কাশ্মিরের পরিস্থিতি এখনও স্বাভাবিক নয়: রাহুল গান্ধী

স্টাফ রিপোর্টার:
ভারত অধিকৃত জম্মু-কাশ্মিরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক নয় বলে মন্তব্য করেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। শনিবার শ্রীনগর বিমানবন্দর থেকে ফিরিয়ে দেওয়ার পর তিনি এমন মন্তব্য করেন।

রাহুল গান্ধী বলেন, ‘আমরা জানতে চেয়েছিলাম, সেখানকার মানুষ কেমন আছেন। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে জনগণকে সাহায্য করতে চেয়েছিলাম। দুর্ভাগ্যবশত আমাদের বিমানবন্দর থেকে বেরুতে দেওয়া হয়নি। আমাদের সঙ্গে থাকা সাংবাদিকদের হেনস্তা করা হয়েছে, মারধর করা হয়েছে। এটা পরিষ্কার যে, জম্মু ও কাশ্মিরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল না।’

এই রাজনীতিক জানান, জম্মু-কাশ্মিরের থেকে বিশেষ রাজ্যের মর্যাদা প্রত্যাহার এবং রাজ্যটিকে ভেঙে দুই টুকরো করে দেওয়ার পর সেখানকার ‘পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে’ এমনটা দেখাতে রাজ্যপাল সত্যপাল মালিক তাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন।

এই কংগ্রেস নেতা বলেন, রাজ্যপাল বিমান পাঠানোর প্রস্তাব দিলে আমি তাকে বলি, বিমান আমার প্রয়োজন নেই। তবে আপনার প্রস্তাব গ্রহণ করছি। আমি জম্মু-কাশ্মিরে যাবো।

এদিকে জম্মু-কাশ্মিরের তথ্য ও জনসংযোগ দফতরের এক টুইটে বলা হয়েছে, সীমান্ত স ন্ত্রাস এবং হামলা থেকে জম্মু-কাশ্মিরের মানুষকে রক্ষা করার চেষ্টা করছে সরকার। এমন একটি সময়ে রাজনৈতিক নেতাদের শ্রীনগরে যাওয়া উচিত হবে না। কারণ তাতে সাধারণ মানুষের অসুবিধা হতে পারে। তবে জেলা প্রশাসনকে চিঠি দিয়ে রাহুল গান্ধি এবং তার সঙ্গে থাকা ১১ নেতা জানিয়েছেন, তাদের সফর নিয়ে আশঙ্কা ভিত্তিহীন।

চিঠিতে বলা হয়েছে, আমরা দায়িত্ববান রাজনৈতিক নেতা এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। আমাদের উদ্দেশ্য শান্তিপূর্ণ ও মানবিক।
শ্রীনগর বিমানবন্দরে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে ছিলেন কংগ্রেস, সিপিআইএম, সিপিআই, রাষ্ট্রীয় জনতা দল, ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি, তৃণমূল কংগ্রেস এবং ডিএমকে নেতারা। প্রতিনিধি দলে ছিলেন সিপিআইএম নেতা সীতারাম ইয়েচুরি,

সিপিআইয়ের ডি রাজা, ডিএমকে নেতা ত্রিরুচি শিবা, আরজেডি নেতা মনোজ ঝা এবং তৃণমূল কংগ্রেস নেতা দিনেশ ত্রিবেদী। সূত্র: এনডিটিভি। সূত্র বাংলা ট্রিবিউন

অ্যামাজনের আগুনে ব্রাজিল সরকারের নিষ্ক্রিয়তার বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে বিক্ষোভ

স্টাফ রিপোর্টার: ব্রাজিল সরকারের নিষ্ক্রিয়তায় অ্যামাজন জঙ্গলে আগুন জ্বলছে- এমন অভিযোগে বিশ্বজুড়ে বিক্ষোভ করেছেন পরিবেশবাদীরা। শুক্রবার প্যারিস, লন্ডন, মাদ্রিদ, বোগোতো ছাড়াও বিভিন্ন শহরের ব্রাজিল দূতাবাসের বাইরে বিক্ষোভ হয়েছে। এসব বিক্ষোভ থেকে আগুন নেভাতে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোকে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দুনিয়াজুড়ে সমালোচনার মুখে শুক্রবার আগুন নিয়ন্ত্রণে অ্যামাজনে সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বলসোনারো।

রেকর্ড গতিতে প্রতিদিন পুড়ছে ‘পৃথিবীর ফুসফুস’ খ্যাত অ্যামাজন জঙ্গল। ব্রাজিলের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট ফর স্পেস রিসার্স (আইএনপিই) বলছে,এ বছর জুন পর্যন্ত ব্রাজিলে ৭২ হাজার ৮৪৩টি অগ্নিকাণ্ড হয়েছে। এর মধ্যে অর্ধেকের বেশি আগুনের ঘটনা অ্যামাজন জঙ্গলে,যা আগের বছরের তুলনায় ৮০ শতাংশ বেশি। পরিবেশবাদীরা বলছেন,অ্যামাজনকে বাণিজ্যের জন্য উন্মুক্ত করার সরকারি নীতির কারণেই আগুন লাগানোর মহোৎসব শুরু হয়েছে।

অ্যামাজনে আগুন লাগার খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনলাইনে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিশ্ব নেতৃবৃন্দ থেকে শুরু করে সেলিব্রেটিরাও আগুন নিয়ে ব্রাজিল সরকারের সমালোচনা শুরু করেন।

শুক্রবার ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে ব্রাজিল দূতাবাসের বাইরে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন শত শত পরিবেশবাদী। ইয়োথ ফর ক্লাইমেট নামে একটি গ্রুপ এই বিক্ষোভের আয়োজন করে। ‘অ্যামাজনের জন্য প্রার্থনা’, ‘অ্যামাজন থাকুক, বলসোনারো সরে যাও’, ‘বন ছাড়া আমরা ধ্বংস হবো’সহ নানা ধরণের স্লোগান লেখা প্ল্যাকার্ড নিয়ে বিক্ষোভ করে তারা। অনেক বিক্ষোভকারী রক্তের আদলে রং মেখে বিক্ষোভে অংশ নেয়। আগুন নিয়ন্ত্রণে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্টকে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয় ওই বিক্ষোভ থেকে।

শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের বার্ন শহরেও একই ধরণের বিক্ষোভ হয়। ব্রাজিলের আগুনের ছবি নিয়ে রাস্তায় নেমে আসে বিক্ষোভকারীরা। অনেকেই ‘বয়কট ব্রাজিল’ লেখা প্রতীক হাতে নিয়ে বিক্ষোভে যোগ দেয়।
লন্ডনে ব্রাজিল দূতাবাসের বাইরে জড়ো হয় পরিবেশবাদী গ্রুপ এক্সটিঙ্কশন রেবেলিয়ন-এর কর্মীরা। বলসোনারোকে অ্যামাজন জঙ্গল রক্ষার আহ্বান জানানো হয় ওই বিক্ষোভ থেকে। সাইপ্রাসের রাজধানী নিকোসিয়ায় ব্রাজিল দূতাবাসের বাইরে বিক্ষোভকারীরা গ্যাস মাস্ক পরে অবস্থান নেয়। ব্যানার নিয়ে অবস্থান নিয়ে রাস্তা আটকে দেয় তারা।

অ্যামাজন বনাঞ্চলের প্রায় ৬০ শতাংশের অবস্থান ব্রাজিলে। দেশটির প্রায় ৬৭ হেক্টর জুড়ে রয়েছে এই বনাঞ্চল। আর্জেন্টিনা, বলিভিয়া আর প্যারাগুয়েতেও ছড়িয়ে আছে এই বনাঞ্চল। আগুন মূলত ছড়িয়ে পড়েছে ব্রাজিলের অংশে। সম্প্রতি দেশটির উগ্র ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারো বলেছেন,‘আমাজনের আগুন ব্রাজিলের অভ্যন্তরীণ বিষয়। ফলে এটি নিয়ে কারও নাক গলানো সহ্য করা হবে না।’ তবে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দুনিয়াজুড়ে সমালোচনার মুখে শুক্রবার আগুন নিয়ন্ত্রণে অ্যামাজনে সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বলসোনারো। আল জাজিরা জানিয়েছে,বিশ্বব্যাপী নিন্দার মুখে ইতোমধ্যেই সেখানে সেনা পাঠানোর প্রস্তুতি শুরু করেছেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট।

ঠিক কবে নাগাদ সেনা মোতায়েন করা হবে;এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানাননি তিনি। তবে তিনি বলেছেন,এ ব্যাপারে তার পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোপূর্বে অ্যামাজনের সুরক্ষাকে অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে প্রতিবন্ধকতা হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন বলসোনারো।

জাকির নায়েককে কোন অবস্থাতে ভারতে পাঠানো হবে না: মাহাথির

স্টাফ রিপোর্টার: ইসলামি বক্তা জাকির নায়েককে এখনই নিজ দেশ ভারতে ফেরত পাঠানো হবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন মালয়েশীয় প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত আমি আমার অবস্থান পাল্টাইনি। সিঙ্গাপুরভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য স্ট্রেইট টাইমসের এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা যায়। 

মালয়েশিয়ায় ধর্ম ও জাতিগত ইস্যুকে স্পর্শকাতর বিবেচনা করা হয়। দেশটির ৬০ শতাংশ মানুষ মুসলমান আর বাকিরা চীন ও ভারতের নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী। এদের বেশিরভাগই সনাতন ধর্মাবলম্বী। সম্প্রতি জাকির মন্তব্য করেছেন, ভারতের সংখ্যালঘু মুসলমানদের চেয়ে মালয়েশিয়ায় থাকা সংখ্যালঘু হিন্দুরা শতগুণ বেশি অধিকার ভোগ করছে। তিনি আরও বলেন, মালয়েশিয়ায় বসবাসকারী হিন্দুরা মাহাথিরের নয়,ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সমর্থক। এই মন্তব্যের জেরে জাকির নায়েককে মালয়েশিয়া থেকে বের করে দেওয়ার প্রসঙ্গটি আলোচনায় আসে। এ ঘটনায় পুলিশি তদন্ত চলছে। এ বিষয়ে দুইবার পুলিশের জেরার মুখেও পড়তে হয়েছে তাকে।
সংবাদ সম্মেলনে জাকির নায়েককে নিয়ে চলা বিতর্কে তাকে ফেরত পাঠানো হবে কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে নিজের অবস্থানের পরিবর্তন হয়নি উল্লেখ করে মাহাথির বলেন, আমি এখনও তাকে ফেরত পাঠানোর পক্ষে নই। আমি আগের সিদ্ধান্তেই অটল রয়েছি। 

ভারতের আদালতে অর্থপাচার ও ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানোর মধ্য দিয়ে জিহাদি কার্যক্রম উদ্বুদ্ধ করার অভিযোগ রয়েছে জাকিরের বিরুদ্ধে। দিল্লির পক্ষ থেকে তাকে ফেরত পাঠানোর আনুষ্ঠানিক আবেদন করা হলে ২০১৮ সালে মাহাথির এ ব্যাপারে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন।
চলতি বছর জুনের দ্বিতীয় সপ্তাহেও মাহাথির বলেছিলেন, ন্যায়বিচার ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা থাকলে জাকির নায়েককে ভারতে ফেরত পাঠানো হবে না। এরপর গত জুলাইয়ে টিআরটি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে আলাপকালে ৯৪ বছর বয়সী মাহাথির বলেছিলেন, ‘আমাদের দেশ মালয়েশিয়ায় ভিন্ন ভিন্ন বর্ণের ও ভিন্ন ভিন্ন ধর্মের মানুষ আছে। আমরা এমন কাউকে চাই না যাদের বর্ণগত সম্পর্ক ও অন্য ধর্ম সম্পর্কে কট্টর চিন্তাভাবনা রয়েছে। তবে জাকির নায়েককে আবার অন্য কোথাও পাঠানো কঠিন। কারণ, অনেক দেশই তাকে রাখতে চায় না।’

বাড়ি বাড়ি গিয়ে তুলে নেওয়া হচ্ছে কাশ্মিরি তরুণদের

স্টাফ রিপোর্টার:ভারত অধিকৃত কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসন বাতিল করে অঞ্চলটিকে দুই টুকরো করে দেওয়ার পর গত দুই সপ্তাহ ধরে সেখানে শত শত তরুণকে আটকের অভিযোগ উঠেছে।

সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, সেখানে কমপক্ষে চার হাজার মানুষকে বন্দি করা হয়েছে।কাশ্মিরি রাজনীতিবিদ শেহলা রশিদ দিল্লিতে টুইট করে জানিয়েছেন, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা রাতে বাড়িতে বাড়িতে হানা দিয়ে তরুণদের তুলে নিয়ে যাচ্ছে। তার ভাষায়, ‘তারা বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর করছে, খাবার ফেলে দিচ্ছে বা চালের বস্তায় তেল ঢেলে দিচ্ছে এবং শেষে বাড়ির তরুণদের তুলে নিয়ে যাচ্ছে।

তিনি লিখেছেন, সোপিয়ানের একটি আর্মি ক্যাম্পে চারজন তরুণকে ধরে নিয়ে গিয়ে জেরা ও নির্যাতনের সময় তাদের সামনে মাইক্রোফোন ধরে রাখা হয়েছিল – যাতে তাদের চিৎকারের আওয়াজ শুনে গোটা এলাকা ভয় পায়।

সোপিয়ানের আর্মি ক্যাম্পে কাশ্মিরি তরুণদের ওপর নির্যাতন চালিয়ে তার অডিও মহল্লায় শোনানোর খবর অবশ্য অস্বীকার করেছে ভারতীয় বাহিনী। আর শেহলা রশিদের বক্তব্যকে ‘গুজব’ আখ্যায়িত করে সুপ্রিম কোর্টে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দাবি করেছেন আইনজীবী অলক শ্রীবাস্তব। তার দাবি, ‘ওইসব কথিত নি র্যাতনের অডিও বা ভিডিও কোথায়? কিংবা নি র্যাতিতদের নাম, পরিচয় বা ঘটনা কোথায় ঘটেছে সেগুলোই বা কেন তিনি জানাতে পারছেন না?

ঠিক দুই সপ্তাহ আগের আরেক সোমবার মোদি সরকার পার্লামেন্টে কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের পর থেকে সেখানে এ যাবত কতজনকে আটক করা হয়েছে, তা নিয়ে একেবারেই মুখ খুলতে রাজি নয় প্রশাসন। সরকারি মুখপাত্র নির্দিষ্টভাবে কোনও সংখ্যা জানাতে অস্বীকার করলেও এএফপি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ম্যাজিস্ট্রেটকে উদ্ধৃত করে বলছে, আটকের সংখ্যা কোনও অবস্থাতেই চার হাজারের কম নয়।
স্কুল-কলেজে তালা:

জম্মু ও কাশ্মিরে সোমবার থেকে আংশিকভাবে স্কুল খোলার কথা থাকলেও বেশিরভাগ স্কুলই এদিন খোলেনি বা খুললেও শিশুরা আসেনি। শ্রীনগর থেকে বিবিসির রিয়াজ মাসরুর এদিন জানান, ‘আজ থেকে আবার স্কুল খোলার ঘোষণা হলেও শহরে তা কার্যকর করা হয়নি।’ তিনি জানান, ‘প্রথমে ঠিক হয়েছিল, ক্লাস এইট পর্যন্ত বাচ্চারা স্কুলে আসবে। পরে সেটাকে শুধু ক্লাস ফাইভ পর্যন্ত বাচ্চাদের জন্য চালুর সিদ্ধান্ত হয়। তবে কারফিউ-র ভেতর বাবা-মায়েরা শেষ পর্যন্ত ছোট ছোট শিশুদের স্কুলে পাঠানোর ঝুঁকি আর নেননি।’ ফলে প্রশাসন যা-ই দাবি করুক কাশ্মিরের পরিস্থিতি এখনও স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক দূরে – আর তারই মধ্যে শত শত তরুণকে আটক করা বা তুলে নেওয়ার খবর যথারীতি আরও আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে দিচ্ছে।
জামায়াত সমর্থকরাই টার্গেট?: 
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মীনাক্ষি গাঙ্গুলি বিবিসিকে জানান, পরিস্থিতি সত্যিই উদ্বেগজনক। তার ভাষায়, ‘দেখুন ডিটেনশন তো শুধু গত দুই সপ্তাহে নয়- তার বহু আগে থেকেই হচ্ছে। ইয়াসিন মালিক কিংবা হুরিয়াতের আরও বহু নেতাকে তো অনেকদিন ধরেই আটকে রাখা হয়েছে। সরকার যদিও বলছে যে, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তারা খুব অল্প কিছু লোককে আটক করেছে, আমরা কিন্তু বলব আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, তারা এখানে তাদের দায়িত্ব পালন করছে না। এসব ক্ষেত্রে সরকারের দায়িত্ব হলো স্বচ্ছতার সঙ্গে আটককৃতদের নামের তালিকা প্রকাশ করা, যাতে পরিবারের লোকজন জানতে পারে তারা কোথায়।

তিনি বলেন,তাদেরকে আইনি সহায়তা দেওয়া দরকার, ডিটেনশনের মেয়াদ যাতে অনির্দিষ্টকাল না-হয় সেটা যেমন দেখা দরকার- তেমনি ডিটেনশন ছাড়া অন্য কোনও ব্যবস্থা নেওয়া যেত কি না, সেটাও জাস্টিফাই করতে হয়। কিন্তু কাশ্মিরে ভারত সরকার কোনওটাই এখনও করেনি।
শ্রীনগরের লেখক ও গবেষক বশির আসাদ দিল্লিতে বিবিসি বাংলাকে বলেছেন,‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রচুর লোককে আটক করা হচ্ছে। মূলত নিশানা করা হচ্ছে জামায়াতে ইসলামীর সমর্থক ও ভাবধারার লোকজনকে। বস্তুত কাশ্মিরে জামায়াতকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল মাস দুয়েক আগেই। এখন তাদের সমর্থকদের জেলে আসা-যাওয়া লেগেই আছে।

জাকির নায়েক সীমা অতিক্রম করেছেন : মাহাথির

স্টাফ রিপোর্টার: বিতর্কিত ধর্মপ্রচারক ও ইসলামি বক্তা জাকির নায়েক মালয়েশিয়ায় রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়ে সীমা অতিক্রম করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ।

রবিবার তিনি বলেন, ‘মালয়েশিয়ায় জাকির নায়েকের রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত। সংখ্যালঘুদের নিয়ে সাম্প্রদায়িক বক্তব্য দিয়ে তিনি সীমা ছাড়িয়েছেন।’ মালয়েশিয়ার সংবাদমাধ্যম মালয়েশিয়া ইনসাইটের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।  অতীতে এই ইসলামি বক্তাকে মাহথির সমর্থন দিলেও এই প্রথম তিনি তার সমালোচনা করলেন।

মালয়েশিয়ায় ধর্ম ও জাতিগত ইস্যুকে স্পর্শকাতর বিবেচনা করা হয়। দেশটির ৬০ শতাংশ মানুষ মুসলমান আর বাকিরা চীন ও ভারতের নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী। এদের বেশিরভাগই সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষ। সম্প্রতি জাকির নায়েক মন্তব্য করেছেন, ভারতের সংখ্যালঘু মুসলমানদের চেয়ে মালয়েশিয়ায় থাকা সংখ্যালঘু হিন্দুরা শতগুণ বেশি অধিকার ভোগ করছে। মালয়েশিয়ায় বসবাসকারী হিন্দুরা দেশটির চেয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে সমর্থন করে বেশি।

তবে জাকির দাবি করেছেন, তার বক্তব্য সংবাদমাধ্যমে ভুলভাবে তুলে ধরা হয়েছে। হিন্দুদের নিয়ে জাকিরের এই মন্তব্যের জেরে তাকে মালয়েশিয়া থেকে বের করে দেওয়ার প্রসঙ্গটি আলোচনায় আসে। এ ঘটনায় তদন্ত করছে পুলিশের তদন্ত কমিটি। এখন এই তদন্তের ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করছে সরকার। তদন্তে সত্যতা পেলে তাকে মালয়েশিয়ায় বসবাসের অনুমতি বাতিল করা হবে। নাজিব রাজাকের বিগত সরকার জাকির নায়েককে স্থায়ী আবাসিকতার অনুমোদন দেয়। গত তিন বছর ধরে দেশটিতে বসবাস করছেন তিনি।

মালয়েশিয়ার সংবাদমাধ্যম মালয় মেইলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রবিবার প্রধানমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি জাকির নায়েক সংখ্যালঘুদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের মাধ্যমে জাতিগত বিদ্বেষ উসকে দেওয়া চেষ্টা করেছেন ‘এটা সম্পূর্ণ পরিষ্কার।প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘তাকে কে প্রথমে স্থায়ী আবাসিকতা দিয়েছেন, তা আমি জানি না। তবে তিনি স্থায়ী আবাসিক হিসেবে রাজনীতিতে অংশ নিতে পারেন না। তিনি ইসলাম নিয়ে কথা বলতে পারেন, ধর্ম প্রচার করতে পারেন। তবে চীনাদের ফেরত পাঠাতে বলে তিনি যা (রাজনীতি নিয়ে খেলা) করেছেন। এটা সম্পূর্ণ স্পষ্ট যে, তিনি জাতিগত রাজনীতি নিয়ে খেলতে চান।

এদিকে, মালয়েশিয়ার রাজ্য পারলিসের পর জাকির নায়েকের প্রকাশ্য বক্তৃতার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে কেদাহ রাজ্য কর্তৃপক্ষ। এই সপ্তাহে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। এর আগে জাকির নায়েকের ‘সাম্প্রদায়িক মন্তব্য’র জন্য ১৬-১৮ আগস্টে মালয়েশিয়ার একটি ইসলামি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে বাধা দিয়েছিল কর্তৃপক্ষ।
গত বুধবার মালয়েশিয়ার মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদকে দুই মন্ত্রী প্রস্তাব দেন,জাকির নায়েকের উসকানিমূলক বক্তব্যের জন্য তাকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো উচিত। তবে প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদকে উদ্ধৃত করে মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বার্নামা মঙ্গলবার রাতে জানিয়েছে, ভারতে মৃত্যুর আশঙ্কা থাকায় জাকির নায়েককে হয়ত সেখানে ফেরত পাঠানো হবে না। যদি অন্য কোনও দেশ তাকে নিতে চায় তাহলে তাদের স্বাগত জানানো হবে।প্রসঙ্গত,ভারতের আদালতে অর্থপাচার ও ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানোর মধ্য দিয়ে জিহাদি কার্যক্রম উদ্বুদ্ধ করার অভিযোগ রয়েছে জাকিরের বিরুদ্ধে। দিল্লির পক্ষ থেকে তাকে ফেরত পাঠানোর আনুষ্ঠানিক আবেদন করা হলে ২০১৮ সালে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ এ ব্যাপারে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন।

কাশ্মিরে নিয়ে জাতিসংঘকে ভারতের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান তুরস্কের

স্টাফ রিপোর্টার: ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মির নিয়ে চলমান জটিলতা নিরসনে জাতিসংঘকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছে তুরস্ক। শনিবার এক বিবৃতিতে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, জাতিসংঘের নীতিগত কাঠামোর মধ্যে থেকে কাশ্মির বিবাদ সমাধান করা উচিত।

সোমবার (৫ আগস্ট) ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের মধ্য দিয়ে কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসনের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়। এদিকে জম্মু-কাশ্মিরকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করতে পার্লামেন্টে একটি বিলও পাস করা হয়েছে।

এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে কাশ্মিরজুড়ে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত সেনা। গ্রেফতার করা হয়েছে সেখানকার শতাধিক স্থানীয় নেতাকে। ইন্টারনেট-মোবাইল পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। বিরাজ করছে থমথমে পরিস্থিতি।

১৯৭১ সালের পর কাশ্মির ইস্যুতে এই প্রথমবারের মতো বৈঠক করলো জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। ভারত জম্মু-কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসন ও বিশেষ মর্যাদা বাতিলের পর চীনের আহবানে শুক্রবার ৯০ মিনিটের রুদ্ধদ্বার বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে চীন কাশ্মির পরিস্থিতি উদ্বেগজনক বললেও নিরাপত্তা পরিষদের পক্ষ থেকে কোনও বিবৃতি দিতে সম্মত হয়নি সদস্য রাষ্ট্রগুলো।

এক বিবৃতিতে তুর্কি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শুক্রবারের আলেঅচনাকে স্বাগত জানিয়ে বলে, সংশ্লিষ্ট সবপক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে এই বিরোধ সমাধা করতে হবে। উত্তেজনা বৃদ্ধি পায় এমন পদক্ষেপ না নেওয়ার আহ্বান জানায় তারা।

বাংলাদেশ আসছেন ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর

স্টাফ রিপোর্টার:ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম বিদেশ সফরে বাংলাদেশ আসছেন এস.জয়শঙ্কর। আগামী সপ্তাহে তিনি ঢাকা আসবেন বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস। উভয় দেশের মধ্যকার সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার জন্যই তিনি এ সফরে আসছেন।

খবরে বলা হয়েছে, দুই দিনের সফরে ২০ আগস্ট ঢাকা আসবেন জয়শঙ্কর। সফরে তিনি অবৈধ অভিবাসন, কানেক্টিভিটি, রোহিঙ্গা সংকট এবং দীর্ঘ দিনের অসমাধিত তিস্তাসহ ৫৪টি নদীর পানির বন্টন নিয়ে আলোচনা করতে পারেন।

সম্প্রতি নয়া দিল্লিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে মোমেনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন জয়শঙ্কর। এছাড়া তাজিকিস্তানে এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের পার্শ্ববৈঠকেও মিলিত হয়েছেন দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

গত তিন বছরে উভয় দেশ ৬০টির মতো চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। এছাড়া দীর্ঘদিনের পুরনো সীমান্ত ও সমুদ্রসীমা বিরোধের সমাধানও হয়েছে এই সময়ের মধ্যে। তবে তিস্তার পানিবণ্টন ইস্যুটির এখনও কোনও সমাধান হয়নি।

আসন্ন শীতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের আগে ঢাকা আসছেন জয়শঙ্কর। টানা তৃতীয়বার ক্ষমতা গ্রহণের পর এটাই হবে শেখ হাসিনার প্রথম ভারত সফর।

কাশ্মির সীমান্তে গোলাগুলিতে ৫ জ নয় ২৫ জন ভারতীয় সেনা নিহত হয়: ভারতীয় কমান্ডার

স্টাফ রিপোর্টার: ভারতের ৭৩তম স্বাধীনতা দিবসে কাশ্মির সীমান্তে চরম গো লাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে পাকিস্তানের তিন ও ভারতের পাঁচ সেনা সদস্য নি হত হয়েছে বলে দাবি করেছে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। দেশটির সেনা মুখপাত্রের দাবি, বৃহস্পতিবার ভারতীয় বাহিনী কাশ্মির সীমান্তে গো লাবর্ষণ বাড়ালে জবাব দেয় তারা। অবশ্য ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআই জানিয়েছে, কাশ্মিরে সেনা নি হতের খবর অস্বীকার করেছে ভারতের সেনাবাহিনী। আর কাশ্মির পুলিশের বরাতে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, গো লাগুলির ঘটনায় স্থানীয় দুই বেসামরিক ব্যক্তিও নি হত হয়েছেন।

অথচ কাশ্মীর সিমান্তে কর্মরত একজন ভারতীয় সেনা কমান্ডার তার টুইটারে বলেছে, ভারতের ২৫ জওয়ান মৃ ত্যুবরণ করেছে।ভারতীয় মিডিয়া এবং সরকয়ার এই ব্যাপারটি অস্বীকার করেছে।তাই তিনি পদত্যাগ করবেন।

১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ উপনিবেশ থেকে স্বাধীনতা লাভের পর ভারত-পাকিস্তান তিনটি যু দ্ধের মধ্যে দুটি অনুষ্ঠিত হয়েছে কাশ্মির ইস্যুতে। গত ফেব্রুয়ারিতে পুলওয়ামায় ভারতীয় বাহিনীর ওপর আ ত্মঘাতী হা মলার পর তৃতীয় যু দ্ধের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছায় দুই দেশ। গত ৫ আগস্ট (সোমবার) ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের মধ্য দিয়ে কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসনের অধিকার ও বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেয় বিজেপি নেতৃত্বাধীন ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। এর প্র তিবাদে ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক হ্রাস করাসহ ইসলামাবাদে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারকে বহিষ্কার করেছে পাকিস্তান। একইসঙ্গে সব ধরনের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি স্থগিত ও ভারতের স্বাধীনতা দিবসকে কা লো দিবস হিসেবে পালন করছে পাকিস্তান।

বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের স’শস্ত্র বাহিনীর প্রধান মুখপাত্র মেজর জেনারেল আসিফ গফুর এক টুইট বার্তায় বলেন, ভারতীয় সেনাবাহিনী কাশ্মিরের নিয়ন্ত্রণ রেখায় গো লাবর্ষণ বাড়িয়েছে। এর আগে পাকিস্তান আন্তবাহিনী জনসংযোগ দফতরের টুইট বার্তায় বলা হয়, ‘জম্মু কাশ্মিরের বি পজ্জনক পরিস্থিতি থেকে মনোযোগ সরানোর চেষ্টায় ভারতীয় সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রণ রেখায় গো লাবর্ষণ বাড়িয়েছে। ৩ পাকিস্তানি সেনা শাহাদাৎ বরণ করেছে। পাকিস্তান সেনাবাহিনীও কার্যকর জবাব দিয়েছে। ৫ ভারতীয় সেনাকে হ ত্যা করা হয়েছে, বহু আহত হয়েছে, বাঙ্কার ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। থেমে থেমে গো লাবর্ষণ এখনও চলছে’।

পাকিস্তানি সেনা কর্তৃপক্ষের টুইট বার্তার পরে আরেক টুইট বার্তায় ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআই জানিয়েছে, ৫ সেনা নিহতের খবর অস্বীকার করেছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। তবে বার্তাটি সংস্থাটির আরেক টুইট বার্তায় নিজস্ব সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে নিয়ন্ত্রণ রেখার উরি ও রাজৌরি সেক্টরে যু দ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনায় পাকিস্তানের ৩ সেনা সদস্য নি হত হয়েছে।

এদিকে পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরের পুলিশ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার গোলাগুলির ঘটনায় দুই বেসামরিক ব্যক্তি নি হত হয়েছে। পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরের মুজাফফরাবাদ থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক জানিয়েছেন, সীমান্ত এলাকায় উ ত্তেজনা চরমে রয়েছে। তিনি বরেন, এখানকার বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ঘুরে দেখেছি, সেখানকার মানুষ আমাদের বলেছেন সারাক্ষণ ভী তির মধ্যে এখানে স্বাভাবিক জীবন যাপন করা খুবই কঠিন।

কাশ্মিরিদের অবস্থা খাঁচাবন্দি প্রাণীর মতো : মেহবুবা মুফতির মেয়ে

স্টাফ রিপোর্টার: নিজ বাড়িতে বন্দি থাকা অবস্থায় দ্বিতীয়বারের মতো অডিও বার্তা প্রকাশ করেছেন জম্মু কাশ্মিরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতির মেয়ে ইলতিজা জাভেদ। মায়ের গ্রেফতারের পর অডিওবার্তা প্রকাশের পাশাপাশি ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে লেখা চিঠিতে তিনি বলেছেন, সংবাদমাধ্যমে আবারও কথা বললে মা রাত্মক পরিণতির হুমকি দেওয়া হয়েছে তাকে। ওই চিঠিতে তিনি লিখেছেন, কাশ্মিরিদের খাঁচার প্রাণীর মতো বন্দি রাখা হয়েছে আর বঞ্চিত করা হচ্ছে সব মৌলিক মানবাধিকার থেকে।

গত ৫ আগস্ট ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের মধ্য দিয়ে কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসনের অধিকার ও বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেয় বিজেপি নেতৃত্বাধীন ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। ওই দিন সকাল থেকে কার্যত অচলাবস্থার মধ্যে রয়েছে জম্মু-কাশ্মির। দোকান, স্কুল, কলেজ ও অফিস বন্ধ রাখা হয়েছে। কোনও গণপরিবহন নেই। ইন্টারনেট-মোবাইল পরিষেবাও সীমিত। সাবেক দুই মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ ও মেহবুবা মুফতিসহ কাশ্মিরের শত শত রাজনৈতিক নেতাকে বন্দি রাখা হয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার অমিত শাহকে ইলতিজা জাভেদ লেখেন, ‘বাকি দেশ যখন ভারতের স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করছে তখন কাশ্মিরিরা খাঁচার প্রাণীর মতো বন্দি রয়েছে আর বঞ্চিত হচ্ছে মৌলিক মানবাধিকার থেকে’। ওই চিঠিতে তিনি বলেন, ‘বাড়ির গেট থেকে দেখা করতে মানুষদের ফিরিয়ে দেওয়া হলেও আমাকে জানানো হচ্ছে না আর আমাকেও বাড়ির বাইরে পা রাখতে দেওয়া হচ্ছে না’।
চিঠিতে মেহবুবা মুফতির মেয়ে জানতে চান কেন তাকে বন্দি করে রাখা হয়েছে। তিনি দাবি করেন নিরাপত্তা কর্মকর্তারা তাকে জানিয়েছেন সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেওয়ায় তাকে আটক করা হয়েছে। পিউপিলম ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নেতার মেয়ে লেখেন, ‘আবারও সংবাদমাধ্যমে কথা বললে মা রাত্মক পরিণতির হুমকি দেওয়া হয়েছে আমাকে’।

অডিও বার্তার সঙ্গে প্রকাশ করা চিঠিতে ইলতিজা জাভেদ লেখেন, বিশ্বের সর্ববৃহৎ গণতন্ত্রের দেশে অকল্পনীয় নিপীড়নের মুখে একজন নাগরিকের কথা বলার অধিকার নেই। এটা এক ভয়ঙ্কর ট্রাজেডি যে, অস্বস্তিকর সত্য উচ্চারণ করায় আমার সঙ্গে যুদ্ধ বন্দির মতো আচরণ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, আমার সঙ্গে এমন আচরণ করা হচ্ছে যেন আমি অপরাধী আর আমাকে সার্বক্ষনিক নজরদারির মধ্যে রাখা হচ্ছে।

যেসব কাশ্মিরি কথা বলেছে তাদের পাশাপাশি আমি আমার নিজের জীবনের আশঙ্কা করছি।
গত সপ্তাহে নিজের প্রথম অডিও বার্তায় ইলতিজা জাভেদ অভিযোগ করেন তার মাকে নির্জন কারাগারে বন্দি করে রাখা হয়েছে, দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না আইনজীবীদের সঙ্গেও।

২২ আগস্ট শুরু হচ্ছে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন?

স্টাফ রিপোর্টার:
সেনা নিপীড়নের মুখে রাখাইন থেকে পালিয়ে আসা হাজার হাজার রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিতে আগামী সপ্তাহে নতুন প্রচেষ্টা শুরু করছে মিয়ানমার ও বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার উভয় দেশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন সম্প্রতি বাংলাদেশের হস্তান্তর করা ২২ হাজার রোহিঙ্গার তালিকা থেকে  ৩ হাজার ৫৪০ জনকে ফিরে যেতে দেওয়ার কথা জানিয়েছে মিয়ানমার।

দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন আগামী ২২ আগস্ট এসব রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছেন তারা। বাংলাদেশের এক ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানিয়েছে, ছোট পরিসরে নতুন করে প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে কাউকে জোর করে ফেরত পাঠানো হবে না।

জাতিগত নিধন ও গণহত্যার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ-মিয়ানমার প্রত্যাবাসন চুক্তি সম্পন্ন হয়। একই বছরের ৬ জুন নেপিদোতে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে মিয়ানমার ও জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর মধ্যেও সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী গত বছরের ১৫ নভেম্বর রোহিঙ্গা প্রত্যর্পণের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। তবে আবারও হামলার মুখে পড়ার আশঙ্কায় রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ফিরতে অস্বীকৃতি জানানোয় ব্যর্থ হয় ওই উদ্যোগ।

রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে নতুন করে উদ্যোগের অংশ হিসেবে গত মাসে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র সচিব মিন্ট থোয়ের নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধি দল। ১৫ সদস্যের দলটি দুই দিন ধরে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে আলোচনা করে। এসব বৈঠকে রোহিঙ্গাদের তরফে ফিরে যাওয়ার ক্ষেত্রে মিয়ানমারের নাগরিকত্ব ও চলাফেরায় স্বাধীনতার দাবি পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, প্রায় এক বছর আগে নেওয়া উদ্যোগ ব্যর্থ হওয়ার পর নতুন করে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের কর্মকর্তারা। মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মিয়ান্ট থো জানিয়েছেন, ‘২২ আগস্ট ৩ হাজার ৫৪০ জন রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছি আমরা’।

বাংলাদেশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন ছোট পরিসরে প্রত্যার্পণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে কাউকে জোর করে ফেরত পাঠানো হবে না। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ কেবল নিরাপদ, স্বেচ্ছায়, মর্যাদাপূর্ণ ও স্থায়ী প্রত্যর্পণ ছাড়া আর কিছুই চায় না।’
সূত্র বাংলা ট্রিবিউন