সিটি করপোরেশনের ওষুধে মশা সন্তান উৎপাদন করছে : রিজভী

স্টাফ রিপোর্টার:এডিস মশা দমনে দুই সিটি করপোরেশনের ছিটানো ওষুধের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। তিনি বলেছেন,‘ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এডিস মশা মারতে যে ওষুধ এনেছে, এই ছিটানো ওষুধে এডিস মশা আরও উৎসাহিত হয়ে ব্যাপকভাবে সন্তান-সন্তুতি উৎপাদন করে যাচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে যা বলা হচ্ছে তা রীতিমত বাকওয়াস।

বুধবার (২১ আগস্ট) রাজধানীর নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন রিজভী।এসময় তিনি বলেন, ‘ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়র বলেছেন- এডিস মশা মারার জন্য কার্যকর ওষুধ আনা হয়েছে। প্রকৃত অবস্থা হচ্ছে, এই ছিটানো ওষুধ ডেঙ্গুতে মরণের বার্তা নিয়ে হাজির হয়েছে দেশের মধ্যে। ডেঙ্গু আক্রমণের পূর্বেই প্রস্তুতির অভাব এবং মহামারিতে সারাদেশ আক্রান্ত হওয়ার পরও সরকারের উচ্ছ্বাস ও তামাশার কোনও কমতি নেই।

খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে উপহাস করে সরকারদলীয়রা নিজেরাই চিকিৎসার জন্য বিদেশে দৌড়াচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব।রিজভী বলেন, ‘বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কারাবন্দিত্বের আজ ৫৬০তম কালিমালিপ্ত দিবস। সুচিকিৎসার অভাবে চার বারের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর শারীরিক অবস্থার ক্রমাগত অবনতি ঘটছে।

তার অভিযোগ, সারাদেশের সর্বস্তরের মানুষের অব্যাহত দাবির পরও সম্পূর্ণ নিরপরাধ খালেদা জিয়াকে শুধু প্রতিহিংসাপরায়ণতা চরিতার্থে কারারুদ্ধ রাখা হয়েছে।
এই বিএনপি নেতা বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার আতঙ্কে মিডনাইট সরকার প্রহর পার করছে। চোর যেমন গৃহস্থের ভয়ে সন্ত্রস্ত থাকে, এই অবৈধ সরকারের অবস্থা হয়েছে ঠিক তেমন। প্রকাশ্যে স্বগর্বে ঘোষনা দিয়ে তার জামিনে বাধা দিচ্ছেন স্বয়ং সরকার প্রধান নিজেই।

রিজভী বলেন, ‘শুধু চোখের অপারেশনে এতো দিন সময় লাগে কিনা তা নিয়ে আমাদের বলার কিছু নেই। রোগ-ব্যাধি-জরা বলে কয়ে আসে না। ৭৫ বছর বয়স্ক দেশনেত্রীর অসুস্থতা নিয়ে অবজ্ঞা-উপহাস না করে দ্রুত তাকে মুক্তি দিন। তাকে ফিরে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছে দুখিনি বাংলাদেশ।

ডেঙ্গু বিষয়ে রিজভী আরও বলেন,‘স্বাস্থ্য অধিদফতরের ঊর্দ্ধতন একজন কর্মকর্তা এক ব্রিফিংয়ে বলেছেন, ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা আর বাড়বে না। কিন্তু পরিস্থিতিতে দেখা যাচ্ছে, ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে রোগীর সংখ্যা ও লাশের সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। এখন ঢাকার বাইরেও ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ব্যাপকভাবে বিস্তার লাভ করছে।

সরকারের পক্ষ থেকে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ব্যক্তির যে সংখ্যা প্রকাশ করা হচ্ছে সেটি প্রকৃত সংখ্যার চেয়ে অনেক কম।প্রাইভেট হাসপাতাল এবং হাসপাতালে ভর্তি না হতে পেরে যারা বাসায় চিকিৎসা নিচ্ছেন, তাদের সংখ্যা সরকারি পরিসংখ্যানে উল্লেখ করা হয় না বলেও দাবি করেছেন রিজভী।সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা উপস্থিত ছিলেন।

খালেদ জিয়ার মুক্তি ও স্বাস্থ্যের বিষয়ে আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে : ফখরুল

স্টাফ রিপোর্টার:কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদ জিয়ার মুক্তি ও স্বাস্থ্যের বিষয়ে আন্তর্জাতিকভাবে পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘তার মুক্তি ও স্বাস্থ্যের বিষয়ে বিশ্বের গণতান্ত্রিক দেশগুলোকে অবহিত করবো। তাকে যে অন্যায়ভাবে আটকে রেখেছে, সেই বিষয়টি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে আসার জন্য যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।শনিবার (১৭ আগস্ট) রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্কাইপের মাধ্যমে যুক্ত হন লন্ডনে অবস্থানরত দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘ঈদের আগে খালেদা জিয়ার জামিনের বিষয়টি এসেছিল হাইকোর্টে, কিন্তু সেখানে নেতিবাচক আদেশ হওয়ার পর থেকে আমাদের যে ধারণাটা আরও পাকাপোক্ত হয়েছে তা হলো- বিচার ব্যবস্থা স্বাভাবিক ও স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না। সেখানে সরকার হস্তক্ষেপ করছে।

সেক্ষেত্রে আইনিভাবে তার মুক্তি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ন্যায় বিচার পাবো কিনা তা নিশ্চিত হতে পারছি না।’
আগস্ট মাসে সরকার কোনও কর্মকাণ্ড করতে দেয় না অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলন হিসেবে যে বিভাগীয় সমাবেশ শুরু করেছিলাম, সেটা আবার নিয়মিত করা হবে। যেহেতু সরকার আগস্ট মাসে আমাদের কর্মসূচি নিতে দেয় না এবং কর্মকাণ্ড করতে দেওয়া হয় না, সেই কারণে ১ সেপ্টেম্বর বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী থেকে কর্মসূচি চালু হবে।

১ সেপ্টেম্বর বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকায় র‌্যালি ও পরের দিন আলোচনা সভা করা হবে বলেও জানান মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘এরপর বাকি ৫ বিভাগে সমাবেশ করা হবে দ্রুততম সময়ে।’
ডেঙ্গু রোগীদের বিনা খরচে চিকিৎসা দেওয়ার দাবি জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আগামী সেপ্টেম্বর মাসে ডেঙ্গু আরও বাড়বে। কিন্তু সরকার এখনও ওষুধ আনতে পারেনি।

সরকারের ব্যর্থতা ও উদাসীনতায় চামড়া শিল্প ধ্বংস হচ্ছে দাবি করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘সরকারের বিশেষ বিশেষ ব্যক্তিদের মদদে চামড়া শিল্পের সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। তারা দুটি স্বার্থে এই সিন্ডিকেট করেছে। প্রথমত, নিজেদের লাভ; দ্বিতীয়ত, এই শিল্পকে ধ্বংস করতে।
এর আগে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক উপস্থিত ছিলেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রমুখ।

খালেদা জিয়া এমন কিছু করেননি যে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে: ফখরুল

স্টাফ রিপোর্টার:
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সম্প্রতি আওয়ামী লীগ নেতা হানিফের বক্তব্য খণ্ডন করে বলেছেন, খালেদা জিয়া এমন কিছু করেননি যে, তাকে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। তিনি অন্যায় বা কোনও অপরাধ করেননি। নিছক রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে সরকার ক্ষমতার জোরে তাকে বন্দি করে রেখেছে।

মির্জা ফখরুল বুধবার (১৪ আগস্ট) সকালে ঠাকুরগাঁও শহরের কালিবাড়িতে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। এ সময় পৌর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক তারিক আদনান, যুবলীগ নেতা আবু তাহের দুলালসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী, প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রোনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, আইন সরকার ও শাসকদের করায়ত্ত, তাই আন্দোলনের মাধ্যমেই খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে।’ 
দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক নৈরাজ্য ও টানাপোড়েনের প্রভাব সাম্প্রতিক চামড়া বাজারের বিপর্যয়ের কারণ বলে উল্লেখ করে ফখরুল বলেন,‘কোরবানির চামড়া বিক্রি করতে না পেরে অনেকেই সেটা মাটিতে পুঁতে ফেলেছেন। এটা দেশের বিরাট অর্থনৈতিক ক্ষতি, যার দীর্ঘস্থায়ী বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়বে আমাদের লেদার শিল্পের ওপরে।’

এজন্য সরকারকে তিনি দায়ী করে বলেন, ‘সরকারের পূর্ব পরিকল্পনার অভাব, ব্যবসায়ীদের চামড়া কেনার জন্য সুবিধাজনক ঋণ প্রদানে অনীহা, এসব কারণেই এই নজিরবিহীন নৈরাজ্য ঘটেছে। আর এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন পশুপালনকারী, চামড়ার ক্রেতা, এমনকি চামড়ার সঙ্গে যুক্ত বড় ব্যবসায়ীরাও।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘তথাকথিত মাথাপিছু আয় ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দেখিয়ে সরকার দাবি করছে— তারা উন্নয়নের রোল মডেল, বিরাট একটা উন্নয়ন করে ফেলেছে। কিন্তু তাদের সরকারি পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেশের বড় বড় অর্থনীতিবীদরা দেখিয়েছেন, এসব আসলে আরেকটি গণপ্রতারণা।

আজ  ব্যাংক সবচাইতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মানুষ টাকা তুলতে গেলে টাকা পায় না। সরকার টাকা নিয়ে টাকা ব্যাংককে ফেরত দেয় না। আমানতকারীদের কাছ থেকে টাকা কেটে নেওয়া হচ্ছে। আবার অন্যদিকে সরকারি খরচ বাড়ানো হচ্ছে, যা আসছে জনগণের ট্যাক্স থেকে।

আগে একটা পরিবার থেকে একটা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে একজন থাকতে পারতেন,এখন সেখানে একই পরিবারের চার জন থাকার নিয়ম করা হয়েছে। এভাবে আওয়ামী লীগের কিছু লোকজনের কাছে চলে যাচ্ছে জনগণের সব টাকা। আর এর মাধ্যমে দেশে অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ কমিয়ে বিদেশের বাজারে পরিণত করা হচ্ছে দেশকে।’

সরকারের সঙ্গে জনগণের কোনও সম্পর্ক নেই এবং জনগণের ভোটে তারা নির্বাচিত নন বলেই জনগণের প্রতি তাদের কোনও দায়বদ্ধতা নেই। সে কারণেই তারা জনসাধারণ ও দেশের জন্য অত্যন্ত দীর্ঘ মেয়াদি ক্ষতি করছেন।’ অবিলম্বে সরকারের পদত্যাগ দাবি করে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার ও নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে নতুন নির্বাচনের দাবি করেন বিএনপি মহাসচিব। সূত্র বাংলা ট্রিবিউন

রাজনীতির চিন্তাধারা থেকে বাংলাদেশ পরিচালিত হচ্ছে না : খসরু

স্টাফ রিপোর্টার: দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, কোনও রাজনীতিবিদ বা রাজনীতির চিন্তাধারা থেকে বাংলাদেশ পরিচালিত হচ্ছে না। বুধবার (৭ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম হলে জিয়া পরিষদ আয়োজিত ‘খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির’ দাবিতে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, গণতন্ত্রের মাকে জেলে রেখে, জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে, বাকস্বাধীনতা কেড়ে নিয়ে, আইনের শাসন কেড়ে নিয়ে এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা কেড়ে নিয়ে তারা মনে করেছিল অব্যাহতভাবে দেশ পরিচালনা করবে, কিন্তু দেশ সঠিকপথে চলছে না।

বিএনপির সিনিয়র এ নেতা আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ তাদের (আওয়ামী লীগ) দায়িত্ব দেয় নাই। তারা জোর করে ক্ষমতা দখল করেছে, জনগণকে বাইরে রেখে। তারপরেও আজকে যখন দেশ চলছে না, তখন গুজবের বাহানায়, বিরোধী দলের ষড়যন্ত্র বাহানায় পার পাওয়ার চেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে ডেঙ্গু যে মহামারিতে পরিণত হয়েছে এটা কি বিতর্কের কোনও বিষয়? নির্বাচন কমিশনের ফলাফল দেওয়ার পরে বাংলাদেশে যে কোনও নির্বাচন হয় নাই, এটা নিয়ে কি কোনও বিতর্ক আছে? বাংলাদেশে আজকে আইনের শাসন নেই, এটা নিয়ে কি কোনও বিতর্ক আছে? একটি দেশের প্রধান বিচারপতির চাকরি কেড়ে নেওয়া হয়েছে এবং জোর করে দেশের বাইরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে এটা নিয়ে কি কোনও বিতর্ক আছে? বাংলাদেশে যে আজ বাক স্বাধীনতা নাই এটা বিশ্ববাসী জানে।

খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হলে সংগ্রামে যেতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আজ বিএনপির ২৬ লাখ নেতাকর্মীকে মিথ্যা মামলা দিয়ে বাড়ি ঘরে থাকতে দেওয়া হচ্ছে না। মিথ্যা মামলায় যারা মানবেতর জীবনযাপন করছে,

তাদের নিয়েই আমাদের চিন্তা। দেশনেত্রী মুক্তির সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষের মুক্তি অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। সুতরাং কোনও দলের বিষয় না, বিএনপির বিষয় না, আজ এটা জাতির বিষয়। তাই, দেশনেত্রীর মুক্তির জন্য আমাদেরকে সংগ্রাম করে যেতে হবে। সংগ্রামের মাধ্যমে তাকে মুক্ত করতে হবে।

আলোচনা সভায় বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আব্দুল কুদ্দুস, জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

‘মন্ত্রী ও মেয়রদের কোনও লজ্জা-শরম নেই’

স্টাফ রিপোর্টার:
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘মিডিয়া গুরুত্ব দেওয়ায় মানুষ ডেঙ্গুর ভয়াবহতা সম্পর্কে জানতে পারছে। না হলে এই সরকার গুজব বলে উড়িয়ে দিত। আসলে মন্ত্রী ও মেয়রদের কোনও লজ্জা-শরম নেই। যেটাকে এক কথায় বলা যায় বেহায়া। এরা যেহেতু জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়, তাই এদের উদ্দেশ্য থাকে জনগণের টাকা লুট করার।’

সোমবার (৫ আগস্ট)  দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচে রক্তদান কর্মসূচির উদ্বোধনের সময় তিনি এসব কথা বলেন। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে স্বেচ্ছাসেবক দল এ কর্মসূচির আয়োজন করে।  আওয়ামী লীগ সরকার নিজেদের সুরক্ষার জন্য ব্যাপক দুর্নীতি করছে বলে দাবি করে তিনি বলেন, ‘আমার এমন একটা রাষ্ট্রে বসবাস করছি, যেখানে জীবনের কোনও নিরাপত্তা নেই। কিন্তু সরকার নিজেদের সুরক্ষার জন্য ব্যাপক দুর্নীতি করছে। সেই দুর্নীতির টাকা দিয়ে দেশের বাইরে বাড়িঘর করছে। সেখানে থাকার ব্যবস্থা করছে। এটাই হলো বাস্তবতা।’

বিএনপির মহাসচিব বলেন, এই সরকার মানুষের স্বার্থবিরোধী সরকার। তারা মানুষের ন্যূনতম অধিকারকে লুণ্ঠন করে ক্ষমতায় থাকতে চায়। রক্তদান কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব হাবিবউন নবী খান সোহেল, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের ভুইয়া জুয়েল প্রমুখ।   সূত্র বাংলা ট্রিবিউন

‘খালেদা জিয়ার প্যারোলের মুক্তির বিষয়ে সরকার এখনও কোন আলোচনা করেনি’ : খোকন

স্টাফ রিপোর্টার:
দুর্নীতির মামলায় কারাগারে থাকা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে সরকার তার পরিবার বা আমাদের (আইনজীবীদের) সঙ্গে এখনও পর্যন্ত কোনও আলোচনা করেনি বলে মন্তব্য করেছেন তার অন্যতম আইনজীবী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন।

রবিবার (৪ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্টে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, ‘খালেদা জিয়ার প্যারোলের বিষয়ে সরকার বিভিন্ন বক্তব্য দিচ্ছে। কিন্তু ওইসব বক্তব্য দেওয়া ছাড়া তারা (সরকার) প্যারোলের বিষয়ে তার (খালেদা জিয়ার) পরিবার বা আমাদের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ করেনি। সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখেছে। সরকার তাকে জেলে রেখেই রাজনীতি করতে চায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘এক-এগারোর সময়ে আমি খালেদা জিয়া এবং তার দুই ছেলে তারেক রহমান ও আরাফাত রহমানের প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে কাজ করেছি। তিনি খালেদা) অসুস্থ, খুবই অসুস্থ। তবুও প্যারোলের বিষয়ে সরকার কোনও যোগাযোগ করেনি।’

প্রসঙ্গত, গত বছরের (২০১৮)  ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে প্রথমে পাঁচ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেন বিচারিক আদালত।  রায় ঘোষণার পরপরই খালেদা জিয়াকে নাজিম উদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে আপিলে দুই মামলায় তাকে মোট ১৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। 
সূত্র বাংলা ট্রিবিউন