অ্যামাজনের আগুনে ব্রাজিল সরকারের নিষ্ক্রিয়তার বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে বিক্ষোভ

স্টাফ রিপোর্টার: ব্রাজিল সরকারের নিষ্ক্রিয়তায় অ্যামাজন জঙ্গলে আগুন জ্বলছে- এমন অভিযোগে বিশ্বজুড়ে বিক্ষোভ করেছেন পরিবেশবাদীরা। শুক্রবার প্যারিস, লন্ডন, মাদ্রিদ, বোগোতো ছাড়াও বিভিন্ন শহরের ব্রাজিল দূতাবাসের বাইরে বিক্ষোভ হয়েছে। এসব বিক্ষোভ থেকে আগুন নেভাতে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোকে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দুনিয়াজুড়ে সমালোচনার মুখে শুক্রবার আগুন নিয়ন্ত্রণে অ্যামাজনে সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বলসোনারো।

রেকর্ড গতিতে প্রতিদিন পুড়ছে ‘পৃথিবীর ফুসফুস’ খ্যাত অ্যামাজন জঙ্গল। ব্রাজিলের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট ফর স্পেস রিসার্স (আইএনপিই) বলছে,এ বছর জুন পর্যন্ত ব্রাজিলে ৭২ হাজার ৮৪৩টি অগ্নিকাণ্ড হয়েছে। এর মধ্যে অর্ধেকের বেশি আগুনের ঘটনা অ্যামাজন জঙ্গলে,যা আগের বছরের তুলনায় ৮০ শতাংশ বেশি। পরিবেশবাদীরা বলছেন,অ্যামাজনকে বাণিজ্যের জন্য উন্মুক্ত করার সরকারি নীতির কারণেই আগুন লাগানোর মহোৎসব শুরু হয়েছে।

অ্যামাজনে আগুন লাগার খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনলাইনে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিশ্ব নেতৃবৃন্দ থেকে শুরু করে সেলিব্রেটিরাও আগুন নিয়ে ব্রাজিল সরকারের সমালোচনা শুরু করেন।

শুক্রবার ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে ব্রাজিল দূতাবাসের বাইরে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন শত শত পরিবেশবাদী। ইয়োথ ফর ক্লাইমেট নামে একটি গ্রুপ এই বিক্ষোভের আয়োজন করে। ‘অ্যামাজনের জন্য প্রার্থনা’, ‘অ্যামাজন থাকুক, বলসোনারো সরে যাও’, ‘বন ছাড়া আমরা ধ্বংস হবো’সহ নানা ধরণের স্লোগান লেখা প্ল্যাকার্ড নিয়ে বিক্ষোভ করে তারা। অনেক বিক্ষোভকারী রক্তের আদলে রং মেখে বিক্ষোভে অংশ নেয়। আগুন নিয়ন্ত্রণে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্টকে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয় ওই বিক্ষোভ থেকে।

শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের বার্ন শহরেও একই ধরণের বিক্ষোভ হয়। ব্রাজিলের আগুনের ছবি নিয়ে রাস্তায় নেমে আসে বিক্ষোভকারীরা। অনেকেই ‘বয়কট ব্রাজিল’ লেখা প্রতীক হাতে নিয়ে বিক্ষোভে যোগ দেয়।
লন্ডনে ব্রাজিল দূতাবাসের বাইরে জড়ো হয় পরিবেশবাদী গ্রুপ এক্সটিঙ্কশন রেবেলিয়ন-এর কর্মীরা। বলসোনারোকে অ্যামাজন জঙ্গল রক্ষার আহ্বান জানানো হয় ওই বিক্ষোভ থেকে। সাইপ্রাসের রাজধানী নিকোসিয়ায় ব্রাজিল দূতাবাসের বাইরে বিক্ষোভকারীরা গ্যাস মাস্ক পরে অবস্থান নেয়। ব্যানার নিয়ে অবস্থান নিয়ে রাস্তা আটকে দেয় তারা।

অ্যামাজন বনাঞ্চলের প্রায় ৬০ শতাংশের অবস্থান ব্রাজিলে। দেশটির প্রায় ৬৭ হেক্টর জুড়ে রয়েছে এই বনাঞ্চল। আর্জেন্টিনা, বলিভিয়া আর প্যারাগুয়েতেও ছড়িয়ে আছে এই বনাঞ্চল। আগুন মূলত ছড়িয়ে পড়েছে ব্রাজিলের অংশে। সম্প্রতি দেশটির উগ্র ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারো বলেছেন,‘আমাজনের আগুন ব্রাজিলের অভ্যন্তরীণ বিষয়। ফলে এটি নিয়ে কারও নাক গলানো সহ্য করা হবে না।’ তবে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দুনিয়াজুড়ে সমালোচনার মুখে শুক্রবার আগুন নিয়ন্ত্রণে অ্যামাজনে সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বলসোনারো। আল জাজিরা জানিয়েছে,বিশ্বব্যাপী নিন্দার মুখে ইতোমধ্যেই সেখানে সেনা পাঠানোর প্রস্তুতি শুরু করেছেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট।

ঠিক কবে নাগাদ সেনা মোতায়েন করা হবে;এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানাননি তিনি। তবে তিনি বলেছেন,এ ব্যাপারে তার পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোপূর্বে অ্যামাজনের সুরক্ষাকে অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে প্রতিবন্ধকতা হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন বলসোনারো।

নরওয়েতে মসজিদে হামলাকে স ন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড অ্যাখ্যা

স্টাফ রিপোর্টার: নরওয়েতে মসজিদে হামলার ঘটনাকে সম্ভাব্য স ন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বিবেচনা করছে দেশটির সরকার। পুলিশের ভারপ্রাপ্ত প্রধান রুন স্কল্ড বলেন, গ্রেফতারকৃতর বিরুদ্ধে আগে কোনও মামলা রয়েছে কি না তা এখনও নিশ্চিত নয়। শনিবার রাজধানী অসলোর একটি মসজিদে হা মলা চালায় এক ব ন্দুকধারী। এক জন গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর সন্দেহভাজন হা মলাকারীকে আটকের কথা জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, অসলোর বায়িরাম এলাকার আল নুর ইসলামিক সেন্টারে এই হা মলার ঘটনা ঘটে।  মসজিদের প্রধান ইরফান মুসতাক স্থানীয় পত্রিকা বুদসটিক্কাকে বলেন, আমাদের এক সদস্যকে হেলমেট ও ইউনিফর্মধারী এক শ্বেতাঙ্গ গুলি করেছে। তিনি জানান, সন্দেহভাজন হা মলাকারীর কাছে দুটি শটগান ধরণের অ স্ত্র ও একটি পি স্তল ছিল। একটি কাঁচের দরজা ভেঙে প্রবেশ করে গুলি চালানো শুরু করে ওই ব্যক্তি। তবে খুব তাড়াতাড়ি তাকে নিষ্ক্রীয় করে মসজিদের অপর এক সদস্য। 

পুলিশ প্রধান জানান, ওই হামলাকারী ডানপন্থী ও অভিবাসন বি রোধী। নিজ উদ্যোগেই তিনি হামলা চালিয়েছেন।