলম বলেন, ‘বিকালে আমি মাদ্রাসা ক্যাম্পাস পরিদর্শন করে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও এলাকাবাসীসহ অনেকের সঙ্গে কথা বলেছি। মূলত ক্রেতা না পাওয়ায় ও চামড়া থেকে দুর্গন্ধ বের হওয়ার কারণে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ সংগৃহীত চামড়াগুলো মাটিতে পুঁতে ফেলেন। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ সিলেটে চামড়া ব্যবসায়ীদের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছিল, কিন্তু তারাও কিনতে রাজি না হওয়ায় মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ নিরুপায় হয়ে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চামড়ার গন্ধে যেন এলাকার পরিবেশ দূষিত না হয়, সেজন্য প্রশাসন ১০ কেজি ব্লিচিং পাউডার, মাটি ও বালির আস্তর এবং পলিথিন দিয়ে চামড়া পুঁতে ফেলার জায়গা ঢেকে দিয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন রাতেই (১৪ আগস্ট) জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হয়েছে।’

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে সৈয়দপুর সাহারপাড়া ইউনিয়নের সৈয়দপুর গ্রামের সৈয়দপুর হাফিজিয়া হোসাইনিয়া দারুল হাদিস মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ৮০০ পিস গরুর চামড়া ও ৯৫ পিস ছাগল,বকরি ও ভেড়ার চামড়া মাটির নিচে পুতে ফেলেন।

মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল হাফেজ মাওলানা সৈয়দ ফখরুল ইসলাম জানান, চামড়াগুলো বিক্রির জন্য অনেক চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু, কোনও ক্রেতা পাওয়া যায়নি। তাই মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়েছে।
ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ তৈয়ব মিয়া কামালীকে প্রধান করে উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর লতিফুল বারী ও উপজেলা ফায়ার স্টেশনের স্টেশন অফিসার নব কুমার সিংহকে সদস্য করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

স্ত্রীকে হ’ত্যার পর লাশ ১৫ টুকরো করে নদীতে নিক্ষেপ স্বামী : এসপি

স্টাফ রিপোর্টার: গাজীপুরের শ্রীপুরে মামুন নামে এক ব্যক্তি তার স্ত্রী সুমি আক্তারকে (২২) শ্বা সরোধে হ ত্যার পর লাশ টুকরো টুকরো করে পলিথিনে ভরে নদীতে ফেলে দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার (এসপি) শাসুন্নাহার। তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় গতকাল মঙ্গলবার (১৩ আগস্ট) দিনগত রাত ২টার দিকে আশুলিয়া থানার কবিরপুর এলাকা থেকে মামুনকে গ্রেফতার করা হয়।

নিহত সুমি আক্তার নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার দেবকান্দা গ্রামের নিজাম উদ্দিনের মেয়ে। আর মামুন গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার বড়বাড়ি গ্রামের ফজলুল হকের ছেলে। গত দেড় বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। এটি উভয়েরই দ্বিতীয় বিয়ে।সুমি স্থানীয় গিলারচালা এলাকার সাবলাইন গ্রিনটেক গার্মেন্টস লিমিটেডের শ্রমিক, আর মামুন পেশায় ইলেক্ট্রিশিয়ান। তারা গিলারচালা গ্রামের সফিকুল ইসলাম বিপুলের বাড়ির ভাড়াটিয়া। দেড়মাস আগে তারা ওই বাড়ি ভাড়া নেন।বুধবার (১৪ আগস্ট) বেলা ৩টার দিকে নিজ কার্যালয়ের সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথ্য জানান এসপি শাসুন্নাহার।

শাসুন্নাহার বলেন, ‘গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মামুন জানিয়েছে, দা ম্পত্য কলহের জেরেই স্ত্রী সুমিকে খু ন করেছে। পারিবারিক কলহ ও স্ত্রীর জমানো ৪০ হাজার টাকা ভোগ করার জন্য সে সুমিকে হ ত্যা করে।’
মামুনের বরাত দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘গত ৮ আগস্ট সুমিকে হত্যার পরিকল্পনা করে মামুন। পরিকল্পনা অনুযায়ী পাঁচ কেজি ধারণক্ষমতার ২৫০ গ্রাম পলিথিন ব্যাগ, একটি চা কু, তিনটি ট্রাভেল ব্যাগ ও ঘুমের ওষুধ কিনে এনে বাসায় রাখে সে। ওই দিন রাত ১টার দিকে শ্বা সরোধ করে সুমিকে হ ত্যা করে মামুন। পরে তার লাশ গোসলখানায় নিয়ে যায় ও তা ১৫ টুকরো করে। এর পরদিন ৯ আগস্ট ভোর ৬টায় ওই টুকরোগুলো ট্রাভেল ব্যাগে ভরে কাপাসিয়া উপজেলার সিংহশ্রী সেতুর ওপর থেকে শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেলে দেয় মামুন।’ পরে সুমির খোঁজে তার স্বজনেরা বাসায় আসলে পুরো ঘটনা প্রকাশ্যে আসে বলেও জানান এসপি।

শ্রীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাজীব কুমার সাহা বলেন, ‘নি হত সুমির স্বজনদের মাধ্যমে খবর পেয়ে নদী থেকে পলিথিনে মোড়ানো লাশের টুকরো উদ্ধার করা হয়। মামুন ও আরও অজ্ঞাত কয়েকজনকে অভিযুক্ত করে মঙ্গলবার (১৩ আগস্ট) শ্রীপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন নিহতের বাবা।’

ধড় থেকে ২৫০ মিটার দূরে মিললো মাথা..!

স্টাফ রিপোর্টার:
দিনাজপুরের খানসামায় গোলাপ হোসেন (২৭) নামে এক যুবকের বি চ্ছিন্ন দেহ ও মাথা উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৩ আগস্ট) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার আলোকঝাড়ী ইউনিয়নের শুশুলী গ্রামে পৃথক স্থান থেকে এই ধড় ও মাথা উদ্ধার করা হয়। খানসামার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম মোস্তাফিজুর রহমান এ খবর নিশ্চিত করেছেন।

নিহত গোলাপ হোসেন আলোকঝাড়ী ইউনিয়নের শুশুলী গ্রামের মৃত আতিক ইসলামের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গতকাল সোমবার (১২ আগস্ট) ঈদের দিন খাবার খেয়ে গোলাপ হোসেন নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন। অনেক বেলা হলেও তাকে ওঠতে না দেখে পরিবারের লোকজন তার কক্ষে ঢুকে রক্ত দেখতে পান।

পরে খোঁজাখুঁজি শুরু করলে বাড়ির প্রায় ৫শ’ গজ দূরে একটি পরিত্যক্ত জায়গায় মাটি খোঁড়া দেখতে পান স্থানীয়রা। সেই মাটি খুঁড়ে বিচ্ছিন্ন হাত পাওয়া গেলে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মাটির নিচে পুঁতে রাখা ধড় উদ্ধার করে। পরে এখান থেকে আরও প্রায় ২৫০ মিটার দূরে একইভাবে মাটির নিচে পুঁতে রাখা মাথা উদ্ধার করা হয়।

খানসামার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘সংবাদ পেয়ে বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে নিহতের শয়নকক্ষসহ বিভিন্ন স্থান থেকে বেশকিছু আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে বোঝা যাচ্ছে, তাকে নিজ শয়নকক্ষেই জবাই করে হ ত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের সৎমা ও সৎভাইসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে। লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য এম আব্দুর রহিম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।’

ওসি বলেন, ‘ধারণা করা হচ্ছে, পূর্ব-শত্রুতার জের ধরে এই হ ত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এ ব্যাপারে একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ঘটনাটি তদন্ত করে হ ত্যাকাণ্ডের আসল রহস্য উদ্ঘাটন করা হবে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।’
  সূত্র বাংলা ট্রিবিউন

শুকরের মাংস দিয় খাদ্য তৈরি, ৭৫ লাখ টাকা জরিমানা

স্টাফ রিপোর্টার: ঢাকার সাভারের ধামরাইয়ে শুকরের চর্বি, মাংস ও হাড় দিয়ে মাছ ও মুরগির খাদ্য তৈরি এবং মেয়াদোত্তীর্ণ সয়াবিন তেল পুনরায় খোলাবাজারে বিক্রির দায়ে একটি কারখানাকে ৭৫ লাখ টাকা জরিমানা করে সিলগালা করে দিয়েছেন র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত।

শনিবার (৩ আগস্ট) রাতে বাথুলি এলাকার কেবিসি অ্যাগ্রো (প্রা.) লিমিটেড হেলথ কেয়ার নামে কারখানায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
র‌্যাব-৪-এর একটি দল এ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে।

র‌্যাব-৪ সূত্র জানায়, নয় মাস আগে হংকং থেকে নিষিদ্ধ শুকরের চর্বি, হাড় ও মাংস আমদানি করে কেবিসি অ্যাগ্রো কারখানা কর্তৃপক্ষ। সেগুলো দিয়ে মাছ ও মুরগির খাবার তৈরি করে বাজারজাত করে আসছিল তারা।

র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন‘অভিযান চালিয়ে প্রতিষ্ঠানটির মহাব্যবস্থাপক তাপস দেবনাথ ও পরিচালক জাহিদুর রহমানের কাছ থেকে আমদানি নিষিদ্ধ ২ লাখ ৯৮ হাজার ২শ’ ৪০ মেট্রিক টন শুকরের চর্বি, মাংস ও হাড় জব্দ করা হয়েছে।