কাশ্মিরে নিয়ে জাতিসংঘকে ভারতের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান তুরস্কের

স্টাফ রিপোর্টার: ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মির নিয়ে চলমান জটিলতা নিরসনে জাতিসংঘকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছে তুরস্ক। শনিবার এক বিবৃতিতে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, জাতিসংঘের নীতিগত কাঠামোর মধ্যে থেকে কাশ্মির বিবাদ সমাধান করা উচিত।

সোমবার (৫ আগস্ট) ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের মধ্য দিয়ে কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসনের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়। এদিকে জম্মু-কাশ্মিরকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করতে পার্লামেন্টে একটি বিলও পাস করা হয়েছে।

এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে কাশ্মিরজুড়ে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত সেনা। গ্রেফতার করা হয়েছে সেখানকার শতাধিক স্থানীয় নেতাকে। ইন্টারনেট-মোবাইল পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। বিরাজ করছে থমথমে পরিস্থিতি।

১৯৭১ সালের পর কাশ্মির ইস্যুতে এই প্রথমবারের মতো বৈঠক করলো জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। ভারত জম্মু-কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসন ও বিশেষ মর্যাদা বাতিলের পর চীনের আহবানে শুক্রবার ৯০ মিনিটের রুদ্ধদ্বার বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে চীন কাশ্মির পরিস্থিতি উদ্বেগজনক বললেও নিরাপত্তা পরিষদের পক্ষ থেকে কোনও বিবৃতি দিতে সম্মত হয়নি সদস্য রাষ্ট্রগুলো।

এক বিবৃতিতে তুর্কি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শুক্রবারের আলেঅচনাকে স্বাগত জানিয়ে বলে, সংশ্লিষ্ট সবপক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে এই বিরোধ সমাধা করতে হবে। উত্তেজনা বৃদ্ধি পায় এমন পদক্ষেপ না নেওয়ার আহ্বান জানায় তারা।

মুসলিম অধ্যুষিত আরব-আমিরাত ভারতের সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েছেন….!

স্টাফ রিপোর্টার:
ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসন ও বিশেষ অধিকার বাতিলের সিদ্ধান্তকে সমর্থনের কথা জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। ভারতে নিযুক্ত আমিরাতি রাষ্ট্রদূতকে উদ্ধৃত করে এ সমর্থনের কথা জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।

মঙ্গলবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত ড. আহমেদ আল বান্না বলেন,  ‘রাজ্যের পুনর্গঠন স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে কোনও ব্যতিক্রমী ঘটনা নয়। এটা মূলত করা হচ্ছে আঞ্চলিক বৈষম্য দূর করে উন্নতির লক্ষ্যে। ভারতীয় সংবিধান অনুযায়ী এটি একটি অভ্যন্তরীণ বিষয়।’ মুসলিম অধ্যুষিত আরব অঞ্চলের সংযুক্ত আরব আমিরাতের এই প্রতিক্রিয়া ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছে এনডিটিভি। 

ভারতীয় নেতাদের দাবি, এই পদক্ষেপের মূল কারণ হল মুসলিম অধ্যুষিত রাজ্যটিকে নিয়ন্ত্রণে আনা। এই পরিপ্রেক্ষিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সমর্থন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের মধ্য দিয়ে কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসনের অধিকার কেড়ে নেওয়ার পর জম্মু-কাশ্মিরের প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে রাজ্য থেকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করতে রাজ্যসভায় বিল পাস করেছে বিজেপি সরকার। জম্মু-কাশ্মির পুনর্গঠন বিল ২০১৯ নামের এ বিলের আওতায় জম্মু-কাশ্মিরকে দু’ভাগ করে দুটি পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পরিণত করার কথা বলা হয়েছে। জম্মু-কাশ্মির ও লাদাখ হবে পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পক্ষ থেকে কাশ্মির ইস্যুতে মোদি সরকারের সিদ্ধান্তে সমর্থনের কথা প্রকাশ হলেও পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমে তুরস্ক ও মালয়েশিয়ার বিরোধিতার খবর প্রকাশ হয়েছে।

পাকিস্তান সবার আগে সিদ্ধান্তটি ‘একতরফা’ ও ‘অবৈধ’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। ইসলামাবাদ জানিয়েছে, দিল্লির এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করতে সম্ভাব্য সব ব্যবস্থা নেবে। একই দিন বিভিন্ন দেশের সরকার প্রধানের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপ করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। ভারতের সিদ্ধান্তকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে কাশ্মির ইস্যুতে তাদের সমর্থন প্রত্যাশা করেন তিনি।

পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের খবরে বলা হয়েছে, এতে সমর্থন দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেব এরদোয়ান ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ।   সূত্র বাংলা ট্রিবিউন