কাশ্মিরের পরিস্থিতি এখনও স্বাভাবিক নয়: রাহুল গান্ধী

স্টাফ রিপোর্টার:
ভারত অধিকৃত জম্মু-কাশ্মিরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক নয় বলে মন্তব্য করেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। শনিবার শ্রীনগর বিমানবন্দর থেকে ফিরিয়ে দেওয়ার পর তিনি এমন মন্তব্য করেন।

রাহুল গান্ধী বলেন, ‘আমরা জানতে চেয়েছিলাম, সেখানকার মানুষ কেমন আছেন। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে জনগণকে সাহায্য করতে চেয়েছিলাম। দুর্ভাগ্যবশত আমাদের বিমানবন্দর থেকে বেরুতে দেওয়া হয়নি। আমাদের সঙ্গে থাকা সাংবাদিকদের হেনস্তা করা হয়েছে, মারধর করা হয়েছে। এটা পরিষ্কার যে, জম্মু ও কাশ্মিরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল না।’

এই রাজনীতিক জানান, জম্মু-কাশ্মিরের থেকে বিশেষ রাজ্যের মর্যাদা প্রত্যাহার এবং রাজ্যটিকে ভেঙে দুই টুকরো করে দেওয়ার পর সেখানকার ‘পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে’ এমনটা দেখাতে রাজ্যপাল সত্যপাল মালিক তাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন।

এই কংগ্রেস নেতা বলেন, রাজ্যপাল বিমান পাঠানোর প্রস্তাব দিলে আমি তাকে বলি, বিমান আমার প্রয়োজন নেই। তবে আপনার প্রস্তাব গ্রহণ করছি। আমি জম্মু-কাশ্মিরে যাবো।

এদিকে জম্মু-কাশ্মিরের তথ্য ও জনসংযোগ দফতরের এক টুইটে বলা হয়েছে, সীমান্ত স ন্ত্রাস এবং হামলা থেকে জম্মু-কাশ্মিরের মানুষকে রক্ষা করার চেষ্টা করছে সরকার। এমন একটি সময়ে রাজনৈতিক নেতাদের শ্রীনগরে যাওয়া উচিত হবে না। কারণ তাতে সাধারণ মানুষের অসুবিধা হতে পারে। তবে জেলা প্রশাসনকে চিঠি দিয়ে রাহুল গান্ধি এবং তার সঙ্গে থাকা ১১ নেতা জানিয়েছেন, তাদের সফর নিয়ে আশঙ্কা ভিত্তিহীন।

চিঠিতে বলা হয়েছে, আমরা দায়িত্ববান রাজনৈতিক নেতা এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। আমাদের উদ্দেশ্য শান্তিপূর্ণ ও মানবিক।
শ্রীনগর বিমানবন্দরে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে ছিলেন কংগ্রেস, সিপিআইএম, সিপিআই, রাষ্ট্রীয় জনতা দল, ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি, তৃণমূল কংগ্রেস এবং ডিএমকে নেতারা। প্রতিনিধি দলে ছিলেন সিপিআইএম নেতা সীতারাম ইয়েচুরি,

সিপিআইয়ের ডি রাজা, ডিএমকে নেতা ত্রিরুচি শিবা, আরজেডি নেতা মনোজ ঝা এবং তৃণমূল কংগ্রেস নেতা দিনেশ ত্রিবেদী। সূত্র: এনডিটিভি। সূত্র বাংলা ট্রিবিউন

জাকির নায়েককে কোন অবস্থাতে ভারতে পাঠানো হবে না: মাহাথির

স্টাফ রিপোর্টার: ইসলামি বক্তা জাকির নায়েককে এখনই নিজ দেশ ভারতে ফেরত পাঠানো হবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন মালয়েশীয় প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত আমি আমার অবস্থান পাল্টাইনি। সিঙ্গাপুরভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য স্ট্রেইট টাইমসের এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা যায়। 

মালয়েশিয়ায় ধর্ম ও জাতিগত ইস্যুকে স্পর্শকাতর বিবেচনা করা হয়। দেশটির ৬০ শতাংশ মানুষ মুসলমান আর বাকিরা চীন ও ভারতের নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী। এদের বেশিরভাগই সনাতন ধর্মাবলম্বী। সম্প্রতি জাকির মন্তব্য করেছেন, ভারতের সংখ্যালঘু মুসলমানদের চেয়ে মালয়েশিয়ায় থাকা সংখ্যালঘু হিন্দুরা শতগুণ বেশি অধিকার ভোগ করছে। তিনি আরও বলেন, মালয়েশিয়ায় বসবাসকারী হিন্দুরা মাহাথিরের নয়,ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সমর্থক। এই মন্তব্যের জেরে জাকির নায়েককে মালয়েশিয়া থেকে বের করে দেওয়ার প্রসঙ্গটি আলোচনায় আসে। এ ঘটনায় পুলিশি তদন্ত চলছে। এ বিষয়ে দুইবার পুলিশের জেরার মুখেও পড়তে হয়েছে তাকে।
সংবাদ সম্মেলনে জাকির নায়েককে নিয়ে চলা বিতর্কে তাকে ফেরত পাঠানো হবে কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে নিজের অবস্থানের পরিবর্তন হয়নি উল্লেখ করে মাহাথির বলেন, আমি এখনও তাকে ফেরত পাঠানোর পক্ষে নই। আমি আগের সিদ্ধান্তেই অটল রয়েছি। 

ভারতের আদালতে অর্থপাচার ও ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানোর মধ্য দিয়ে জিহাদি কার্যক্রম উদ্বুদ্ধ করার অভিযোগ রয়েছে জাকিরের বিরুদ্ধে। দিল্লির পক্ষ থেকে তাকে ফেরত পাঠানোর আনুষ্ঠানিক আবেদন করা হলে ২০১৮ সালে মাহাথির এ ব্যাপারে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন।
চলতি বছর জুনের দ্বিতীয় সপ্তাহেও মাহাথির বলেছিলেন, ন্যায়বিচার ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা থাকলে জাকির নায়েককে ভারতে ফেরত পাঠানো হবে না। এরপর গত জুলাইয়ে টিআরটি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে আলাপকালে ৯৪ বছর বয়সী মাহাথির বলেছিলেন, ‘আমাদের দেশ মালয়েশিয়ায় ভিন্ন ভিন্ন বর্ণের ও ভিন্ন ভিন্ন ধর্মের মানুষ আছে। আমরা এমন কাউকে চাই না যাদের বর্ণগত সম্পর্ক ও অন্য ধর্ম সম্পর্কে কট্টর চিন্তাভাবনা রয়েছে। তবে জাকির নায়েককে আবার অন্য কোথাও পাঠানো কঠিন। কারণ, অনেক দেশই তাকে রাখতে চায় না।’

কাশ্মিরে দুর্বৃত্তের আচরণ করছে মোদি : অরুন্ধতী রায়

স্টাফ রিপোর্টার: জম্মু-কাশ্মিরকে সুবিশাল বন্দিশিবিরে রূপান্তর করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বনামধন্য ভারতীয় বুদ্ধিজীবী অরুন্ধতী রায়। কাশ্মিরিদের সঙ্গে মোদি সরকার দুর্বৃত্তের আচরণ করছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। ভারতের স্বাধীনতা দিবসে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমস-এ লেখা নিবন্ধে বুকারজয়ী এই উপন্যাসিক দাবি করেছেন, কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসন ক্ষুণ্ন করে কুরুচিপূর্ণ পন্থায় তা উদযাপন করছে ভারত। 

গত ৫ আগস্ট ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের ঘোষণার মধ্য দিয়ে কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসনের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়। জম্মু-কাশ্মিরকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করতে পার্লামেন্টে পাস হয় একটি বিলও। আর গত ৯ আগস্ট রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে আইনে পরিণত হয় তা।এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে কাশ্মিরজুড়ে মোতায়েন করা হয়েছে বিপুলসংখ্যক অতিরিক্ত সেনা। ইন্টারনেট-মোবাইল পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে সেখানকার বিপুলসংখ্যক স্বাধীনতাপন্থী ও ভারতপন্থী রাজনৈতিক নেতাকে।

১৫ আগস্ট ভারতের স্বাধীনতা দিবসে ‘নীরবতাই সবথেকে জোরালো আওয়াজ’ (The Silence Is the Loudest Sound) শিরোনামের নিবন্ধে অরুন্ধতী রায় লিখেছেন, ভারত যখন ব্রিটিশ শাসন থেকে স্বাধীনতা লাভের ৭৩ তম বর্ষপূর্তি উদযাপন করছে, তখন ছিন্নমূল শিশুরা দিল্লির রাস্তায় থমকে থাকা যানবাহনের পাশে গিয়ে গিয়ে বড় মাপের জাতীয় পতাকা ও স্যুভেনির বিক্রি করছে। সেগুলোতে লেখা ‘মেরা ভারত মহান হে’ (আমার ভারত মহান)। সত্যিকার অর্থে ‘আমার ভারত মহান’-এ কথাটা এ মুহূর্তে অনুভব করতে পারা কঠিন। কারণ আমাদের সরকারের কর্মকাণ্ড দেখে মনে হচ্ছে তারা যেন দুর্বৃত্তে পরিণত হয়েছে।

ভারতের সংবিধানে কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসনের যে নিশ্চয়তা ছিল, মোদি সরকার ৩৭০ ধারা বাতিল করার পর এর অন্তর্গত ৩৫-এ অনুচ্ছেদে বর্ণিত কাশ্মিরিদের বিশেষ সুবিধাও বাতিল হয়ে গেছে বলে মনে করা হচ্ছে। ‘৩৫-এ’ অনুযায়ী কাশ্মিরের বাসিন্দা নন এমন ভারতীয়দের সেখানে সম্পদের মালিক হওয়া ও চাকরি পাওয়ায় বাধা ছিল। সরকারের সিদ্ধান্তে সেই বাধা দূর হয়েছে। এখন চাইলেই যে কোনও ভারতীয় নাগরিক সেখান ভূমিসহ অন্যান্য সম্পদ কিনতে সক্ষম হবে।

নিবন্ধে অরুন্ধতী লিখেছেন, “ব্রিটিশ প্রথা অনুযায়ী টেবিল চাপড়ে আইনটি পাস হওয়াকে স্বাগত জানিয়েছে ভারতের পার্লামেন্ট। রাজ্যটির আইনি স্বীকৃতি বাতিল করার অর্থ হলো অনুচ্ছেদ ৩৫ (এ)ও বিলুপ্ত করা; এর আওতায় এতোদিন কাশ্মিরি বাসিন্দাদের অধিকারের স্বীকৃতি ছিল এবং নিজেদের এলাকার নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতেই ছিল। সুতরাং ‘ব্যবসায়ের জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে’ এ কথাটির মানে স্পষ্ট করতে হবে। এর সঙ্গে যুক্ত হতে পারে ইসরায়েলি ধাঁচের বসতি স্থাপন ও তিব্বতের ধাঁচে জনসংখ্যা স্থানান্তরের মতো বিষয়গুলোও।

স্বায়ত্তশাসন বাতিল করে কাশ্মিরকে দুটি আলাদা অঞ্চলে ভাগ করার পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গত ৮ আগস্ট জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। রেডিও,টেলিভিশনে এক যোগে সম্প্রচারিত ভাষণে কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তকে ঐতিহাসিক আখ্যা দেন তিনি। বলেন, সংবিধানের ৩৭০ ধারা কাশ্মিরি জনগণকে স্বজনপ্রীতি,সন্ত্রাসবাদ ও বিভক্তি ছাড়া কিছুই দেয়নি। সংবিধানের ওই ধারা বাতিলের মধ্য দিয়ে কাশ্মির ও ভারতীয় জনগণের নতুন যুগের শুরু হবে বলে দাবি করেন মোদি। কাশ্মিরের পণ্য বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে যাবে বলেও দাবি করেন তিনি।

গত ৮ আগস্টের (এবারের অচলাবস্থার চতুর্থ দিন) কথা স্মরণ করে অরুন্ধতী লিখেছেন, ‘এদিন নরেন্দ্র মোদি মূলত উদযাপনমুখর ভারত ও অবরুদ্ধ কাশ্মির নিয়ে টেলিভিশনে ভাষণ দিয়েছিলেন। বক্তব্যে তিনি বুঝিয়েছিলেন কিভাবে কাশ্মিরে আবারও বলিউড চলচ্চিত্রের শ্যুটিং করা যাবে।ইন্টারনেট দুনিয়ায় বিভিন্ন নারী-বিদ্বেষী বক্তব্য এবং ‘কাশ্মির থেকে ভারতীয়রা এখন মেয়ে এনে বিয়ে করতে পারবে’-হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী মনোহর লাল খাট্টারের এমন বিতর্কিত মন্তব্যসহ নানা কুরুচিপূর্ণ উপায়ে কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসন বাতিলের ঘোষণা উদযাপন করেছে ভারত। অরুন্ধতী মনে করেন, এসবের মধ্যেও সবচেয়ে বড় আওয়াজটি হলো কাশ্মিরে টহলকৃত ও ব্যারিকেডে ঘেরা রাস্তা এবং সেখানকার  অবরুদ্ধ, নির্যাতিত, কাঁটাতারে ঘেরা, ড্রোনের নজরদারিতে থাকা এবং পুরোপুরি যোগাযোগব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন পরিস্থিতির মধ্যে বসবাসকারী প্রায় ৭০ লাখ কাশ্মিরির নিথর নীরবতা।

বাড়ি বাড়ি গিয়ে তুলে নেওয়া হচ্ছে কাশ্মিরি তরুণদের

স্টাফ রিপোর্টার:ভারত অধিকৃত কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসন বাতিল করে অঞ্চলটিকে দুই টুকরো করে দেওয়ার পর গত দুই সপ্তাহ ধরে সেখানে শত শত তরুণকে আটকের অভিযোগ উঠেছে।

সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, সেখানে কমপক্ষে চার হাজার মানুষকে বন্দি করা হয়েছে।কাশ্মিরি রাজনীতিবিদ শেহলা রশিদ দিল্লিতে টুইট করে জানিয়েছেন, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা রাতে বাড়িতে বাড়িতে হানা দিয়ে তরুণদের তুলে নিয়ে যাচ্ছে। তার ভাষায়, ‘তারা বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর করছে, খাবার ফেলে দিচ্ছে বা চালের বস্তায় তেল ঢেলে দিচ্ছে এবং শেষে বাড়ির তরুণদের তুলে নিয়ে যাচ্ছে।

তিনি লিখেছেন, সোপিয়ানের একটি আর্মি ক্যাম্পে চারজন তরুণকে ধরে নিয়ে গিয়ে জেরা ও নির্যাতনের সময় তাদের সামনে মাইক্রোফোন ধরে রাখা হয়েছিল – যাতে তাদের চিৎকারের আওয়াজ শুনে গোটা এলাকা ভয় পায়।

সোপিয়ানের আর্মি ক্যাম্পে কাশ্মিরি তরুণদের ওপর নির্যাতন চালিয়ে তার অডিও মহল্লায় শোনানোর খবর অবশ্য অস্বীকার করেছে ভারতীয় বাহিনী। আর শেহলা রশিদের বক্তব্যকে ‘গুজব’ আখ্যায়িত করে সুপ্রিম কোর্টে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দাবি করেছেন আইনজীবী অলক শ্রীবাস্তব। তার দাবি, ‘ওইসব কথিত নি র্যাতনের অডিও বা ভিডিও কোথায়? কিংবা নি র্যাতিতদের নাম, পরিচয় বা ঘটনা কোথায় ঘটেছে সেগুলোই বা কেন তিনি জানাতে পারছেন না?

ঠিক দুই সপ্তাহ আগের আরেক সোমবার মোদি সরকার পার্লামেন্টে কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের পর থেকে সেখানে এ যাবত কতজনকে আটক করা হয়েছে, তা নিয়ে একেবারেই মুখ খুলতে রাজি নয় প্রশাসন। সরকারি মুখপাত্র নির্দিষ্টভাবে কোনও সংখ্যা জানাতে অস্বীকার করলেও এএফপি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ম্যাজিস্ট্রেটকে উদ্ধৃত করে বলছে, আটকের সংখ্যা কোনও অবস্থাতেই চার হাজারের কম নয়।
স্কুল-কলেজে তালা:

জম্মু ও কাশ্মিরে সোমবার থেকে আংশিকভাবে স্কুল খোলার কথা থাকলেও বেশিরভাগ স্কুলই এদিন খোলেনি বা খুললেও শিশুরা আসেনি। শ্রীনগর থেকে বিবিসির রিয়াজ মাসরুর এদিন জানান, ‘আজ থেকে আবার স্কুল খোলার ঘোষণা হলেও শহরে তা কার্যকর করা হয়নি।’ তিনি জানান, ‘প্রথমে ঠিক হয়েছিল, ক্লাস এইট পর্যন্ত বাচ্চারা স্কুলে আসবে। পরে সেটাকে শুধু ক্লাস ফাইভ পর্যন্ত বাচ্চাদের জন্য চালুর সিদ্ধান্ত হয়। তবে কারফিউ-র ভেতর বাবা-মায়েরা শেষ পর্যন্ত ছোট ছোট শিশুদের স্কুলে পাঠানোর ঝুঁকি আর নেননি।’ ফলে প্রশাসন যা-ই দাবি করুক কাশ্মিরের পরিস্থিতি এখনও স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক দূরে – আর তারই মধ্যে শত শত তরুণকে আটক করা বা তুলে নেওয়ার খবর যথারীতি আরও আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে দিচ্ছে।
জামায়াত সমর্থকরাই টার্গেট?: 
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মীনাক্ষি গাঙ্গুলি বিবিসিকে জানান, পরিস্থিতি সত্যিই উদ্বেগজনক। তার ভাষায়, ‘দেখুন ডিটেনশন তো শুধু গত দুই সপ্তাহে নয়- তার বহু আগে থেকেই হচ্ছে। ইয়াসিন মালিক কিংবা হুরিয়াতের আরও বহু নেতাকে তো অনেকদিন ধরেই আটকে রাখা হয়েছে। সরকার যদিও বলছে যে, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তারা খুব অল্প কিছু লোককে আটক করেছে, আমরা কিন্তু বলব আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, তারা এখানে তাদের দায়িত্ব পালন করছে না। এসব ক্ষেত্রে সরকারের দায়িত্ব হলো স্বচ্ছতার সঙ্গে আটককৃতদের নামের তালিকা প্রকাশ করা, যাতে পরিবারের লোকজন জানতে পারে তারা কোথায়।

তিনি বলেন,তাদেরকে আইনি সহায়তা দেওয়া দরকার, ডিটেনশনের মেয়াদ যাতে অনির্দিষ্টকাল না-হয় সেটা যেমন দেখা দরকার- তেমনি ডিটেনশন ছাড়া অন্য কোনও ব্যবস্থা নেওয়া যেত কি না, সেটাও জাস্টিফাই করতে হয়। কিন্তু কাশ্মিরে ভারত সরকার কোনওটাই এখনও করেনি।
শ্রীনগরের লেখক ও গবেষক বশির আসাদ দিল্লিতে বিবিসি বাংলাকে বলেছেন,‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রচুর লোককে আটক করা হচ্ছে। মূলত নিশানা করা হচ্ছে জামায়াতে ইসলামীর সমর্থক ও ভাবধারার লোকজনকে। বস্তুত কাশ্মিরে জামায়াতকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল মাস দুয়েক আগেই। এখন তাদের সমর্থকদের জেলে আসা-যাওয়া লেগেই আছে।

জাকির নায়েক সীমা অতিক্রম করেছেন : মাহাথির

স্টাফ রিপোর্টার: বিতর্কিত ধর্মপ্রচারক ও ইসলামি বক্তা জাকির নায়েক মালয়েশিয়ায় রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়ে সীমা অতিক্রম করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ।

রবিবার তিনি বলেন, ‘মালয়েশিয়ায় জাকির নায়েকের রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত। সংখ্যালঘুদের নিয়ে সাম্প্রদায়িক বক্তব্য দিয়ে তিনি সীমা ছাড়িয়েছেন।’ মালয়েশিয়ার সংবাদমাধ্যম মালয়েশিয়া ইনসাইটের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।  অতীতে এই ইসলামি বক্তাকে মাহথির সমর্থন দিলেও এই প্রথম তিনি তার সমালোচনা করলেন।

মালয়েশিয়ায় ধর্ম ও জাতিগত ইস্যুকে স্পর্শকাতর বিবেচনা করা হয়। দেশটির ৬০ শতাংশ মানুষ মুসলমান আর বাকিরা চীন ও ভারতের নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী। এদের বেশিরভাগই সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষ। সম্প্রতি জাকির নায়েক মন্তব্য করেছেন, ভারতের সংখ্যালঘু মুসলমানদের চেয়ে মালয়েশিয়ায় থাকা সংখ্যালঘু হিন্দুরা শতগুণ বেশি অধিকার ভোগ করছে। মালয়েশিয়ায় বসবাসকারী হিন্দুরা দেশটির চেয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে সমর্থন করে বেশি।

তবে জাকির দাবি করেছেন, তার বক্তব্য সংবাদমাধ্যমে ভুলভাবে তুলে ধরা হয়েছে। হিন্দুদের নিয়ে জাকিরের এই মন্তব্যের জেরে তাকে মালয়েশিয়া থেকে বের করে দেওয়ার প্রসঙ্গটি আলোচনায় আসে। এ ঘটনায় তদন্ত করছে পুলিশের তদন্ত কমিটি। এখন এই তদন্তের ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করছে সরকার। তদন্তে সত্যতা পেলে তাকে মালয়েশিয়ায় বসবাসের অনুমতি বাতিল করা হবে। নাজিব রাজাকের বিগত সরকার জাকির নায়েককে স্থায়ী আবাসিকতার অনুমোদন দেয়। গত তিন বছর ধরে দেশটিতে বসবাস করছেন তিনি।

মালয়েশিয়ার সংবাদমাধ্যম মালয় মেইলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রবিবার প্রধানমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি জাকির নায়েক সংখ্যালঘুদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের মাধ্যমে জাতিগত বিদ্বেষ উসকে দেওয়া চেষ্টা করেছেন ‘এটা সম্পূর্ণ পরিষ্কার।প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘তাকে কে প্রথমে স্থায়ী আবাসিকতা দিয়েছেন, তা আমি জানি না। তবে তিনি স্থায়ী আবাসিক হিসেবে রাজনীতিতে অংশ নিতে পারেন না। তিনি ইসলাম নিয়ে কথা বলতে পারেন, ধর্ম প্রচার করতে পারেন। তবে চীনাদের ফেরত পাঠাতে বলে তিনি যা (রাজনীতি নিয়ে খেলা) করেছেন। এটা সম্পূর্ণ স্পষ্ট যে, তিনি জাতিগত রাজনীতি নিয়ে খেলতে চান।

এদিকে, মালয়েশিয়ার রাজ্য পারলিসের পর জাকির নায়েকের প্রকাশ্য বক্তৃতার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে কেদাহ রাজ্য কর্তৃপক্ষ। এই সপ্তাহে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। এর আগে জাকির নায়েকের ‘সাম্প্রদায়িক মন্তব্য’র জন্য ১৬-১৮ আগস্টে মালয়েশিয়ার একটি ইসলামি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে বাধা দিয়েছিল কর্তৃপক্ষ।
গত বুধবার মালয়েশিয়ার মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদকে দুই মন্ত্রী প্রস্তাব দেন,জাকির নায়েকের উসকানিমূলক বক্তব্যের জন্য তাকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো উচিত। তবে প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদকে উদ্ধৃত করে মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বার্নামা মঙ্গলবার রাতে জানিয়েছে, ভারতে মৃত্যুর আশঙ্কা থাকায় জাকির নায়েককে হয়ত সেখানে ফেরত পাঠানো হবে না। যদি অন্য কোনও দেশ তাকে নিতে চায় তাহলে তাদের স্বাগত জানানো হবে।প্রসঙ্গত,ভারতের আদালতে অর্থপাচার ও ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানোর মধ্য দিয়ে জিহাদি কার্যক্রম উদ্বুদ্ধ করার অভিযোগ রয়েছে জাকিরের বিরুদ্ধে। দিল্লির পক্ষ থেকে তাকে ফেরত পাঠানোর আনুষ্ঠানিক আবেদন করা হলে ২০১৮ সালে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ এ ব্যাপারে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন।

কাশ্মির সীমান্তে গোলাগুলিতে ৫ জ নয় ২৫ জন ভারতীয় সেনা নিহত হয়: ভারতীয় কমান্ডার

স্টাফ রিপোর্টার: ভারতের ৭৩তম স্বাধীনতা দিবসে কাশ্মির সীমান্তে চরম গো লাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে পাকিস্তানের তিন ও ভারতের পাঁচ সেনা সদস্য নি হত হয়েছে বলে দাবি করেছে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। দেশটির সেনা মুখপাত্রের দাবি, বৃহস্পতিবার ভারতীয় বাহিনী কাশ্মির সীমান্তে গো লাবর্ষণ বাড়ালে জবাব দেয় তারা। অবশ্য ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআই জানিয়েছে, কাশ্মিরে সেনা নি হতের খবর অস্বীকার করেছে ভারতের সেনাবাহিনী। আর কাশ্মির পুলিশের বরাতে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, গো লাগুলির ঘটনায় স্থানীয় দুই বেসামরিক ব্যক্তিও নি হত হয়েছেন।

অথচ কাশ্মীর সিমান্তে কর্মরত একজন ভারতীয় সেনা কমান্ডার তার টুইটারে বলেছে, ভারতের ২৫ জওয়ান মৃ ত্যুবরণ করেছে।ভারতীয় মিডিয়া এবং সরকয়ার এই ব্যাপারটি অস্বীকার করেছে।তাই তিনি পদত্যাগ করবেন।

১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ উপনিবেশ থেকে স্বাধীনতা লাভের পর ভারত-পাকিস্তান তিনটি যু দ্ধের মধ্যে দুটি অনুষ্ঠিত হয়েছে কাশ্মির ইস্যুতে। গত ফেব্রুয়ারিতে পুলওয়ামায় ভারতীয় বাহিনীর ওপর আ ত্মঘাতী হা মলার পর তৃতীয় যু দ্ধের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছায় দুই দেশ। গত ৫ আগস্ট (সোমবার) ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের মধ্য দিয়ে কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসনের অধিকার ও বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেয় বিজেপি নেতৃত্বাধীন ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। এর প্র তিবাদে ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক হ্রাস করাসহ ইসলামাবাদে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারকে বহিষ্কার করেছে পাকিস্তান। একইসঙ্গে সব ধরনের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি স্থগিত ও ভারতের স্বাধীনতা দিবসকে কা লো দিবস হিসেবে পালন করছে পাকিস্তান।

বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের স’শস্ত্র বাহিনীর প্রধান মুখপাত্র মেজর জেনারেল আসিফ গফুর এক টুইট বার্তায় বলেন, ভারতীয় সেনাবাহিনী কাশ্মিরের নিয়ন্ত্রণ রেখায় গো লাবর্ষণ বাড়িয়েছে। এর আগে পাকিস্তান আন্তবাহিনী জনসংযোগ দফতরের টুইট বার্তায় বলা হয়, ‘জম্মু কাশ্মিরের বি পজ্জনক পরিস্থিতি থেকে মনোযোগ সরানোর চেষ্টায় ভারতীয় সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রণ রেখায় গো লাবর্ষণ বাড়িয়েছে। ৩ পাকিস্তানি সেনা শাহাদাৎ বরণ করেছে। পাকিস্তান সেনাবাহিনীও কার্যকর জবাব দিয়েছে। ৫ ভারতীয় সেনাকে হ ত্যা করা হয়েছে, বহু আহত হয়েছে, বাঙ্কার ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। থেমে থেমে গো লাবর্ষণ এখনও চলছে’।

পাকিস্তানি সেনা কর্তৃপক্ষের টুইট বার্তার পরে আরেক টুইট বার্তায় ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআই জানিয়েছে, ৫ সেনা নিহতের খবর অস্বীকার করেছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। তবে বার্তাটি সংস্থাটির আরেক টুইট বার্তায় নিজস্ব সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে নিয়ন্ত্রণ রেখার উরি ও রাজৌরি সেক্টরে যু দ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনায় পাকিস্তানের ৩ সেনা সদস্য নি হত হয়েছে।

এদিকে পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরের পুলিশ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার গোলাগুলির ঘটনায় দুই বেসামরিক ব্যক্তি নি হত হয়েছে। পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরের মুজাফফরাবাদ থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক জানিয়েছেন, সীমান্ত এলাকায় উ ত্তেজনা চরমে রয়েছে। তিনি বরেন, এখানকার বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ঘুরে দেখেছি, সেখানকার মানুষ আমাদের বলেছেন সারাক্ষণ ভী তির মধ্যে এখানে স্বাভাবিক জীবন যাপন করা খুবই কঠিন।

কাশ্মিরের পরিস্থিতি বিপজ্জনক, ভারতের একতরফা সিদ্ধান্ত চলবেনা: নিরাপত্তা পরিষদে চীন

স্টাফ রিপোর্টার: জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের রুদ্ধদ্বার বৈঠকে কাশ্মিরের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগের কথা জানিয়েছে চীন। শুক্রবার অনুষ্ঠিত বৈঠকে চীন কাশ্মির পরিস্থিতিকে ভয়াবহ ও বিপজ্জনক বলে উল্লেখ করেছে। চীনা কূটনীতিক নিরাপত্তা পরিষদকে জানিয়েছে, ভারত সরকারের এমন ধরনের একতরফা সিদ্ধান্ত ‘বৈধ নয়’। বৈঠক শেষে এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানিয়েছে চীন।

গত ৫ আগস্ট ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের মধ্য দিয়ে কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসনের অধিকার ও বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেয় বিজেপি নেতৃত্বাধীন ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। লাদাখ ও কাশ্মিরকে দুটি পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করতে পার্লামেন্টে বিল আনা হয়। বিরোধীরা বিষয়টি নিয়ে সরব হলেও তাদের ঐক্যবদ্ধ বিরোধিতার অভাবে ভারতের লোকসভা ও রাজ্যসভা—দুই কক্ষেই পাস হয়ে যায় বিলটি।
জম্মু-কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসন ও বিশেষ অধিকার বাতিলে জাতিসংঘে বৈঠকের আবেদন করেছিল পাকিস্তান। কিন্তু এতে কাজ না হওয়ায় দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মুহাম্মদ কুরেশি চিঠি দেন নিরাপত্তা পরিষদে। নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতি জোয়ানা রোনেকাকে এই চিঠি দেন জাতিসংঘে নিযুক্ত পাকিস্তানের স্থায়ী প্রতিনিধি মালেহা লোদি। পরে কুরেশি সমর্থন আদায়ে চীন সফর করেন।

নিরাপত্তা পরিষদের এক কূটনীতিক জানান, বৈঠকটি রুদ্ধদ্বার হওয়ার কারণে পাকিস্তান ও ভারত তাতে অংশগ্রহণ করেনি। এই ধরনের বৈঠক সম্প্রচার বা সাংবাদিকদের প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না।
এক সংবাদ সম্মেলনে চীন দাবি করে, সংবিধান সংশোধন করে ভারত সীমান্তে শান্তি বজায় রাখার দ্বিপক্ষীয় চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। চীনা কূটনীতিক বলেন, এই মুহূর্তে কাশ্মিরের পরিস্থিতি বিপজ্জনক। কাশ্মিরের দীর্ঘদিনের অবস্থা ভারতের সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়ে গেছে।

ভারতকে কাশ্মির ইস্যুতে একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে চীনা কূটনীতিক বলেন, এমন একতরফা সিদ্ধান্ত গ্রহণ বৈধ নয়। বিষয়টি জাতিসংঘের চার্টার অনুসারে সমাধান হওয়া উচিত।
জাতিসংঘে নিযুক্ত পাকিস্তানের স্থায়ী প্রতিনিধি মালিহা লোদি নিরাপত্তা পরিষদে কাশ্মির ইস্যুতে বৈঠক আয়োজনকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং বৈঠক আয়োজনে চীনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, আজ কাশ্মিরি মানুষের কথা শোনা হয়েছে। তারা একা না। জম্মু-কাশ্মিরের শান্তিপূর্ণ সমাধানে আমরা প্রস্তুত। এই বৈঠকে প্রমাণিত হয়েছে জম্মু-কাশ্মির ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়। চীনা দূত মানবাধিকার পরিস্থিতির ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। এটাই একমাত্র ও শেষ পদক্ষেপ না।
সূত্র বাংলা ট্রিবিউন

২২ আগস্ট শুরু হচ্ছে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন?

স্টাফ রিপোর্টার:
সেনা নিপীড়নের মুখে রাখাইন থেকে পালিয়ে আসা হাজার হাজার রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিতে আগামী সপ্তাহে নতুন প্রচেষ্টা শুরু করছে মিয়ানমার ও বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার উভয় দেশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন সম্প্রতি বাংলাদেশের হস্তান্তর করা ২২ হাজার রোহিঙ্গার তালিকা থেকে  ৩ হাজার ৫৪০ জনকে ফিরে যেতে দেওয়ার কথা জানিয়েছে মিয়ানমার।

দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন আগামী ২২ আগস্ট এসব রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছেন তারা। বাংলাদেশের এক ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানিয়েছে, ছোট পরিসরে নতুন করে প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে কাউকে জোর করে ফেরত পাঠানো হবে না।

জাতিগত নিধন ও গণহত্যার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ-মিয়ানমার প্রত্যাবাসন চুক্তি সম্পন্ন হয়। একই বছরের ৬ জুন নেপিদোতে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে মিয়ানমার ও জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর মধ্যেও সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী গত বছরের ১৫ নভেম্বর রোহিঙ্গা প্রত্যর্পণের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। তবে আবারও হামলার মুখে পড়ার আশঙ্কায় রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ফিরতে অস্বীকৃতি জানানোয় ব্যর্থ হয় ওই উদ্যোগ।

রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে নতুন করে উদ্যোগের অংশ হিসেবে গত মাসে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র সচিব মিন্ট থোয়ের নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধি দল। ১৫ সদস্যের দলটি দুই দিন ধরে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে আলোচনা করে। এসব বৈঠকে রোহিঙ্গাদের তরফে ফিরে যাওয়ার ক্ষেত্রে মিয়ানমারের নাগরিকত্ব ও চলাফেরায় স্বাধীনতার দাবি পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, প্রায় এক বছর আগে নেওয়া উদ্যোগ ব্যর্থ হওয়ার পর নতুন করে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের কর্মকর্তারা। মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মিয়ান্ট থো জানিয়েছেন, ‘২২ আগস্ট ৩ হাজার ৫৪০ জন রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছি আমরা’।

বাংলাদেশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন ছোট পরিসরে প্রত্যার্পণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে কাউকে জোর করে ফেরত পাঠানো হবে না। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ কেবল নিরাপদ, স্বেচ্ছায়, মর্যাদাপূর্ণ ও স্থায়ী প্রত্যর্পণ ছাড়া আর কিছুই চায় না।’
সূত্র বাংলা ট্রিবিউন

পুরো জাতি ভারতের বিরুদ্ধে লড়াই করবে : মোদিকে ইমরানের হুঁশিয়ারি!

স্টাফ রিপোর্টার:
পাকিস্তানের অভ্যন্তরে ভারত কোনও পদক্ষেপ নিলে তার কড়া জবাব দেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরের পার্লামেন্টের বিশেষ অধিবেশনে যোগ দিয়ে কাশ্মির ইস্যুতে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সতর্ক করেন ইমরান।

তিনি বলেন, কাশ্মিরের পর ভারত পাকিস্তানেও সমস্যা তৈরি করতে পারে। ইমরান বলেন, এটা কাশ্মিরেই থামবে না-এই ঘৃ ণাবাদী মতাদর্শ পাকিস্তানের দিকেও ধেয়ে আসতে পারে।
১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ উপনিবেশ থেকে স্বাধীনতা লাভের পর ভারত পাকিস্তান তিনটি যুদ্ধের মধ্যে দুটি অনুষ্ঠিত হয়েছে কাশ্মির ইস্যুতে।

গত ফেব্রুয়ারিতে পুলওয়ামায় ভারতীয় বাহিনীর ওপর আত্মঘাতী হামলার পর তৃতীয় যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছায় দুই দেশ। গত ৫ আগস্ট (সোমবার) ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের মধ্য দিয়ে কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসনের অধিকার ও বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেয় বিজেপি নেতৃত্বাধীন ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। এর আগে থেকেই কঠোর নিরাপত্তার ঘেরাটোপে বন্দি রয়েছে কাশ্মিরের বাসিন্দারা। মোবাইল ও ইন্টারনেট পরিষেবা, দোকানপাট, স্কুল-কলেজ বন্ধ রাখা হয়েছে। জনশুন্য রাস্তায় টহল দিচ্ছে সশস্ত্র সেনারা।

কাশ্মিরে ভারতের নেওয়া পদক্ষেপ পাকিস্তানের দিকেও ধাবিত হতে পারে আশঙ্কা প্রকাশ করেন ইমরান খান। পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরের পার্লামেন্টের ভাষনে তিনি বলেন, আমাদের কাছে তথ্য আছে আর আমরা জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির দুটি বৈঠক করেছি। পাকিস্তান সেনাবাহিনী পূর্ণ অবগত রয়েছে যে ভারত আজাদ জম্মু কাশ্মিরে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। পুলওয়ামার ঘটনার পরে বালাকোটে নেওয়া ব্যবস্থার মতো এবার তাদের একই ধরণের অশুভ পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, দখলকৃত কাশ্মির থেকে বিশ্বের মনোযোগ সরাতে তারা আজাদ জম্মু কাশ্মিরে ব্যবস্থা নিতে চায়।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে উদ্দেশ্য করে ইমরান বলেন, আপনার প্রতি আমার বার্তা হলো- আপনি ব্যবস্থা নিন আর আমরা প্রত্যেকটি ইটের জবাব পাথর ছুঁড়ে দেব। তিনি বলেন, আমাদের সেনাবাহিনী প্রস্তুত, কেবল সেনাবাহিনী নয় বরং পুরো জাতি সেনাবাহিনীর পাশাপাশি লড়াই করবে। ইমরান বলেন, আমরা প্রস্তুত থাকবো, আপনারা যা করেই প্রতিক্রিয়া দেখান না কেন আমরা এর শেষ পর্যন্ত যাবো।
সূত্র বাংলা ট্রিবিউন

কাশ্মিরকে অশান্ত করার চেষ্টা করছেন রাহুল: গভর্নর

স্টাফ রিপোর্টার:
এবার কংগ্রেসের সদ্য সাবেক সভাপতি রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে কাশ্মিরকে অশান্ত করার অভিযোগ তুললেন রাজ্যের গভর্নর সত্যপাল মালিক।

পাল্টাপাল্টি প্রতিক্রিয়ার এক পর্যায়ে এসে সত্যপাল মালিক বলেছেন, ভুয়া খবরে প্ররোচিত হয়ে রাহুল কাশ্মির সংকটের রাজনীতিকরণ করছেন। কাশ্মিরের সত্যিকারের পরিস্থিতি জানতে তাকে ভারতীয় টেলিভিশন চ্যানেলগুলো দেখার পরামর্শ দিয়েছেন কাশ্মিরের গভর্নর।

শুক্রবার জুমার নামাজের পর কাশ্মিরের কয়েকটি স্থানে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লে টিয়ার গ্যাস ও ছররা গুলির তাণ্ডব চালানো হয়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে বিক্ষোভ ও সহিংসতার খবর এলেও তা অস্বীকার করছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। শনিবার কংগ্রেসের সদ্য সাবেক সভাপতি রাহুল গান্ধী সহিংসতার কথা তুললে সোমবার তার বক্তব্য নাকচ করে দেন কাশ্মিরের গভর্নর সত্য পাল মালিক।

তিনি বলেন, ‘আমি রাহুল গান্ধীকে এখানে আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছি। আমি আপনাকে একটি বিমান পাঠাতে পারি, যাতে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে কথা বলতে পারেন। আপনি একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি আপনার এভাবে কথা বলা উচিত নয়’।

মঙ্গলবার এক টুইট বার্তায় সত্যপালের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন রাহুল। তিনি লিখেছেন, ‘আপনার আমন্ত্রণ গ্রহণ করছি। বিরোধীদের একটি প্রতিনিধি দল এবং আমি জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ যাব। আমাদের কোনও বিমান চাই না। কিন্তু দেখবেন আমাদের যেন সাধারণ মানুষের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়। যে কোনও জায়গা যেতে দেওয়া হয়। আমরা ওখানকার রাজনৈতিক নেতা, সাধারণ মানুষ ও জওয়ানদের সঙ্গে কথা বলতে চাই।’

ওই টুইটের জবাবে মালিক দাবি করেন, জম্মু-কাশ্মিরের বিষয়টি ইচ্ছাকৃতভাবে রাজনীতিকরণ করছেন রাহুল গান্ধী। তার অভিযোগ, এ ধরনের আচরণ করে পরিস্থিতি অশান্ত করে তুলতে চাইছেন রাহুল।

সত্যপালের দাবি,  ভুয়া খবর বিশ্বাস করে এ ধরনের মন্তব্য করছেন রাহুল গান্ধী। তিনি রাহুলের উদ্দেশে বলেন, ‘কাশ্মির সম্পর্কে জানতে হলে ভারতীয় চ্যানেলগুলো দেখুন। গত সপ্তাহে এখানে ২০টি টিভি চ্যানেল ছিল। তাদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি যাচাই করে, তারপর কথা বলা উচিত তার।’

গত ৫ আগস্ট (সোমবার) ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের মধ্য দিয়ে কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসনের অধিকার ও বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেয় বিজেপি নেতৃত্বাধীন ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। ওই দিন সকাল থেকে জম্মু-কাশ্মিরের গ্রীষ্মকালীন রাজধানী শ্রীনগর কার্যত অচলাবস্থার মধ্যে রয়েছে। দোকান, স্কুল, কলেজ ও অফিস বন্ধ রাখা হয়েছে। কোনও গণপরিবহন নেই। ইন্টারনেট-মোবাইল পরিষেবাও সীমিত। শুক্রবার জুমার
নামাজ ও ঈদকে সামনে রেখে কারফিউ শিথিলের ঘোষণা দিয়েও রবিবার তা পুনর্বহাল করা হয়।
সূত্র বাংলা ট্রিবিউন