গত ২৫ দিন ধরে ধৈর্য ধরে সব শুনছি, দেখছি

স্টাফ রিপোর্টার: যুক্তরাষ্ট্রে অর্থ পাচা রের অভি যোগ অস্বী কার করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন বিকল্পধারা বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য মাহী বি চৌধুরী। রবিবার (২৫ আগস্ট) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদক প্রধান কার্যালয়ে তাকে করা জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ দাবি করেন।

মাহী বি চৌধুরীকে এদিন সাড়ে ৫ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করেন দুদক কর্মকর্তারা। সকাল সাড়ে ১০টায় শুরু হয়ে এ জিজ্ঞাসাবাদ শেষ হয় বিকাল ৪টা ১০ মিনিটে।মাহি বলেন, ‘আমি ষড়য ন্ত্রের শি কার। কিছু মানুষ আছেন যাদের রাজনীতিতে কিছুই দেওয়ার নেই, তারাই ষড় যন্ত্র করছেন।’ জাতীয় নির্বাচনের আগেই তার বি রুদ্ধে ষড় যন্ত্রের শুরু বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘বিদেশে অর্থ পাচারের প্রশ্নই আসে না। বিদেশে আমার কোনও অর্থ থেকে থাকলে তা অবশ্যই বৈধভাবে আয় করা। আমি মানি লন্ডা রিং করিনি। অ বৈধ আয়ে কোনও সম্পদও গড়িনি।’ মাহী বলেন, দুদক তার বি রুদ্ধে ওঠা অভিযো গের তদন্ত করেছে। তারা তাকে অভি যুক্ত করেননি।তার বি রুদ্ধে একতরফাভাবে মিডিয়া ট্রায়াল হচ্ছে দাবি করে বিকল্পধারার প্রেসিডিয়াম সদস্য আরও বলেন, ‘এই প্রক্রিয়ায় চরিত্রহ নন চলছে।

গত ২৫ দিন ধরে ধৈর্য ধরে সব শুনছি, দেখছি।’ দুদককে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে হবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য এটা জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি। মাহী বলেন, ‘দুদক আমাকে ডেকেছে। এতে আমি বিব্রত নই। তারা আমাকে বিব্রত করেননি। তারা আন্তরিক ছিলেন।’আগামী ২৭ আগস্ট দুদকের তলব বিষয়ে সংবাদ সম্মলনে বিস্তারিত তুলে ধরা হবে জানিয়ে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদের ব্যাখ্যা দেন। বলেন, ‘খুটিনাটি অনেক বিষয় জানতে চেয়েছেন তারা। আয়-ব্যয়ের হিসাব, ১০ বছরের ট্যাক্সের নথিপত্র নিয়ে কথা হয়েছে। প্রতিটি বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ। সব প্রশ্নেরই জবাব দিয়েছি।’ তিনি নিজের সবকিছুকে বৈধ দাবি করেন

আরও অনেক বিচারপতির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আছে: খোকন

স্টাফ রিপোর্টার: সদ্য দুর্নীতির অভিযোগ ওঠা তিন বিচারপতি ছাড়াও হাইকোর্টের আরও অনেক বিচারপতির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করেছেন সুপ্রিম কোর্ট বারের (আইনজীবী সমিতি) সম্পাদক ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন।

বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি তোলেন।
প্রসঙ্গত, সুপ্রিম কোর্টের বৃহস্পতিবারের কার্যতালিকায় অন্য বিচারপতিদের নাম ও বেঞ্চ নম্বর উল্লেখ থাকলেও তিন বিচারপতির নাম রাখা হয়নি। এই তিন বিচারপতি  হলেন—বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী, বিচারপতি কাজী রেজাউল হক এবং বিচারপতি একেএম জহুরুল হক।

দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের এই তিন বিচারপতিকে আপাতত তাদের দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রাখা হয়েছে। এ কারণে বৃহস্পতিবারের (২২ আগস্ট)  কার্যতালিকায় তাদের নাম রাখা হয়নি। সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের কয়েকটি সূত্র বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তবে কোন ধরনের দুর্নীতির অভিযোগে তাদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে এখনই কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।

ট্রেনে কাটা পড়ে দুই শিক্ষার্থীর মৃ ত্যু ঘিরে র হস্য

স্টাফ রিপোর্টার:কুমিল্লায় ট্রেনে কাটা পড়ে দুই শিক্ষার্থীর মৃ ত্যু নিয়ে রহ স্য দানা বেঁধেছে। তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল কিনা, তা নিয়ে চলছে নানা কথা। কিন্তু, তাদের পরিবার থেকে দাবি করা হয়েছে, প্রেমের বিষয়ে তারা কিছু জানেন না। শুক্রবার (২৩ আগস্ট) আদর্শ সদর উপজেলার বদরপুর এলাকায় রেলসেতুর দক্ষিণ অংশে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহ তরা হলো- সদর উপজেলার শাসনগাছা এলাকার মনিরুল হকের ছেলে স্বপ্নীল হক আদিত্য (১৩)ও ধর্মপুর এলাকার সুবল রায়ের মেয়ে সেতু রায় (১৪)। ছেলেটি কুমিল্লা পুলিশ লাইন্স স্কুলের সপ্তম শেণির ছাত্র ছিল। মেয়েটি রেলওয়ে পাবলিক স্কুলের নবম শেণির ছাত্রী ছিল। নি হতদের মরদেহ পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে আসা হয়েছে। সেতু রায়ের মা গোলাপী রানী রায় জানান, ‘তার মেয়ে শুক্রবার সকাল পৌনে ১০টায় নগরীর বাগিচাগাঁও এলাকায় পাইভেট পড়তে বাড়ি থেকে বের হয়। দুপুর ১২টার দিকে ট্রেনে কাটা পড়ে সেতু মারা গেছে বলে তিনি খবর পান।

নি হত আদিত্যের সঙ্গে সেতুর কোনও প্রেমের সম্পর্ক ছিল কিনা, তিনি জানেন না।’ স্বপ্নীল হক আদিত্যের বাবা মনিরুল হক বলেন, ‘নগরীর রেইসকোর্স এলাকায় পাইভেট পড়তো আদিত্য। শুক্রবার সকাল ১১টায় পাইভেট পড়তে বাড়ি থেকে সে বের হয়। দুপুর ১২টার দিকে আমরা খবর পাই, আদিত্য ট্রেনে কাটা পড়ে মারা গেছে। সেতু রায়ের সঙ্গে আদিত্যের কোনও প্রেমের সম্পর্ক ছিল কিনা, তা আমার জানা নেই।’

কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও কুমিল্লা সদর সার্কেল তানভীর সালেহীন ইমন বলেন, ‘নিহ ত দুই শিক্ষার্থী আ ত্মহত্যা করেছে, না ট্রেনে কাটা পড়ে মারা গেছে; তা পুলিশ খতিয়ে দেখছে।’ কুমিল্লা রেলওয়ে (জিআরপি) ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক মেজবাউল হক মেজবাহ জানান, ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী মহানগর প্রভাতী এক্সপ্রেস ট্রেনটি দুপুরে বদরপুর এলাকা অতিক্রম করছিল। তখন দুই শিক্ষার্থী ওই ট্রেনে কাটা পড়ে। স্থানীয়দের মাধ্যমে এমন খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নি হতদের মর দেহ উদ্ধা র করে কুমিল্লা রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে আসে। ময়নাতদন্তের জন্য তাদের মরদেহ কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, ঘুরতে গিয়ে সেতু রায় নামে ওই মেয়েটি রেল লাইনের একটি অংশে আটকা পড়ে। আদিত্য তাকে বাঁচাতে যায়। পরে তারা দুই জনই ট্রেনে কাটা পড়ে মা রা যায়। সূত্র বাংলা ট্রিবিউন

ট্রেনে ধ র্ষণ ও হ ত্যার শিকার আসমার ঘা তকদের বিচার দাবিতে মানববন্ধন

স্টাফ রিপোর্টার:ট্রেনের পরিত্যক্ত বগিতে হ ত্যার শিকার মাদ্রাসা ছাত্রী আসমা খাতুনের ঘাতকদের বিচার দাবিতে মানববন্ধন করেছে ঢাকাস্থ পঞ্চগড়বাসী। শুক্রবার (২৩ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, গণমাধ্যমের খবরে আমরা জেনেছি, পঞ্চগড় থেকে আসমা তার প্রেমিক মারুফ হাসান বাঁধনের সঙ্গে ঢাকায় আসছিল।

পথেই ট্রেনের মধ্যে গণধ র্ষণের পর আসমাকে শ্বাসরোধ করে হ ত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত সন্দেহভাজন বাঁধন, হ ত্যাকারী বা ধ র্ষকদের কাউকেই গ্রেফতার করা হয়নি। আমরা আসমা হ ত্যা এবং তাকে ধ র্ষণের বিচার চাইতে এসেছি।

দোষীদের এমন শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক যাতে আর কোনও বোন ধ র্ষিত না হয়।মানববন্ধনে ঢাকাস্থ পঞ্চগড়বাসীর সভাপতি সাজ্জাদ হোসেন সরকার বলেন, ‘এর আগে দিনাজপুরের মেয়ে ইয়াসমিন হ ত্যার বিচারের দাবিতে গোটা উত্তরবঙ্গ যেভাবে ফুঁসে উঠেছিল, আসমা হ ত্যা এবং ধ র্ষণের বিচার না হলে আবারও ফুঁসে উঠবে উত্তরবঙ্গ।

কাজেই সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে অনুরোধ করবো অবিলম্বে আসমা হ ত্যার সঙ্গে জড়িত সকলকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক।’ মানববন্ধনে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলামসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।প্রসঙ্গত, গত ১৯ আগস্ট রাজধানীর কমলাপুর রেল স্টেশনে বলাকা কমিউটার ট্রেনের পরিত্যক্ত বগির টয়লেট থেকে আসমা খাতুনের লা শ উদ্ধার করে পুলিশ।

আরও পড়ুন: পঞ্চগড়ে নিখোঁজ কিশোরীর লাশ মিললো কমলাপুরে পরিত্যক্ত ট্রেনের বগিতে বাঁধনকে ধরলেই জানা যাবে সব,জানা যাবে।

মীর কাসেম আলীর ১৪টি ফ্ল্যাট-দোকানের মালিকানা পরিবর্তন

স্টাফ রিপোর্টার: সরকারের নিবন্ধন পরিদফতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা ক মীর কাসেম আলীর সম্পদ হস্তান্তর করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অগোচরে মালিকানা পরিবর্তানের এ ঘটনা ঘটেছে।
বাংলা ট্রিবিউনের অনুসন্ধানে মীর কাসেমের মালিকাধীন প্রতিষ্ঠান কেয়ারী লিমিটেডের ৩টি ফ্ল্যাট ও ১১টি দোকান হস্তান্তরের তথ্য মিলেছে। ধানমন্ডির সাতমসজিদ রোডের ‘কেয়ারী ক্রিসেন্ট’ ভবনে [প্লট-১৪৮জি (পুরাতন), ৬০ (নতুন); রোড নং ১৩৮ (পুরাতন), ২এ (নতুন)] এসব ফ্ল্যাট ও দোকানের অবস্থান। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মীর কাসেমের সম্পদ হস্তান্তরে তৎপর ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন অধিশাখা-৭-এর দুই কর্মকর্তা। সম্পদ হস্তান্তর ও নামজারির বিষয়ে একের পর এক নির্দেশ জারি করেন তারা। গত বছরের ২৯ নভেম্বর থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে নির্দেশ জারি করে মীর কাসেমের ১৪টি ফ্ল্যাট ও ১১টি দোকান হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হয়।

এ বিষয়ে জানতে উন্নয়ন অধিশাখা-৭-এর উপসচিব এস এম নজরুল ইসলাম ও উপসচিব মো. আব্দুল ওয়াদুদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সফল হওয়া যায়নি। তাদের মুঠোফোনে দফায় দফায় ফোন করে এবং বার্তা পাঠিয়েও সাড়া মেলেনি।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এ ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ‘যুদ্ধাপরাধী মীর কাসেমের সম্পদ হস্তান্তর, বিক্রি ও দলিল রেজিস্ট্রিতে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তারপরও কীভাবে  হস্তান্তর হচ্ছে তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তিনি বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধা ও গণমানুষের দাবি যুদ্ধাপরাধীদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা করা হোক। সরকারের পরিকল্পনাও সেরকম। এই পরিকল্পনায় কারা বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে, যুদ্ধাপরাধীদের সম্পদ হস্তান্তরে কারা সহযোগিতা করছে, তা খুঁজে বের করা হবে।’

গত বছরের ২৪ এপ্রিল ঢাকা জেলা রেজিস্ট্রার দ্বীপক কুমার সরকার ‘মীর কাসেম আলী ও তার মালিকাধীন প্রতিষ্ঠানের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ হস্তান্তর এবং দলিল রেজিস্ট্রেশন না করা প্রসঙ্গে’ নিবন্ধন পরিদফতরের মহাপরিদর্শকের কাছে চিঠি পাঠান। ওই চিঠির অনুলিপি আইনমন্ত্রী ও আইন সচিবের একান্ত সচিবদেরও পাঠানো হয়।

চিঠিতে বলা হয়, যুদ্ধাপরাধী মীর কাসেম আলী কেয়ারী লিমিটেডসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, জমি ও স্থাপনার মালিক। এসব প্রতিষ্ঠান ও সম্পদ হস্তান্তর, দলিল রেজিস্ট্রেশন না করাসংক্রান্ত সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দেওয়ার অনুরোধ করা হলো।

চিঠিতে আরও বলা হয়, ২০১৮ সালের ২২ ও ২৩ এপ্রিল কেয়ারী লিমিটেডের কিছু সম্পত্তি উত্তরা সাব রেজিস্ট্রি অফিসে রেজিস্ট্রেশনের জন্য উপস্থাপিত হয়। বিষয়টি জানার পর আইন মন্ত্রণালয়ের সচিবকে তা জানানো হয়। তিনি যুদ্ধাপরাধীদের মালিকাধীন প্রতিষ্ঠানের জমি রেজিস্ট্রেশন থেকে বিরত থাকতে সাব রেজিস্ট্রারদের নির্দেশ দিতে বলেন। পরে আইনমন্ত্রীকেও জানানো হয়। মন্ত্রীও যুদ্ধাপরাধীদের সম্পদ হস্তান্তর, দলিল রেজিস্ট্রি না করার নির্দেশ দেন।

২০১৮ সালের ১৯ জুন নিবন্ধন পরিদফতরের মহাপরিদর্শক খান মো. আবদুল মান্নান ‘যুদ্ধাপরাধী মীর কাসেম আলী ও তার মালিকাধীন প্রতিষ্ঠানের জমি বিক্রি বা কোনও প্রকল্প হস্তান্তর না করা প্রসঙ্গে’ আদেশ জারি করেন। আদেশটি সারাদেশের সাব রেজিস্ট্রি অফিস, রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানি অ্যান্ড ফার্মস (যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মগুলোর পরিদফতর) ও মানি এক্সচেঞ্জে পাঠানো হয়।

এই আদেশ উপেক্ষা করে কীভাবে মীর কাসেমের সম্পদ হস্তান্তরে একের পর এক নির্দেশ জারি করা হচ্ছে—তা জানতে মহাপরিদর্শক খান মো. আব্দুল মান্নানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে বাংলা ট্রিবিউিন। তার কার্যালয়ে এবং মুঠোফোনে যোগাযোগ করেও কোনও জবাব পাওয়া যায়নি।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত বছরের ১০ ডিসেম্বর গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন অধিশাখা-৭-এর উপসচিব এস এম নজরুল ইসলাম ধানমন্ডির সাতমসজিদ রোডের (প্লট-১৪৮জি (পুরাতন), ৬০ (নতুন); রোড নং ১৩৮ (পুরাতন), ২এ (নতুন)] ৯ কাঠা ৪ ছটাক জমির ওপর নির্মিত ‘কেয়ারী ক্রিসেন্ট’ নামে ১৩ তলা ভবনের ১২ তলায় ১,০৮৪ বর্গফুটের দুটি ফ্ল্যাট (এ-১১ ও এ-১২) হস্তান্তরের আদেশ জারি করেন। ওই আদেশে দাতা হিসেবে কেয়ারী লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শামসুল হুদা এবং গ্রহীতা হিসেবে খন্দকার হাবিবার নাম উল্লেখ করা হয়।
ধানমন্ডি সাব রেজিস্ট্রি অফিস জানায়, ফ্ল্যাট দুটি হস্তান্তর করা হয় গত ২৯ জানুয়ারি। সাব রেজিস্ট্রার ছিলেন মো. লুৎফর রহমান মোল্লা। হস্তান্তরের আর্থিক মূল্য দেখানো হয় ৫৬ লাখ ৮৬ হাজার টাকা। অথচ ফ্ল্যাট দুটির বাজারমূল্য ২ কোটি টাকার বেশি।
জানতে চাইলে সাব রেজিস্ট্রার লুৎফর রহমান মোল্লা বলেন, “সম্পদের কোথাও ‘যুদ্ধাপরাধীর সম্পদ’ লেখা নেই। তাই দলিল রেজিস্ট্রিতেও বাধা নেই।”

১১ দোকান ও ১টি ফ্ল্যাট বিক্রি 
কেয়ারী ক্রিসেন্টের আরও ১১টি দোকান ও ১টি ফ্ল্যাট হস্তান্তরের নির্দেশ দেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন ও অধিশাখা-৭-এর উপসচিব মো. আব্দুল ওয়াদুদ ও উপসচিব এস এম নজরুল ইসলাম।
গত বছরের ২৯ নভেম্বর উপসচিব মো. আব্দুল ওয়াদুদ কেয়ারী লিমিটেডের ভবনের ৪১৭, ৩৬৭, ৩০৮, ৫৩৩ ও ৪১৩ বর্গফুটের ৫টি দোকান হস্তান্তর ও নামজারির নির্দেশ দেন। নির্দেশে দাতা হিসেবে কেয়ারী লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শামসুল হুদা ও গ্রহীতা হিসেবে শাহিন কবিরের নাম উল্লেখ করা হয়।
গত ৩ জানুয়ারি ৪৪৭, ১৯০ ও ২৪৭ বর্গফুটের আরও ৩টি দোকান হস্তান্তর ও নামজারির নির্দেশ দেন উপসচিব এস এম নজরুল ইসলাম। এতে দাতা হিসেবে শামসুল হুদা এবং গ্রহীতা হিসেবে আমির হোসাইন, কাজী আহমদ ফারুক ও মোহাম্মদ বোরহান উদ্দীন রব্বানীর নাম উল্লেখ করা হয়।

৯ জানুয়ারি উপসচিব নজরুল ইসলাম ১৮৩ বর্গফুটের একটি দোকান হস্তান্তর ও নামজারির নির্দেশ দেন। এতে দাতা হিসেবে শামসুল হুদা ও গ্রহীতা হিসেবে মাহবুবুল হকের নাম উল্লেখ করা হয়।
২২ জানুয়ারি উপসচিব নজরুল ইসলাম ২৫২ ও ৩৩৯ বর্গফুটের দুটি দোকান হস্তান্তর ও নামজারির নির্দেশ দেন। এতে দাতা হিসেবে শামসুল হুদা ও হস্তান্তরগ্রহীতা হিসেবে রাই হরন দেবনাথের নাম উল্লেখ করা হয়।

১৪ ফেব্রুয়ারি উপসচিব নজরুল ইসলাম ১,৬৭১ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট হস্তান্তর ও নামজারির নির্দেশ দেন। এতে দাতা হিসেবে শামসুল হুদা ও গ্রহীতা হিসেবে কাজী মো. রাশেদুল হাসানের নাম উল্লেখ করা হয়।
হস্তান্তর দাতা কেয়ারী লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামসুল হুদার বক্তব্য জানতে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে বাংলা ট্রিবিউন। তবে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

প্রসঙ্গত, জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য মীর কাসেম আলী ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় ইসলামী ছাত্রসংঘের চট্টগ্রাম শাখার সাধারণ সম্পাদক ও আল বদর বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণূ নেতা ছিলেন তিনি। জামায়াতের অর্থের জোগানদাতা মীর কাসেম ছিলেন কেয়ারী গ্রুপের মালিক। ইসলামী ব্যাংক, ইবনে সিনা ট্রাস্ট, দিগন্ত মিডিয়াসহ বেশ কিছু ব্যবসায়িক গ্রুপের উদ্যোক্তা ও অংশীদারও ছিলেন তিনি।

২০১২ সালের ১৭ জুন অভিযোগে গ্রেফতার হন মীর কাসেম। ২০১৩ সালের ৫ সেপ্টেম্বর তার বিরুদ্ধে ১৪টি অভিযোগ গঠন করে বিচারকাজ শুরু করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ২০১৪ সালের ২ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালের রায়ে দুটি অভিযোগে তার ফাঁসি ও ৮টি অভিযোগে কারাদণ্ড হয়। ২০১৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বর গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
ছবি: সাজ্জাদ হোসেন সূত্র বাংলা ট্রিবিউন

বাড়ির কাজ বন্ধ, ৯০ লাখ টাকায় মীমাংসার প্রস্তাব পুলিশ কর্মকর্তার! | সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার: ৯০ লাখ টাকার বিনিময়ে দুই পক্ষের বিবাদ মীমাংসা করে দেওয়ার প্রস্তাব দেন এক পুলিশ কর্মকর্তা। সে অনুযায়ী টাকা না পেয়ে তিনি রাজধানীর ভাষানটেক এলাকায় ৩১ জনের যৌথ মালিকানার একটি প্লটে ভবন নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি মালিকদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলাও দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় একটি চক্রের যোগসাজশে এ কাজ করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সিনিয়র সহকারী কমিশনার এস এম শামীম। এ বিষয়ে ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে পুলিশ সদর দফতর ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলে নড়েচড়ে বসেন এই পুলিশ কর্মকর্তা। অভিযোগকারীসহ অন্যদের ডেকে নিয়ে অভিযোগ তুলে নিতে চাপও দিয়েছেন তিনি। কিন্তু ডিএমপি কমিশনার বিষয়টি আমলে নিয়ে তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন। ইতোমধ্যে পুলিশের মিরপুর বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার শাহেন শাহ তদন্ত শুরু করেছেন।যোগাযোগ করা হলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পল্লবী জোনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার এস এম শামীম বলেন, ‘আমার কাছে জহিরুল নামে একজন আবেদন করেছিলেন। আমি বলেছিলাম যে জমিসংক্রান্ত বিষয় সমাধানের কাজ আমার নয়। তবু আইনশৃঙ্খলার অবনতি হতে পারে বলে আমি দুই পক্ষকে ডেকেছিলাম।’

তিনি বাড়ির নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেননি বা তাদের কাছে কোনও টাকাও চাননি বলে দাবি করেন।পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, “যিনি আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন তিনি আমাকে বিষয়টি সমাধান করে দেওয়ার জন্য বলেছেন। আমি তাকে বলেছি যে যদি জমির মালিককে ‘কম্পেনসেশন’ দিয়ে আপনারাই এটা সমাধান করেন।” পরে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দেওয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন।পুলিশ সদর দফতর (স্মারক নং ১০৫৬) ও ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্সে দেওয়া অভিযোগ থেকে জানা গেছে, ভাষানটেক থানার টোনারটেক মসজিদের পার্শ্বে ৫৮৫সি নম্বর প্লটে একটি ভবনের নির্মাণকাজ চলছিল। ২০১৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যৌথভাবে ওই জমি কেনেন ৩১ জন। গত বছরের ১৬ জুলাই তারা নির্মাণকাজ শুরু করেন। এ বছরের ১৮ এপ্রিল হঠাৎ পল্লবী জোনের সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার এস এম শামীম বাড়ির মালিকদের কাছে একটি চিঠি [স্মারক নং ২১৯(২)এসি (পল্লবী জোন)] পাঠান। ওই চিঠিতে তিনি বলেন, জহরিুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি জমির মালিক পরিচয় দিয়ে অভিযোগ করেছেন। এ জন্য বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য বাদী ও বিবাদীদের কাগজপত্র নিয়ে ২২ এপ্রিল হাজির হতে বলেন এস এম শামীম। তবে এ চিঠি ইস্যুর এক দিন পরই নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।জমির ৩১ মালিকদের একজন নটরডেম কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক শহীদুল হাসান পাঠান।

তিনি পুলিশ সদর দফতরে করা আবেদনে বলেন, বাড়ির কাজ বন্ধ না করলে ওই পুলিশ কর্মকর্তা তাদের ‘ক্রসফায়ার’-এ দেওয়ার হুমকিও দেন। এসময় তারা রাজউকের অনুমোদিত নকশা নিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত ভূমি কমিশনারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ভূমি কমিশনার জমিতে কোনও সমস্যা নেই বলে জানান। পরে আবারও তারা কাজ শুরু করতে গেলে পুলিশ কর্মকর্তা শামীম ক্ষিপ্ত হন। গত ১৪ জুন তাদের ৭ জনের বিরুদ্ধে একটি জিডি (নং ৪৯৮) করা হয়।ওই অভিযোগে বলা হয়, গত ২৭ জুলাই পল্লবীর ৯৫ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি হাফিজুর রহমান সরদার, এসএম সাদিকুরসহ ৩০-৩৫ জন তাদের সাইনবোর্ড ফেলে দিয়ে নতুন সাইনবোর্ড লাগিয়ে দেন। বাড়ির কাজ করলে মেরে ফেলা হবে বলে হুমকি দেন তারা। মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলহাজতে পাঠানোরও হমকি দেওয়া হয়। ওই দিনই মালিকদের কয়েকজন বিষয়টি এসি শামীমকে জানালে তিনি হাফিজুর রহমানের সঙ্গে টাকা-পয়সা দিয়ে মীমাংসা করতে বলেন। তা না হলে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হবে বলে হুমকি দেন। এ থেকে পরিত্রাণের উপায় জানতে চাইলে পুলিশ কর্মকর্তা শামীম বলেন, আপনারা ৩১ মালিকের প্রত্যেকে ৩ লাখ টাকা করে মোট ৯০ লাখ টাকা হাফিজকে দিয়ে দিন। এতে রাজি না হওয়ায় পরদিনই মোস্তাফিজুর রহমান নামে স্থানীয় এক ব্যক্তিকে দিয়ে মালিকদের মধ্যে ৫ জনের নামের একটি মামলা দায়ের করানো হয়। অভিযোগে বলা হয়, পুলিশ কর্মকর্তা শামীম এবং স্থানীয় কাউন্সিলর ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি হাফিজের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। এসি শামীম নিজেই হাফিজের মাধ্যমে জহিরকে দিয়ে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে কাজ বন্ধ করে রেখেছেন।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তদন্ত শুরু হওয়ার পর পুলিশ কর্মকর্তা এস এম শামীম বিষয়টি সমাধানের জন্য বাদী শহীদুল হাসান পাঠানসহ অন্য মালিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

বিষয়টি নিয়ে যাতে গণমাধ্যমে প্রকাশ করা না হয় সেজন্যও তদবির শুরু করেন তিনি। যোগাযোগ করা হলে অভিযোগকারী শহীদুল হাসান পাঠান পুলিশ মহাপরিদর্শক ও ডিএমপি কমিশনার বরাবর অভিযোগ করার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি সমাধানের প্রক্রিয়া চলছে।
পুলিশ সদর দফতর ও ডিএমপির একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পুলিশের উচ্চ পর্যায় থেকে জমিসংক্রান্ত যেকোনও ঘটনায় পুলিশের হস্তক্ষেপ না করার বিষয়ে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের কঠোরভাবে নিষেধ রয়েছে। দেওয়ানি মামলা সম্পর্কিত সব ঘটনা আদালতের মাধ্যমে সমাধানের নির্দেশনা রয়েছে।এদিকে ডিএমপি কমিশনার অভিযোগটি আমলে নিয়ে মিরপুর বিভাগের উপ-কমিশনারকে বিষয়টি তদন্ত করে দেখার নির্দেশ দেন। মিরপুর বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার শাহেন শাহকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তদন্তের অংশ হিসেবে অভিযোগকারী শহীদুল হাসান পাঠানকে গত ১৯ আগস্ট একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) তার বক্তব্য রেকর্ড করা হবে বলে জানা গেছে। জানতে চাইলে অতিরিক্ত উপ-কমিশনার শাহেন শাহ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্সের নির্দেশে বিষয়টি আমি তদন্ত করছি। উভয় পক্ষকে ডাকা হয়েছে। এছাড়া এসি তো আমার এখানেই রয়েছে।’ তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

মিন্নিকে কেন জামিন দেওয়া হবে না : হাইকোর্ট

স্টাফ রিপোর্টার:বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হ ত্যা মামলায় তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে কেন জামিন দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে জবাব চেয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) মিন্নির জামিন আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

পাশাপাশি আদালত মিন্নির জবানবন্দির বিষয়ে স্থানীয় পুলিশ সুপারের সংবাদ সম্মেলনের বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী ২৮ আগস্টের মধ্যে তাকে ওই ব্যাখ্যা দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মামলার যাবতীয় নথিসহ (কেস ডকেট বা সিডি) তদন্ত কর্মকর্তাকে তলব করেছেন আদালত।

আদালতে মিন্নির জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী জেড আই খান পান্না। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মাক্কিয়া ফাতেমা ইসলাম। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সারোয়ার হোসেন বাপ্পী।

এরআগে, গত ৮ আগস্ট মিন্নিকে সরাসরি জামিন না দিয়ে জামিনের বিষয়ে রুল জারি করতে চাইলে আবেদনটি (জামিন) ফেরত নিয়েছিলেন মিন্নির আইনজীবী জেড আই খান পান্না। এরপর গত ১৮ আগস্ট হাইকোর্টের নতুন আরেকটি বেঞ্চে জামিন আবেদন করেন মিন্নির আইনজীবীরা। ওই আবেদনের শুনানিকালে রিফাত হ ত্যা মামলায় তার স্ত্রী মিন্নিকে কবে, কখন গ্রেফতার করা, আদালতে নেওয়া ও তার জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পুলিশ সুপার কবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সেসব তথ্য জানতে চাওয়া হলে তা মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) আদালতে দাখিল করেন মিন্নির আইনজীবীরা।

প্রসঙ্গত, গত ২৬ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে স ন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে কু পিয়ে গুরুতর আ হত করে রিফাত শরীফকে। তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি হামলাকারীদের সঙ্গে লড়াই করেও তাদের দমাতে পারেননি। গুরুতর আ হত রিফাতকে ওইদিন বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বিকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ ঘটনায় রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখ ও পাঁচ-ছয়জনকে অজ্ঞাত আসামি করে বরগুনা থানায় একটি হ ত্যা মামলা দায়ের করেন।

পরে ১৬ জুলাই সকাল পৌনে ১০টার দিকে মিন্নিকে তার বাবার বাড়ি বরগুনা পৌর শহরের নয়াকাটা-মাইঠা এলাকা থেকে পুলিশ লাইনে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রাত ৯টায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। পরদিন ১৭ জুলাই মিন্নিকে বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলে বিচারক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম গাজী ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এরপর কয়েক দফা আবেদন জানালেও নিম্ন আদালত মিন্নিকে জামিন দেননি। পরে জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন তিনি।

অপরাধীদের শাস্তি দ্রুত নিশ্চিত না করায় ধ র্ষণ বেড়েছে : হাইকোর্ট

স্টাফ রিপোর্টার:দ্রুততম সময়ে অপরাধীদের বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়ায় ধ র্ষণের মতো অপরাধ বেড়েছে বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

ধর্ষণ সংক্রান্ত মামলায় দুই আসামির জামিন আবেদন খারিজ করা আদালতের লিখিত আদেশ মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে। বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চের স্বাক্ষরের পর প্রকাশিত ওই লিখিত আদেশে আদালতের পর্যবেক্ষণের বিষয়গুলো উঠে এসেছে।

আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে— ‘সাম্প্রতিক সময়ে দেশে ধর্ষণ বিশেষত শিশু ধ র্ষণ ও ধ র্ষণ পরবর্তী হত্যার মতো ঘৃণ্য অপরাধ বেড়েই চলেছে। এই অপরাধের সঙ্গে জড়িত অপরাধীর দ্রুততম সময়ে বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে না পারার দায় মূলত রাষ্ট্রের ওপরেই বর্তায়। এক্ষেত্রে বিচার বিভাগও জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে নয়।

আদালত তাদের লিখিত আদেশে আরও  বলেছেন, ‘আমাদের অভিজ্ঞতা হলো যে, ধ র্ষণ সংক্রান্ত মামলার আসামিগরা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই বেপরোয়া ও ধূর্ত প্রকৃতির। এরা ভিকটিম ও তার পরিবারের ওপরে চাপ-প্রভাব বিস্তার, আদালতে সাক্ষ্য দিতে ভয়-ভীতি, প্রলোভনসহ বিভিন্ন ধরনের কূটকৌশল অবলম্বন করে।

ক্ষেত্র বিশেষে সালিশের নামে সামাজিক বিচার করে ভিকটিম ও তার পরিবারকে মামলা প্রত্যাহারে বাধ্য এবং আদালতে সাক্ষ্য প্রদানে বিরত থাকার জন্য চাপ প্রয়োগ করে থাকে। এ অবস্থায় ‘সাক্ষী সুরক্ষা আইন’ প্রণয়নের বিকল্প নেই। আমরা প্রত্যাশা করছি, সরকার দ্রুততম সময়ে এ বিষয়ে আইন প্রণয়ন করবে।

আদালত বলেন,‘দেশের বিভিন্ন নারী ও শিশু নি র্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ধ র্ষণ ও ধ র্ষণ পরবর্তী হত্যাসহ নারী ও শিশু নি র্যাতন দমন আইনের মামলাগুলো বিচারের জন্য অপেক্ষমান। এর মধ্যে ৪/৫ বছরের পুরনো মামলার সংখ্যাও নেহাত কম নয়।

অভিযোগ গঠনে বিলম্ব এবং যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া ধার্য তারিখে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী উপস্থিত না হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক কয়েক মাস পরপর তারিখ পড়ছে। যদিও এই (নারী ও শিশু নি র্যাতন দমন আইন- ২০০০) আইনের ২০(৩) ধারায় সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে যে, মামলা বিচারের জন্য নথি প্রাপ্তির তারিখ হতে ছয় মাসের মধ্যে বিচার কাজ সমাপ্ত করার।

প্রসঙ্গত, ধ র্ষণের মামলায় বিচারিক আদালতে জামিন না মঞ্জুরের পর আসামি মো. রাহেল ওরফে রায়হান এবং মো. সেকান্দার আলী জামিন বিষয়ে হাইকোর্টে আপিল দায়ের করেন। কিন্তু আদালত তাদের আবেদন নামঞ্জুর করে পর্যবেক্ষণসহ এই আদেশ দেন।

বিয়ের আশ্বাস দিয়ে গার্মেন্টকর্মীকে ধ র্ষণ করার অভিযোগে চিকিৎসক গ্রে ফতার

স্টাফ রিপোর্টার: নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় গার্মেন্টকর্মীকে (১৭) ধ র্ষণের অভিযোগে রফিকুল ইসলাম ওরফে অপু (৪০) নামে এক দন্ত চিকিৎসককে গ্রে ফতার করেছে পুলিশ। সোমবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে ফতুল্লার পঞ্চবটি এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত ডাক্তার অপু সদর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের লামাপাড়া এলাকার মৃ ত আব্দুল করিমের ছেলে। তিনি ফতুল্লার পঞ্চবটি মামুন মার্কেটে একটি ডেন্টাল ক্লিনিকের চিকিৎসক।
ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম হোসেন জানান, ফতুল্লার পঞ্চবটি এলাকায় পরিবারের সঙ্গে ভাড়া বাড়িতে বসবাস করে ওই গার্মেন্টসকর্মী। তার মায়ের দাঁতের সমস্যা নিয়ে তারা পঞ্চবটি মামুন মার্কেটে একটি ডেন্টাল ক্লিনিকে চিকিৎসার জন্য যায়। তখন চিকিৎসক অপু গামের্ন্টসকর্মীর মাকে বলেন, আপনার মেয়েকে বিয়ে করবো। পরিচয়ের সূত্র ধরে গত শনিবার দুপুরে গার্মেন্টকর্মীকে ফোনে তার চেম্বারে ডেকে আনেন অপু। সেখানে মেয়েটিকে ধ র্ষণ করে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ওসি আরও জানান, গার্মেন্টসকর্মীর অভিযোগের ভিত্তিতে সোমবার দুপুরে দন্ত চিকিৎসক অপুকে গ্রে ফতার করা হয়। আর এ ঘটনায় ভিকটিমের মা বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় মা মলা দায়ের করেন। আগামীকাল মঙ্গলবার ভিকটিমকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে।

বিক্রি করতে না পেরে চামড়া মাটিতে পুঁতে ফেলা হয় : তদন্ত কমিটি

স্টাফ রিপোর্টার: বিক্রি করতে না পেরেই সৈয়দপুর হাফিজিয়া হোসাইনিয়া দারুল হাদিস মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ কোরবানির পশুর চামড়া মাটিতে পুঁতে ফেলে বলে জানিয়েছে তদন্ত কমিটি। সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার সৈয়দপুর সাহারপাড়া ইউনিয়নের এই মাদ্রাসাটি মঙ্গলবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে চামড়াগুলো মাটিতে পুঁতে ফেলে। এই ঘটনার পর উপজেলা প্রশাসনের গঠন করা তদন্ত কমিটির সদস্যরা বুধবার (১৪ আগস্ট) দুপুর ১২টায় মাদ্রাসা ক্যাম্পাস পরিদর্শন করেন।

তদন্ত কমিটির সদস্য জগন্নাথপুর উপজেলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন অফিসার নব কুমার সিংহ বলেন, ‘বুধবার (১৪ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে আমরা মাদ্রাসা ক্যাম্পাস সরেজমিনে পরিদর্শন করি। বিকাল ৫টা পর্যন্ত ওই এলাকায় পরিদর্শন করেছি। আমরা দেখেছি, চামড়া পুঁতে রাখা জায়গা থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। মাটির নিচে গ্যাসের কারণে চামড়াগুলো ফুলে ওঠে মাটি ভেদ করেছিল। পরে ব্লিচিং পাউডার বালি ও মাটির আস্তর দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। তদন্ত কমিটি মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটি, শিক্ষক ও স্থানীয় এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলেন। তারা জানান, সংগৃহীত চামড়া বিক্রি করতে না পারায় পরিবেশ রক্ষা করতে মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়েছে। তদন্ত কমিটি লিখিত প্রতিবেদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দিয়েছে।’

এ প্রসঙ্গে জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহফুজুল আলম বলেন, ‘বিকালে আমি মাদ্রাসা ক্যাম্পাস পরিদর্শন করে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও এলাকাবাসীসহ অনেকের সঙ্গে কথা বলেছি। মূলত ক্রেতা না পাওয়ায় ও চামড়া থেকে দুর্গন্ধ বের হওয়ার কারণে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ সংগৃহীত চামড়াগুলো মাটিতে পুঁতে ফেলেন। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ সিলেটে চামড়া ব্যবসায়ীদের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছিল, কিন্তু তারাও কিনতে রাজি না হওয়ায় মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ নিরুপায় হয়ে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চামড়ার গন্ধে যেন এলাকার পরিবেশ দূষিত না হয়, সেজন্য প্রশাসন ১০ কেজি ব্লিচিং পাউডার, মাটি ও বালির আস্তর এবং পলিথিন দিয়ে চামড়া পুঁতে ফেলার জায়গা ঢেকে দিয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন রাতেই (১৪ আগস্ট) জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হয়েছে।’

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে সৈয়দপুর সাহারপাড়া ইউনিয়নের সৈয়দপুর গ্রামের সৈয়দপুর হাফিজিয়া হোসাইনিয়া দারুল হাদিস মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ৮০০ পিস গরুর চামড়া ও ৯৫ পিস ছাগল,বকরি ও ভেড়ার চামড়া মাটির নিচে পুতে ফেলেন।

মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল হাফেজ মাওলানা সৈয়দ ফখরুল ইসলাম জানান, চামড়াগুলো বিক্রির জন্য অনেক চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু, কোনও ক্রেতা পাওয়া যায়নি। তাই মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়েছে।
ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ তৈয়ব মিয়া কামালীকে প্রধান করে উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর লতিফুল বারী ও উপজেলা ফায়ার স্টেশনের স্টেশন অফিসার নব কুমার সিংহকে সদস্য করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।