গত ২৫ দিন ধরে ধৈর্য ধরে সব শুনছি, দেখছি

স্টাফ রিপোর্টার: যুক্তরাষ্ট্রে অর্থ পাচা রের অভি যোগ অস্বী কার করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন বিকল্পধারা বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য মাহী বি চৌধুরী। রবিবার (২৫ আগস্ট) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদক প্রধান কার্যালয়ে তাকে করা জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ দাবি করেন।

মাহী বি চৌধুরীকে এদিন সাড়ে ৫ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করেন দুদক কর্মকর্তারা। সকাল সাড়ে ১০টায় শুরু হয়ে এ জিজ্ঞাসাবাদ শেষ হয় বিকাল ৪টা ১০ মিনিটে।মাহি বলেন, ‘আমি ষড়য ন্ত্রের শি কার। কিছু মানুষ আছেন যাদের রাজনীতিতে কিছুই দেওয়ার নেই, তারাই ষড় যন্ত্র করছেন।’ জাতীয় নির্বাচনের আগেই তার বি রুদ্ধে ষড় যন্ত্রের শুরু বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘বিদেশে অর্থ পাচারের প্রশ্নই আসে না। বিদেশে আমার কোনও অর্থ থেকে থাকলে তা অবশ্যই বৈধভাবে আয় করা। আমি মানি লন্ডা রিং করিনি। অ বৈধ আয়ে কোনও সম্পদও গড়িনি।’ মাহী বলেন, দুদক তার বি রুদ্ধে ওঠা অভিযো গের তদন্ত করেছে। তারা তাকে অভি যুক্ত করেননি।তার বি রুদ্ধে একতরফাভাবে মিডিয়া ট্রায়াল হচ্ছে দাবি করে বিকল্পধারার প্রেসিডিয়াম সদস্য আরও বলেন, ‘এই প্রক্রিয়ায় চরিত্রহ নন চলছে।

গত ২৫ দিন ধরে ধৈর্য ধরে সব শুনছি, দেখছি।’ দুদককে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে হবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য এটা জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি। মাহী বলেন, ‘দুদক আমাকে ডেকেছে। এতে আমি বিব্রত নই। তারা আমাকে বিব্রত করেননি। তারা আন্তরিক ছিলেন।’আগামী ২৭ আগস্ট দুদকের তলব বিষয়ে সংবাদ সম্মলনে বিস্তারিত তুলে ধরা হবে জানিয়ে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদের ব্যাখ্যা দেন। বলেন, ‘খুটিনাটি অনেক বিষয় জানতে চেয়েছেন তারা। আয়-ব্যয়ের হিসাব, ১০ বছরের ট্যাক্সের নথিপত্র নিয়ে কথা হয়েছে। প্রতিটি বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ। সব প্রশ্নেরই জবাব দিয়েছি।’ তিনি নিজের সবকিছুকে বৈধ দাবি করেন

মীর কাসেম আলীর ১৪টি ফ্ল্যাট-দোকানের মালিকানা পরিবর্তন

স্টাফ রিপোর্টার: সরকারের নিবন্ধন পরিদফতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা ক মীর কাসেম আলীর সম্পদ হস্তান্তর করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অগোচরে মালিকানা পরিবর্তানের এ ঘটনা ঘটেছে।
বাংলা ট্রিবিউনের অনুসন্ধানে মীর কাসেমের মালিকাধীন প্রতিষ্ঠান কেয়ারী লিমিটেডের ৩টি ফ্ল্যাট ও ১১টি দোকান হস্তান্তরের তথ্য মিলেছে। ধানমন্ডির সাতমসজিদ রোডের ‘কেয়ারী ক্রিসেন্ট’ ভবনে [প্লট-১৪৮জি (পুরাতন), ৬০ (নতুন); রোড নং ১৩৮ (পুরাতন), ২এ (নতুন)] এসব ফ্ল্যাট ও দোকানের অবস্থান। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মীর কাসেমের সম্পদ হস্তান্তরে তৎপর ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন অধিশাখা-৭-এর দুই কর্মকর্তা। সম্পদ হস্তান্তর ও নামজারির বিষয়ে একের পর এক নির্দেশ জারি করেন তারা। গত বছরের ২৯ নভেম্বর থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে নির্দেশ জারি করে মীর কাসেমের ১৪টি ফ্ল্যাট ও ১১টি দোকান হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হয়।

এ বিষয়ে জানতে উন্নয়ন অধিশাখা-৭-এর উপসচিব এস এম নজরুল ইসলাম ও উপসচিব মো. আব্দুল ওয়াদুদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সফল হওয়া যায়নি। তাদের মুঠোফোনে দফায় দফায় ফোন করে এবং বার্তা পাঠিয়েও সাড়া মেলেনি।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এ ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ‘যুদ্ধাপরাধী মীর কাসেমের সম্পদ হস্তান্তর, বিক্রি ও দলিল রেজিস্ট্রিতে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তারপরও কীভাবে  হস্তান্তর হচ্ছে তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তিনি বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধা ও গণমানুষের দাবি যুদ্ধাপরাধীদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা করা হোক। সরকারের পরিকল্পনাও সেরকম। এই পরিকল্পনায় কারা বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে, যুদ্ধাপরাধীদের সম্পদ হস্তান্তরে কারা সহযোগিতা করছে, তা খুঁজে বের করা হবে।’

গত বছরের ২৪ এপ্রিল ঢাকা জেলা রেজিস্ট্রার দ্বীপক কুমার সরকার ‘মীর কাসেম আলী ও তার মালিকাধীন প্রতিষ্ঠানের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ হস্তান্তর এবং দলিল রেজিস্ট্রেশন না করা প্রসঙ্গে’ নিবন্ধন পরিদফতরের মহাপরিদর্শকের কাছে চিঠি পাঠান। ওই চিঠির অনুলিপি আইনমন্ত্রী ও আইন সচিবের একান্ত সচিবদেরও পাঠানো হয়।

চিঠিতে বলা হয়, যুদ্ধাপরাধী মীর কাসেম আলী কেয়ারী লিমিটেডসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, জমি ও স্থাপনার মালিক। এসব প্রতিষ্ঠান ও সম্পদ হস্তান্তর, দলিল রেজিস্ট্রেশন না করাসংক্রান্ত সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দেওয়ার অনুরোধ করা হলো।

চিঠিতে আরও বলা হয়, ২০১৮ সালের ২২ ও ২৩ এপ্রিল কেয়ারী লিমিটেডের কিছু সম্পত্তি উত্তরা সাব রেজিস্ট্রি অফিসে রেজিস্ট্রেশনের জন্য উপস্থাপিত হয়। বিষয়টি জানার পর আইন মন্ত্রণালয়ের সচিবকে তা জানানো হয়। তিনি যুদ্ধাপরাধীদের মালিকাধীন প্রতিষ্ঠানের জমি রেজিস্ট্রেশন থেকে বিরত থাকতে সাব রেজিস্ট্রারদের নির্দেশ দিতে বলেন। পরে আইনমন্ত্রীকেও জানানো হয়। মন্ত্রীও যুদ্ধাপরাধীদের সম্পদ হস্তান্তর, দলিল রেজিস্ট্রি না করার নির্দেশ দেন।

২০১৮ সালের ১৯ জুন নিবন্ধন পরিদফতরের মহাপরিদর্শক খান মো. আবদুল মান্নান ‘যুদ্ধাপরাধী মীর কাসেম আলী ও তার মালিকাধীন প্রতিষ্ঠানের জমি বিক্রি বা কোনও প্রকল্প হস্তান্তর না করা প্রসঙ্গে’ আদেশ জারি করেন। আদেশটি সারাদেশের সাব রেজিস্ট্রি অফিস, রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানি অ্যান্ড ফার্মস (যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মগুলোর পরিদফতর) ও মানি এক্সচেঞ্জে পাঠানো হয়।

এই আদেশ উপেক্ষা করে কীভাবে মীর কাসেমের সম্পদ হস্তান্তরে একের পর এক নির্দেশ জারি করা হচ্ছে—তা জানতে মহাপরিদর্শক খান মো. আব্দুল মান্নানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে বাংলা ট্রিবিউিন। তার কার্যালয়ে এবং মুঠোফোনে যোগাযোগ করেও কোনও জবাব পাওয়া যায়নি।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত বছরের ১০ ডিসেম্বর গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন অধিশাখা-৭-এর উপসচিব এস এম নজরুল ইসলাম ধানমন্ডির সাতমসজিদ রোডের (প্লট-১৪৮জি (পুরাতন), ৬০ (নতুন); রোড নং ১৩৮ (পুরাতন), ২এ (নতুন)] ৯ কাঠা ৪ ছটাক জমির ওপর নির্মিত ‘কেয়ারী ক্রিসেন্ট’ নামে ১৩ তলা ভবনের ১২ তলায় ১,০৮৪ বর্গফুটের দুটি ফ্ল্যাট (এ-১১ ও এ-১২) হস্তান্তরের আদেশ জারি করেন। ওই আদেশে দাতা হিসেবে কেয়ারী লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শামসুল হুদা এবং গ্রহীতা হিসেবে খন্দকার হাবিবার নাম উল্লেখ করা হয়।
ধানমন্ডি সাব রেজিস্ট্রি অফিস জানায়, ফ্ল্যাট দুটি হস্তান্তর করা হয় গত ২৯ জানুয়ারি। সাব রেজিস্ট্রার ছিলেন মো. লুৎফর রহমান মোল্লা। হস্তান্তরের আর্থিক মূল্য দেখানো হয় ৫৬ লাখ ৮৬ হাজার টাকা। অথচ ফ্ল্যাট দুটির বাজারমূল্য ২ কোটি টাকার বেশি।
জানতে চাইলে সাব রেজিস্ট্রার লুৎফর রহমান মোল্লা বলেন, “সম্পদের কোথাও ‘যুদ্ধাপরাধীর সম্পদ’ লেখা নেই। তাই দলিল রেজিস্ট্রিতেও বাধা নেই।”

১১ দোকান ও ১টি ফ্ল্যাট বিক্রি 
কেয়ারী ক্রিসেন্টের আরও ১১টি দোকান ও ১টি ফ্ল্যাট হস্তান্তরের নির্দেশ দেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন ও অধিশাখা-৭-এর উপসচিব মো. আব্দুল ওয়াদুদ ও উপসচিব এস এম নজরুল ইসলাম।
গত বছরের ২৯ নভেম্বর উপসচিব মো. আব্দুল ওয়াদুদ কেয়ারী লিমিটেডের ভবনের ৪১৭, ৩৬৭, ৩০৮, ৫৩৩ ও ৪১৩ বর্গফুটের ৫টি দোকান হস্তান্তর ও নামজারির নির্দেশ দেন। নির্দেশে দাতা হিসেবে কেয়ারী লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শামসুল হুদা ও গ্রহীতা হিসেবে শাহিন কবিরের নাম উল্লেখ করা হয়।
গত ৩ জানুয়ারি ৪৪৭, ১৯০ ও ২৪৭ বর্গফুটের আরও ৩টি দোকান হস্তান্তর ও নামজারির নির্দেশ দেন উপসচিব এস এম নজরুল ইসলাম। এতে দাতা হিসেবে শামসুল হুদা এবং গ্রহীতা হিসেবে আমির হোসাইন, কাজী আহমদ ফারুক ও মোহাম্মদ বোরহান উদ্দীন রব্বানীর নাম উল্লেখ করা হয়।

৯ জানুয়ারি উপসচিব নজরুল ইসলাম ১৮৩ বর্গফুটের একটি দোকান হস্তান্তর ও নামজারির নির্দেশ দেন। এতে দাতা হিসেবে শামসুল হুদা ও গ্রহীতা হিসেবে মাহবুবুল হকের নাম উল্লেখ করা হয়।
২২ জানুয়ারি উপসচিব নজরুল ইসলাম ২৫২ ও ৩৩৯ বর্গফুটের দুটি দোকান হস্তান্তর ও নামজারির নির্দেশ দেন। এতে দাতা হিসেবে শামসুল হুদা ও হস্তান্তরগ্রহীতা হিসেবে রাই হরন দেবনাথের নাম উল্লেখ করা হয়।

১৪ ফেব্রুয়ারি উপসচিব নজরুল ইসলাম ১,৬৭১ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট হস্তান্তর ও নামজারির নির্দেশ দেন। এতে দাতা হিসেবে শামসুল হুদা ও গ্রহীতা হিসেবে কাজী মো. রাশেদুল হাসানের নাম উল্লেখ করা হয়।
হস্তান্তর দাতা কেয়ারী লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামসুল হুদার বক্তব্য জানতে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে বাংলা ট্রিবিউন। তবে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

প্রসঙ্গত, জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য মীর কাসেম আলী ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় ইসলামী ছাত্রসংঘের চট্টগ্রাম শাখার সাধারণ সম্পাদক ও আল বদর বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণূ নেতা ছিলেন তিনি। জামায়াতের অর্থের জোগানদাতা মীর কাসেম ছিলেন কেয়ারী গ্রুপের মালিক। ইসলামী ব্যাংক, ইবনে সিনা ট্রাস্ট, দিগন্ত মিডিয়াসহ বেশ কিছু ব্যবসায়িক গ্রুপের উদ্যোক্তা ও অংশীদারও ছিলেন তিনি।

২০১২ সালের ১৭ জুন অভিযোগে গ্রেফতার হন মীর কাসেম। ২০১৩ সালের ৫ সেপ্টেম্বর তার বিরুদ্ধে ১৪টি অভিযোগ গঠন করে বিচারকাজ শুরু করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ২০১৪ সালের ২ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালের রায়ে দুটি অভিযোগে তার ফাঁসি ও ৮টি অভিযোগে কারাদণ্ড হয়। ২০১৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বর গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
ছবি: সাজ্জাদ হোসেন সূত্র বাংলা ট্রিবিউন

‘রোহিঙ্গারা ফেরত না যাওয়ার পেছনে এনজিওদের ভূমিকা রয়েছে’

স্টাফ রিপোর্টার: রোহিঙ্গা শিবির এলাকায় কর্মরত দেশি-বিদেশি কিছু বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) কারণে রোহিঙ্গারা মিয়ানমার ফেরত যেতে আগ্রহী হচ্ছে না বলে সংসদীয় কমিটিকে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে কমিটি রোহিঙ্গা শিবিরে কাজ করা এনজিওগুলোর কার্যক্রম মনিটরিং করার সুপারিশ করেছে।এদিকে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের প্রথম দিন বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) একজনও ফিরে রাজি না হলেও সংসদীয় কমিটি তাদের রাজি করানোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার পরামর্শ দিয়েছে।

এক্ষেত্রে মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য রোহিঙ্গা নেতাদের সমন্বয়ে একটি প্রতিনিধি দলকে আগে পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।বৃহস্পতিবার বিকেলে সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে কমিটি সভাপতি মুহাম্মদ ফারুক খান সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব তথ্য জানান। বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি বলেন, কিছু কিছু এনজিও রোহিঙ্গাদের বোঝাচ্ছে তারা যেন নিজ দেশে না যায়, নাগরিকত্বসহ কিছু শর্ত পূরণ না হলে যেন তারা না ফিরে যায়।

এ কারণে আমরা এসব এনজিওর কাজ মনিটরিং করে তাদের চিহ্নিত করতে বলেছি।ফারুক খান বলেন, প্রথম দিনে ২০০ থেকে ৩০০ জন ফিরে যাওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। কিন্তু মিয়ানমারের পক্ষ থেকে ফেরত নিতে রাজি হওয়ার তালিকায় ৩ হাজার ৪৫০ জনের নাম রয়েছে। বাকিদের ফেরানোর চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।তিনি বলেন, রোহিঙ্গারা যাতে দেশে ফেরার বিষয়ে আস্থা ফিরে পায় সেজন্য তাদের নেতাদের সমন্বয়ে একটি প্রতিনিধি দল আগে পাঠানো যেতে পারে বলে সংসদীয় কমিটি মনে করে। কারণ, মিয়ানমারেও জাতিসংঘের অফিস আছে। এখানকার মতো ওপাশেও চীনের প্রতিনিধি দলের সদস্য রয়েছেন। তারাও সেখানে কাজ করুক। ফারুক খান বলেন, ‘মানবিক কারণে তাদের বাংলাদেশ আশ্রয় দিয়েছে। এর মানে এই নয় তারা আমাদের জিম্মি হিসেবে ব্যবহার করবে। তারা যাতে দেশে ফিরতে ভরসা পায় সেজন্য তাদের নেতাদের প্রতিনিধি দলকে মিয়ানমার ঘুরিয়ে আনার সুপারিশ করা হয়েছে।’এদিকে সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে রোহিঙ্গাদের জন্য একটি ‘সেফ জোন’ সৃষ্টির প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে আলোচনার জন্য স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম সফরের জন্য মন্ত্রণালয়কে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।

বৈঠকে মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত বিদেশে অবস্থানরত চিহ্নিত বাংলাদেশি দালাল চক্র দেশে ফেরার সঙ্গে সঙ্গে আইনের আওতায় আনার সুপারিশ করা হয়।বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশের দূতাবাসে ভিসা পেতে বাংলাদেশি নাগরিক, বিশেষ করে সিনিয়র নাগরিকদের হয়রানি রোধে মন্ত্রণালয়কে কার্যকরী ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।বৈঠকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জন্য এ অর্থবছরে বাজেট বৃদ্ধি পাওয়ায় কমিটির পক্ষ থেকে সন্তোষ প্রকাশ করা হয়। বরাদ্দ টাকা যাতে সফল ও যথাযথভাবে ব্যয় করা হয়, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয়কে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।বৈঠকের শুরুতে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ তার পরিবারের নিহত সদস্য এবং ২১ আগস্টের গ্রে নেড হাম লায় নি হতদের স্মরণে শোক প্রকাশ করা হয় এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়।ফারুক খানের সভাপতিত্ব বৈঠকে অংশ নেন কমিটির সদস্য ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, নুরুল ইসলাম নাহিদ, গোলাম ফারুক খন্দকার প্রিন্স, আব্দুল মজিদ খান, কাজী নাবিল আহমেদ এবং নিজাম উদ্দিন জলিল (জন)।

বস্তিতে আ গুন লাগে না লাগিয়ে দেওয়া হয়

স্টাফ রিপোর্টার: বস্তিতে আ গুন লাগে না লাগিয়ে দেওয়া হয়, তা খতিয়ে দেখতে হবে। একইসঙ্গে বস্তি নিয়ে রাষ্ট্রের বর্ণবাদী দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করার আহ্বান জানিয়েছে পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো। তারা বলছেন, বস্তিতে কেন আ গুন লাগে তা খতিয়ে দেখা জরুরি।  মনে রাখতে হবে বস্তি বাসীরা মানুষ, আর তাদের অবদানের ওপর এই রাষ্ট্র ও দেশ টিকে আছে।

বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) ও বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিকের উদ্যোগে আয়োজিত এক সংলাপে বক্তারা এসব কথা বলেন।আলোচনায় জাতীয় বস্তি কমিশন গঠনের দাবিসহ ১২ দফা দাবি উঠে আসে। ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য বলেন, ‘বস্তি কেন পুড়ে তা খতিয়ে দেখতে হবে নিম্ন আয়ের মানুষদের আবাসনের জন্য জাতীয় বস্তি কমিশন গঠন করতে হবে। বস্তিবাসীর জন্য হাইকোর্টের রুল জারি করা থাকলেও প্রতিবছর বস্তিতে আ গুন লাগে। আর বস্তি উচ্ছেদ হয়। কেন বস্তি পুড়ে তা খতিয়ে দেখা জরুরি। একটি পৃথক কমিশন গঠন করে সব অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুধাবন ও বস্তিবাসীর আবাসনের ব্যবস্থা করতে হবে।

১২ দফা দাবির মধ্যে আছে— মিরপুর ঝিলপাড়ের চলন্তিকা বস্তিতে ভয়াবহ অগিকাণ্ডে আনুমানিক ৫০০০ পরিবারকে ১৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ হিসেবে দিতে হবে এবং ওই স্থানেই তাদের দ্রুত পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। বস্তিবাসীর জন্য প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী দ্রুত আবাসন তৈরির কাজ শুরু করতে হবে। বস্তিবাসীর জন্য নির্মিত ফ্ল্যাট প্রাপ্তির প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও সহজ লভ্য করতে হবে। জাতীয় দুর্যোগ পরিকল্পনায় নগরের দুর্যোগ ও ঝুঁকিকে সুস্পষ্টভাবে চিহ্নিত করে যুক্ত করতে হবে এবং বড় বস্তির কাছে সার্বক্ষণিক ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট রাখতে হবে।

পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন-পবা’র চেয়ারম্যান আবু নাসের খানের সভাপতিত্বে ও সম্পাদক ফেরদৌস আহমেদ উজ্জলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সংলাপে বস্তিবাসী নেতারা বলেন, ‘আমরা ভিক্ষা চাই না। আমরা চাই প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বস্তিবাসীদের জন্য যে ঘোষণা  দিয়েছিলেন, তা বাস্তবায়ন করা হোক। আর এই বস্তিবাসী ও নিম্ন আয়ের মানুষরাই যেন আবাসন অধিকার পায়।

সংলাপে আরও বক্তব্য রাখেন—  ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক দেবাশীষ কুমার কুণ্ডু পবার সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী আব্দুস সোবহান, গবেষক ও লেখক পাভেল পার্থ, আওয়ামী বাস্তুহারা লীগের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ হালদার, বস্তিবাসী নেতা কুলসুম বেগম প্রমুখ। সূত্র বাংলা ট্রিবিউন

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সার্টিফিকেট বানিজ্য করে : ইউজিসি চেয়ারম্যান

স্টাফ রিপোর্টার:
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একইসঙ্গে একাধিক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস নেওয়াকে ‘খ্যাপের’ সঙ্গে তুলনা করে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী শহিদুল্লাহ বলেছেন, শিক্ষকরা একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘খ্যাপ মারায়’ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতার মানে প্রভাব ফেলেছে। তাই খ্যাপ শিক্ষক নির্ভর না হয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে নিজস্ব শিক্ষক তৈরি করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) সকালে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব) আয়োজিত উচ্চশিক্ষার মান অর্জন বিষয়ে দু’দিনব্যাপী প্রথম সিইটিএল সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। রাজধানীর ধানমন্ডিতে ইউল্যাবের প্রধান ক্যাম্পাসের অডিটোরিয়ামে এই সম্মেলন চলছে।

কাজী শহিদুল্লাহ বলেন, ‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিভিন্ন কোর্সের জন্য ‘অ্যাডজাঙ্ক ফ্যাকাল্টি’ হিসেবে নিয়োগ দিয়ে থাকে। কিন্তু তারা নিজেদের কর্মীদের উন্নয়ন করছে না। অ্যাডজাঙ্ক ফ্যাকাল্টিকে আমরা স্থানীয় ভাষায় বলি খ্যাপের টিচার। খ্যাপ খেলতে যান যারা। তারা এক ক্যাম্পাস থেকে আরেক ক্যাম্পাসে যাওয়ার ওপরেই থাকেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এরকম খুঁজলে অনেককেই পাওয়া যাবে।

কিন্তু বাস্তবতা হলো— সেই শিক্ষক দুই-তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস নিচ্ছেন। তারপর সন্ধায় কোনও একটি টেলিভিশন চ্যানেলে যা করার করছেন। এগুলো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতার ওপরে একটি প্রভাব ফেলেছে।এখানে অনেকেই আছেন, জিজ্ঞেস করেন তারা আমার সঙ্গে সহমত জ্ঞাপন করবে বলে আমি মনে করি। আমি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আহ্বান জানাই— এসব খ্যাপ শিক্ষকের ওপর নির্ভর না হয়ে,  আপনারা নিজস্ব শিক্ষক তৈরি করুন।’

ইউজিসি চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘উচ্চশিক্ষায় সবচেয়ে প্রধান সমস্যা হলো মান। এই সমস্যা পাবলিক এবং প্রাইভেট দু’জায়গাতেই আছে। উচ্চশিক্ষায় আমাদের পরিমাণগত কোনও সমস্যা নেই। যদি আমাদের সেই সমস্যা থাকতো, তাহলে আমাদের এতগুলো বিশ্ববিদ্যালয় থাকতো না।

বিগত ১০ বছরে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে। এ কারণে ১৫০টি বিশ্ববিদ্যালয় চলমান থাকার পরেও আরও ১০০টির মতো আবেদন জমা পড়ে আছে। আমাদের সময় উচ্চশিক্ষায় পরিমাণগত সমস্যা ছিল। কারণ, তখন এত বিশ্ববিদ্যালয় ছিল না। বাচ্চাদের স্কুলে পাঠানোর ইচ্ছা থাকলেও পাঠানো যেতো না। কারণ, যথেষ্ট স্কুল ছিল না। আজকের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখন সবজায়গায় স্কুল, হাই স্কুল, কলেজ আছেভ এমনকি বসবাসের স্থান থেকে হাটা দূরত্বেই স্নাতক সুবিধা সম্বলিত কলেজ আছে। তাই শিক্ষার অধিকার এখন সব জায়গাতেই আছে। কিন্তু মূল সমস্যা হলো মানসম্পন্ন শিক্ষা।’

‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সার্টিফিকেট বাণিজ্য করে’— এমন ধারণা ভুল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কিছু বিশ্ববিদ্যালয় হয়তো করতে পারে, কিন্তু ঢালাওভাবে সবাই তো করে না।’

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইউল্যাবের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এইচ এম জহিরুল হক। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ভিনসেন্ট চ্যাং। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ইউল্যাবের বোর্ড অব ট্রাস্টিজ-এর বিশেষ উপদেষ্টা অধ্যাপক ইমরান রহমান।  অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন— ইউল্যাব বোর্ড অব ট্রাস্টিজের ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. কাজী আনিস আহমেদ, বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য কাজী ইনাম আহমেদ।

আয়োজকরা জানান, এই সম্মেলনে দেশি-বিদেশি ৫০ জন শিক্ষক ও গবেষক অংশ নিয়েছেন। তারা তাদের গবেষণা নিবন্ধ সম্মেলনে উপস্থাপন করবেন।   সূত্র বাংলা ট্রিবিউন

বাড়ির কাজ বন্ধ, ৯০ লাখ টাকায় মীমাংসার প্রস্তাব পুলিশ কর্মকর্তার! | সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার: ৯০ লাখ টাকার বিনিময়ে দুই পক্ষের বিবাদ মীমাংসা করে দেওয়ার প্রস্তাব দেন এক পুলিশ কর্মকর্তা। সে অনুযায়ী টাকা না পেয়ে তিনি রাজধানীর ভাষানটেক এলাকায় ৩১ জনের যৌথ মালিকানার একটি প্লটে ভবন নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি মালিকদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলাও দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় একটি চক্রের যোগসাজশে এ কাজ করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সিনিয়র সহকারী কমিশনার এস এম শামীম। এ বিষয়ে ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে পুলিশ সদর দফতর ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলে নড়েচড়ে বসেন এই পুলিশ কর্মকর্তা। অভিযোগকারীসহ অন্যদের ডেকে নিয়ে অভিযোগ তুলে নিতে চাপও দিয়েছেন তিনি। কিন্তু ডিএমপি কমিশনার বিষয়টি আমলে নিয়ে তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন। ইতোমধ্যে পুলিশের মিরপুর বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার শাহেন শাহ তদন্ত শুরু করেছেন।যোগাযোগ করা হলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পল্লবী জোনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার এস এম শামীম বলেন, ‘আমার কাছে জহিরুল নামে একজন আবেদন করেছিলেন। আমি বলেছিলাম যে জমিসংক্রান্ত বিষয় সমাধানের কাজ আমার নয়। তবু আইনশৃঙ্খলার অবনতি হতে পারে বলে আমি দুই পক্ষকে ডেকেছিলাম।’

তিনি বাড়ির নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেননি বা তাদের কাছে কোনও টাকাও চাননি বলে দাবি করেন।পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, “যিনি আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন তিনি আমাকে বিষয়টি সমাধান করে দেওয়ার জন্য বলেছেন। আমি তাকে বলেছি যে যদি জমির মালিককে ‘কম্পেনসেশন’ দিয়ে আপনারাই এটা সমাধান করেন।” পরে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দেওয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন।পুলিশ সদর দফতর (স্মারক নং ১০৫৬) ও ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্সে দেওয়া অভিযোগ থেকে জানা গেছে, ভাষানটেক থানার টোনারটেক মসজিদের পার্শ্বে ৫৮৫সি নম্বর প্লটে একটি ভবনের নির্মাণকাজ চলছিল। ২০১৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যৌথভাবে ওই জমি কেনেন ৩১ জন। গত বছরের ১৬ জুলাই তারা নির্মাণকাজ শুরু করেন। এ বছরের ১৮ এপ্রিল হঠাৎ পল্লবী জোনের সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার এস এম শামীম বাড়ির মালিকদের কাছে একটি চিঠি [স্মারক নং ২১৯(২)এসি (পল্লবী জোন)] পাঠান। ওই চিঠিতে তিনি বলেন, জহরিুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি জমির মালিক পরিচয় দিয়ে অভিযোগ করেছেন। এ জন্য বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য বাদী ও বিবাদীদের কাগজপত্র নিয়ে ২২ এপ্রিল হাজির হতে বলেন এস এম শামীম। তবে এ চিঠি ইস্যুর এক দিন পরই নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।জমির ৩১ মালিকদের একজন নটরডেম কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক শহীদুল হাসান পাঠান।

তিনি পুলিশ সদর দফতরে করা আবেদনে বলেন, বাড়ির কাজ বন্ধ না করলে ওই পুলিশ কর্মকর্তা তাদের ‘ক্রসফায়ার’-এ দেওয়ার হুমকিও দেন। এসময় তারা রাজউকের অনুমোদিত নকশা নিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত ভূমি কমিশনারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ভূমি কমিশনার জমিতে কোনও সমস্যা নেই বলে জানান। পরে আবারও তারা কাজ শুরু করতে গেলে পুলিশ কর্মকর্তা শামীম ক্ষিপ্ত হন। গত ১৪ জুন তাদের ৭ জনের বিরুদ্ধে একটি জিডি (নং ৪৯৮) করা হয়।ওই অভিযোগে বলা হয়, গত ২৭ জুলাই পল্লবীর ৯৫ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি হাফিজুর রহমান সরদার, এসএম সাদিকুরসহ ৩০-৩৫ জন তাদের সাইনবোর্ড ফেলে দিয়ে নতুন সাইনবোর্ড লাগিয়ে দেন। বাড়ির কাজ করলে মেরে ফেলা হবে বলে হুমকি দেন তারা। মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলহাজতে পাঠানোরও হমকি দেওয়া হয়। ওই দিনই মালিকদের কয়েকজন বিষয়টি এসি শামীমকে জানালে তিনি হাফিজুর রহমানের সঙ্গে টাকা-পয়সা দিয়ে মীমাংসা করতে বলেন। তা না হলে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হবে বলে হুমকি দেন। এ থেকে পরিত্রাণের উপায় জানতে চাইলে পুলিশ কর্মকর্তা শামীম বলেন, আপনারা ৩১ মালিকের প্রত্যেকে ৩ লাখ টাকা করে মোট ৯০ লাখ টাকা হাফিজকে দিয়ে দিন। এতে রাজি না হওয়ায় পরদিনই মোস্তাফিজুর রহমান নামে স্থানীয় এক ব্যক্তিকে দিয়ে মালিকদের মধ্যে ৫ জনের নামের একটি মামলা দায়ের করানো হয়। অভিযোগে বলা হয়, পুলিশ কর্মকর্তা শামীম এবং স্থানীয় কাউন্সিলর ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি হাফিজের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। এসি শামীম নিজেই হাফিজের মাধ্যমে জহিরকে দিয়ে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে কাজ বন্ধ করে রেখেছেন।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তদন্ত শুরু হওয়ার পর পুলিশ কর্মকর্তা এস এম শামীম বিষয়টি সমাধানের জন্য বাদী শহীদুল হাসান পাঠানসহ অন্য মালিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

বিষয়টি নিয়ে যাতে গণমাধ্যমে প্রকাশ করা না হয় সেজন্যও তদবির শুরু করেন তিনি। যোগাযোগ করা হলে অভিযোগকারী শহীদুল হাসান পাঠান পুলিশ মহাপরিদর্শক ও ডিএমপি কমিশনার বরাবর অভিযোগ করার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি সমাধানের প্রক্রিয়া চলছে।
পুলিশ সদর দফতর ও ডিএমপির একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পুলিশের উচ্চ পর্যায় থেকে জমিসংক্রান্ত যেকোনও ঘটনায় পুলিশের হস্তক্ষেপ না করার বিষয়ে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের কঠোরভাবে নিষেধ রয়েছে। দেওয়ানি মামলা সম্পর্কিত সব ঘটনা আদালতের মাধ্যমে সমাধানের নির্দেশনা রয়েছে।এদিকে ডিএমপি কমিশনার অভিযোগটি আমলে নিয়ে মিরপুর বিভাগের উপ-কমিশনারকে বিষয়টি তদন্ত করে দেখার নির্দেশ দেন। মিরপুর বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার শাহেন শাহকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তদন্তের অংশ হিসেবে অভিযোগকারী শহীদুল হাসান পাঠানকে গত ১৯ আগস্ট একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) তার বক্তব্য রেকর্ড করা হবে বলে জানা গেছে। জানতে চাইলে অতিরিক্ত উপ-কমিশনার শাহেন শাহ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্সের নির্দেশে বিষয়টি আমি তদন্ত করছি। উভয় পক্ষকে ডাকা হয়েছে। এছাড়া এসি তো আমার এখানেই রয়েছে।’ তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

ভারত থেকে সামরিক সরঞ্জাম কেনার তাগাদা জয়শঙ্করের | সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার: ভারতের দেওয়া অর্থ দিয়ে সামরিক সরঞ্জাম ক্রয়ের জন্য অনুরোধ করেছেন দেশটির সফররত পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর। মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনকে এই অনুরোধ জানান তিনি। দিল্লির সঙ্গে এ বিষয়ে ২০১৭ সালে ৫০ কোটি ডলারের লাইন অব ক্রেডিট চুক্তি স্বাক্ষর করলেও এখন পর্যন্ত এই অর্থ ব্যবহার করতে পারেনি বাংলাদেশ।
বৈঠকের পর নিজ দফতরে সাংবাদিকদের এ কথা জানান আব্দুল মোমেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘ভারত সামরিক সরঞ্জাম ক্রয়ের জন্য আমাদের ৫০ কোটি ডলারের ক্রেডিট লাইন দিয়েছে। তবে আমরা এখনও কোনও জিনিস (সরঞ্জাম) কিনিনি। তারা বলছে আমরা দিয়েছি, আপনারা এটি ব্যবহার করেন।’

মোমেন বলেন, ‘আমরা এরআগে কখনোই ভারত থেকে সামরিক সরঞ্জাম কিনিনি, সে জন্য কী কিনবো এটি চিহ্নিত করতে সময় লাগছে। কিন্তু এটি করা হবে।’
দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠকে কী কী বিষয়ে আলোচনা হয়েছে জানতে চাইলে মোমেন বলেন, সীমান্ত হত্যা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিল্লি সফর, পানি বণ্টন, তিস্তা, স্কাই মার্শাল, জ্বালানি, মহীসোপানসহ আরও অনেক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে আসামের এনআরসি এবং কাশ্মির ইস্যু নিয়ে কোনও কথা হয়নি।
মন্ত্রী বলেন, ‘এনআরসি নিয়ে তারা আমাদের কোনও প্রশ্ন করেনি বা কোনও কিছু বলেনি। আমাদের অবস্থান হচ্ছে আমাদের অর্থনীতি অত্যন্ত ভালো করছে। আমাদের দেশের লোক অবৈধভাবে বিদেশে যাবে কেন, বরং অন্য দেশের লোক এখানে আসবে।’

কাশ্মির নিয়ে কথা হয়নি জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা মনে করি কাশ্মির বিষয়টি ভারতের নিজস্ব ইস্যু।’
সীমান্ত হত্যাকাণ্ডপররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সীমান্তে ফেন্সিং (নিরাপত্তা বেষ্টনী) নিয়ে আলোচনা করেছি। সীমান্তে এখনও বাংলাদেশিরা মারা যাচ্ছে সেটি আমরা তুলে ধরেছি।’
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতকে জানানো হয়েছে আমরা সীমান্তে কোনও হত্যাকাণ্ড চাই না। এ বিষয়ে ভারতের সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি রয়েছে এবং তবুও এটি হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী। বিষয়টি জয়শঙ্কর দেখবেন বলে জানান মোমেন।

নদীর পানি বণ্টনপররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বৈঠকে তিস্তার পানি বণ্টন বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। জয়শঙ্কর বলেছেন তিস্তার বিষয়ে ভারতের সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং তিস্তার অবশ্যই সমাধান হবে। তবে এর কোনও সময়সীমা নেই।
৫৪টি অভিন্ন নদীর পানি বণ্টনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘অববাহিকার মানুষের উপকার হয় এমন একটি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
নদীর পানি বণ্টনের বিষয়ে এ মাসে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব পর্যায়ের বৈঠকে সাতটি নদীর বিষয়ে মোটামুটি সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান মোমেন। তিনি বলেন, ‘এগুলোর অনেকগুলো বর্ডার ডিমার্কেশন নদী। এরমধ্যে দুই-একটি নিয়ে সমস্যা আছে, সেগুলো নিয়ে আলোচনা করেছি।’

তবে ভালো খবর হচ্ছে অন্যান্য নদী যেমন ইছামতি, কালিন্দি, হাড়িভাঙ্গা, সোনাই, কুশিয়ারা এগুলোর সমস্যা দূর হওয়ার ব্যবস্থা হয়েছে বলে তিনি জানান।
মহীসোপানমহীসোপান নিয়ে ছোটখাটো সমস্যা আছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘এটি নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং মোটামুটি সমঝোতা হয়েছে। আমরা এটি মিটিয়ে ফেলবো।’
তিনি বলেন, ‘ভারত রাজি হলে আমরা দু’জনেই আমাদের অভিযোগ প্রত্যাহার করবো, এ বিষয়ে আমরা সমঝোতায় এসেছি।’
শুল্ক মওকুফভারতের সহযোগিতায় যেসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে ওইসব প্রকল্পে ভ্যাট ও শুল্ক মওকুফ চেয়েছে ভারত।

মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বলেছি এটি এনবিআর (রাজস্ব বোর্ড) পরীক্ষা করছে। তারা আপনাদের জানাবে।’
স্কাই মার্শালবাংলাদেশে আগমনরত বিমানে স্কাই মার্শাল চালু করতে চায় ভারত। এ বিষয়ে মোমেন বলেন, ‘তারা নিরাপত্তার জন্য স্কাই মার্শাল চালু করার কথা বলছে। আমরা বলেছি, আমরা বিষয়টি দেখবো।’
প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফরমোমেন বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে যাবেন এবং তখন কী বিষয় নিয়ে কথা হবে সেটি নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং প্রোগ্রাম চূড়ান্ত করার জন্য চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময় আমরা অনেকগুলো চুক্তি সই করতে চাই। কিছু প্রস্তাব আমরা দিয়েছি এবং কিছু প্রস্তাব তারা দিয়েছে। দুই পক্ষেই সমান সমান প্রস্তাব আটকে আছে। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি এটি দ্রুত সমাধানের জন্য।’
বাণিজ্য ঘাটতিবাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি অনেক বেশি এবং এটি কমানোর বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে আমাদের রফতানির পরিমাণ প্রায় ১০০ কোটি ডলার। বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর জন্য জয়শঙ্কর এখানে ভারতের ব্যবসায়ীদের আমন্ত্রণ জানানোর পরামর্শ দিয়েছেন বলে জানান মন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘এখানে ভারতীয়রা শিল্প গড়ে তুলবে এবং ভারতে রফতানি করবে, এর মাধ্যমে বাণিজ্য ঘাটতি কমবে।’

মোমেন বলেন, কিছু খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে তাদের অবজেকশন আছে এবং আমরা সেটি প্রত্যাহার করতে বলেছি। আমরা ২৭টি খাদ্য পণ্যের তালিকা দিয়েছিলাম এবং এরমধ্যে তারা ২০টি পণ্য গ্রহণ করেছে, বাকিগুলো করেনি।
মন্ত্রী বলেন, রাবার রফতানির ক্ষেত্রে ভারত কিছুটা প্রতিবন্ধতা দিয়েছে এবং আমরা বলেছি এই প্রতিবন্ধকতা তুলে নেওয়ার জন্য।
সূত্র বাংলা ট্রিবিউন

মিন্নিকে কেন জামিন দেওয়া হবে না : হাইকোর্ট

স্টাফ রিপোর্টার:বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হ ত্যা মামলায় তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে কেন জামিন দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে জবাব চেয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) মিন্নির জামিন আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

পাশাপাশি আদালত মিন্নির জবানবন্দির বিষয়ে স্থানীয় পুলিশ সুপারের সংবাদ সম্মেলনের বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী ২৮ আগস্টের মধ্যে তাকে ওই ব্যাখ্যা দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মামলার যাবতীয় নথিসহ (কেস ডকেট বা সিডি) তদন্ত কর্মকর্তাকে তলব করেছেন আদালত।

আদালতে মিন্নির জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী জেড আই খান পান্না। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মাক্কিয়া ফাতেমা ইসলাম। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সারোয়ার হোসেন বাপ্পী।

এরআগে, গত ৮ আগস্ট মিন্নিকে সরাসরি জামিন না দিয়ে জামিনের বিষয়ে রুল জারি করতে চাইলে আবেদনটি (জামিন) ফেরত নিয়েছিলেন মিন্নির আইনজীবী জেড আই খান পান্না। এরপর গত ১৮ আগস্ট হাইকোর্টের নতুন আরেকটি বেঞ্চে জামিন আবেদন করেন মিন্নির আইনজীবীরা। ওই আবেদনের শুনানিকালে রিফাত হ ত্যা মামলায় তার স্ত্রী মিন্নিকে কবে, কখন গ্রেফতার করা, আদালতে নেওয়া ও তার জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পুলিশ সুপার কবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সেসব তথ্য জানতে চাওয়া হলে তা মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) আদালতে দাখিল করেন মিন্নির আইনজীবীরা।

প্রসঙ্গত, গত ২৬ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে স ন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে কু পিয়ে গুরুতর আ হত করে রিফাত শরীফকে। তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি হামলাকারীদের সঙ্গে লড়াই করেও তাদের দমাতে পারেননি। গুরুতর আ হত রিফাতকে ওইদিন বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বিকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ ঘটনায় রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখ ও পাঁচ-ছয়জনকে অজ্ঞাত আসামি করে বরগুনা থানায় একটি হ ত্যা মামলা দায়ের করেন।

পরে ১৬ জুলাই সকাল পৌনে ১০টার দিকে মিন্নিকে তার বাবার বাড়ি বরগুনা পৌর শহরের নয়াকাটা-মাইঠা এলাকা থেকে পুলিশ লাইনে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রাত ৯টায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। পরদিন ১৭ জুলাই মিন্নিকে বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলে বিচারক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম গাজী ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এরপর কয়েক দফা আবেদন জানালেও নিম্ন আদালত মিন্নিকে জামিন দেননি। পরে জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন তিনি।

সব সরকারি দফতরে বোতলজাত ‘মুক্তা পানি’ রাখার নির্দেশ

স্টাফ রিপোর্টার: এখন থেকে সব সরকারি দফতরে প্রতিবন্ধীদের তৈরি ‘মুক্তা পানি’ রাখতে হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের শাখা-১ (প্রশাসন) থেকে এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। সোমবার (১৯ আগস্ট) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সংশ্লিষ্ট সূত্র এই তথ্য জানিয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের শাখা-১ (প্রশাসন) এর সহকারী সচিব মো. সামীম আহসান স্বাক্ষরিত এই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের দ্বারা পরিচালিত শারীরিক প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্ট, মৈত্রী শিল্প, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক পরিবেশিত ও বোতলজাতকৃত ‘মুক্তা ন্যাচারাল ড্রিংকিং ওয়াটার’ পরিবেশন/ ব্যবহারে অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।’

এর আগে গত ৪ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সব সরকারি দফতরে ‘মুক্তা পানি’ ব্যবহার অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য একটি নির্দেশনা আসে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের দ্বারা পরিচালিত শারীরিক প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্ট, মৈত্রী শিল্প, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক পরিবেশিত ও বোতলজাতকৃত ‘মুক্তা ন্যাচারাল ড্রিংকিং ওয়াটার’ পরিবেশন/ ব্যবহারে অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বিবেচ্যপত্রের মাধ্যমে অনুরোধ করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ‘মুক্তা পানি’ মিনারেল ওয়াটারের বোতল আমাদের দেশের প্রতিবন্ধীরা তৈরি করছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত হয়। এর কারখানা গাজীপুরে। এর বিশেষত্ব হল এই কারখানাটি সম্পূর্ণভাবে প্রতিবন্ধীদের দ্বারা চলে। এখান থেকে যে লাভ হয় তার পুরো অংশই প্রতিবন্ধীদের কল্যাণে ব্যয় করা হয়।
এর আগে বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবসে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও প্রতিবন্ধীদের তৈরি ‘মুক্তা পানি’ সবাইকে কিনতে বলেছেন।  আয়োজিত অনুষ্ঠানে অটিস্টিকদের মধ্যে সুপ্ত প্রতিভা রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘নিজেদের প্রতিভা দিয়ে এরা অনেক কিছু তৈরি করতে পারে।’

প্রধানমন্ত্রী ওই অনুষ্ঠানে ‘মুক্তা পানি’ মিনারেল ওয়াটারের বোতল হাতে নিয়ে সবাইকে দেখিয়ে বলেছিলেন, এটি কিন্তু আমাদের প্রতিবন্ধীরাই তৈরি করছে। এতো সুন্দর পানি, এতো সুন্দর বোতল।’ এসময় এই পানি কেনার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
  সূত্র বাংলা ট্রিবিউন

বঙ্গবন্ধু হ ত্যায় জিয়া ওতপ্রোতভাবে জড়িত : ড. হাছান

স্টাফ রিপোর্টার:তথ্যমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধু হ ত্যায় ওতপ্রোতভাবে জড়িত। জিয়াসহ এ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কুশীলবদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত জাতির পিতার খু নীদের বিচার সম্পূর্ণ হবে না।

রবিবার (১৮ আগস্ট) বিকালে রাজধানীর কাকরাইলে তথ্য ভবনে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক সভায় তিনি এসব কথা বলেন।তথ্য মন্ত্রণালয়ের চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদফতর, গণযোগাযোগ অধিদফতর ও চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ড যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করে।হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বিচার এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। কারণ, পলাতক খু নি ও বঙ্গবন্ধু হত্যার নেপথ্যের কুশীলবদের বিচার এখনও হয়নি।

এ জন্য একটি কমিশন গঠন করে বিচার সম্পন্ন হলে তা ন্যায় প্রতিষ্ঠার উদাহরণ হয়ে থাকবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তথ্যমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু হ ত্যার নেপথ্য কুশীলবদের বিচারের জন্য একটি কমিশন গঠন এখন সময়ের দাবি।এ সময় জিয়াউর রহমানের স্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাবাস নিয়ে বিএনপি মহাসচিবের করা ‘বেগম জিয়া পাকিস্তানি সেনাদের কাছে যে সম্মান পেয়েছিলেন, এখন তাও পাচ্ছেন না’ মন্তব্যের সমালোচনা করেন হাছান মাহমুদ।

বলেন, ‘এমন মন্তব্যে স্বভাবতই প্রশ্ন জাগে, যেখানে মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিবাহিনীর কাউকে পানি খাওয়ানোর অপরাধেই পাকিস্তানি সেনারা মানুষ হত্যা করেছে, দুই লাখ সত্তর হাজার মা-বোনের ইজ্জত লুণ্ঠন করেছে, সেই পাকিস্তানি সেনাদের খালেদা জিয়াকে এত খাতিরের কারণ কী, সেটা নিয়ে তদন্ত হওয়া উচিত।

জিয়াউর রহমানের ঘোষণা শুনে ঢাকার অনেকে যুদ্ধে গিয়েছিলেন’—বিএনপি নেতাদের দেওয়া এমন বক্তব্যকে মিথ্যা দাবি করে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক বলেন, ‘চট্টগ্রাম বেতারের তখনকার সম্প্রচার আওতা ছিল ১০ কিলোওয়াট, যা কার্যত ছিল ৬ কিলোওয়াট। বর্তমানে তা ১০০ কিলোওয়াট হলেও চট্টগ্রামের বাইরে বেশি দূর তা শোনা যায় না।’তিনি বলেন,‘বঙ্গবন্ধুর দেওয়া স্বাধীনতার ঘোষণা প্রথম চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্র থেকে পাঠ করেন চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ হান্নান। তারপর তারা একজন সেনা অফিসার দিয়ে ঘোষণা পাঠ করাতে চান।

প্রথমবার জিয়াউর রহমান ভুল পড়েন, পরে তা শুধরে আবার পাঠ করেন। তিনি সেটা চার দেয়ালের মধ্যে পাহারায় থেকে পাঠ করেছিলেন আর চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগ অফিসের কর্মচারী নূরুল হক জীবন বাজি রেখে ২৬ মার্চ পুরো চট্টগ্রাম শহরে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা রিকশায় মাইকিং করেছেন।’অনুষ্ঠানে তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. মুরাদ হাসানও বঙ্গবন্ধু হ ত্যার নেপথ্য ভূমিকার জন্য জিয়াউর রহমানের মরণোত্তর বিচার দাবি করেন।চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদফতরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ ইসতাক হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় তথ্যসচিব আবদুল মালেক, গণযোগাযোগ অধিদফতরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ জাকির হোসেন ও চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান মো. নিজামুল কবীর তাদের বক্তব্যে বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্মের ওপর আলোকপাত করেন।সভাশেষে সবাই তথ্য ভবন প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধুর জীবনভিত্তিক দুর্লভ আলোকচিত্র প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন।