গাড়ির যাত্রা বিরতিকালে স্বামীকে হোটেলে আটকে স্ত্রীকে ধ র্ষণ

স্টাফ রিপোর্টার: গাড়ির যাত্রা বিরতিকালে স্বামীকে হোটেলে আটকে স্ত্রীকে ধ র্ষণ
নেত্রকোনা প্রতিনিধি:  স্ত্রী টয়লেটে ঢোকার পর স্বামীকে হোটেলে আটকে ছয় যুবক এক তরুণীকে ধর্ষণ করেছে। তাদের বহনকারী বাসের যাত্রাবিরতিতে এমন ঘটনায় এই দম্পত্তির ঈদ আনন্দ বিষাদে পরিণত হয়েছে।
শনিবার (১০ অগাস্ট) ভোরে নেত্রকোনার চল্লিশা এলাকায় এ ঘটনার পর ধ র্ষণে জড়িত চারজন পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছে।

অভিযুক্তরা হলো- ফিরোজ আলী মেম্বারের ছেলে এনামুল হক সম্রাট (২৭), একই এলাকার কালা মিয়ার ছেলে জিহান (২৭), শামছুল হকের ছেলে রাসেল (৩০), মজলিস উদ্দিনের ছেলে বাশার (২৭), জামাল উদ্দিনের ছেলে রেজাউল করিম পাভেল (২৮) ও শামছুল ইসলামের ছেলে সাইদুল ইসলাম (৩০)।

এদের মধ্যে সাইদুল, পাভেল, বাশার ও সম্রাট গ্রেপ্তারের পর পুলিশের কাছে ধ র্ষণের কথা স্বীকার করেছে।
পুলিশের ভাষ্য, ওই তরুণী ঢাকা থেকে স্বামীর গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় যাচ্ছিলেন ঈদ করতে। তার স্বামী ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন।

তাদের বহনকারী বাসটি চল্লিশা এলাকার সারিন্দা হোটেলে যাত্রাবিরতি করলে ওই তরুণী যান টয়লেটে। তখন অভিযুক্তরা বিভক্ত হয়ে তরুণীর স্বামীকে সারিন্দা হোটেলের একটি কক্ষে আটকে রাখে। আর তরুণী যে টয়লেটে ঢুকেছে এর সামনে ওতপাতে কয়েকজন। টয়লেট থেকে বের হলে সারিন্দা হোটেলের ম্যানেজার সম্রাটের নির্দেশে তরুণীর মুখ চেপে হোটেলের গোপন কক্ষে নিয়ে যায় পাঁচ যুবক। সেখানে তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে ছয়জন।

নেত্রকোনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এসএম আশরাফুল আলম জানিয়েছেন, ধ র্ষণের ঘটনায় চয়জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ওই তরুণীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে তাকে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠনো হয়েছে।

নদী থেকে এক নারীর লাশ ও দুই শিশুকে জীবিত উদ্ধার

স্টাফ রিপোর্টার: জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় যমুনা নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় নিখোঁজ ছয় জনের মধ্যে রেজিয়া খাতুন (৪৫) নামের এক নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় নিখোঁজ দুই শিশু নয়ন (১১) ও মমতাকে (৭) বগুড়ায় পৃথক স্থান থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এদিকে যমুনা নদীতে প্রচণ্ড বাতাস আর তীব্র ঢেউয়ের কারণে ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার কাজ বন্ধ রেখেছে।

রেজিয়া খাতুন হলকারচর গ্রামের মৃত মজিবর রহমানের স্ত্রী। দেওয়ানগঞ্জ থানার চুকাইবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সেলিম খান জানান, নিখোঁজ রেজিয়া খাতুনের মৃতদেহ সিরাজগঞ্জ জেলার পাতিলদহ চর থেকে উদ্ধার করেছেন তার স্বজনেরা। নিখোঁজদের উদ্ধারকাজে নিয়োজিত স্থানীয় ইউপি মেম্বার কালাম মৃতের পরিচয় নিশ্চিত করেছেন। শুক্রবার বিকালেও নিখোঁজদের সন্ধানে স্বজনেরা বিভিন্ন স্থানে ছুটে বেড়িয়েছেন।

এদিকে গত বৃস্পতিবার বগুড়ার সারিয়াকান্দির যমুনা নদী থেকে নয়ন (১১) নামে এক শিশুকে উদ্ধার করা হয়। রুস্তম আলী নামে এক কৃষক তাকে কাজলা ইউনিয়নের কুড়িপাড়া চর থেকে উদ্ধার করেন। একইদিন ভোরে পারভীন বেগম নামে এক গৃহবধু চন্দনবাইশার শেখপাড়া থেকে মমতা (৭) নামে শিশুকে উদ্ধার করেন। শুক্রবার দুপুরে সারিয়াকান্দি থানা পুলিশ তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে। ওসি আল আমিন এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জের চর হলকা গ্রামের ময়েন উদ্দিনের স্ত্রী ফিরোজা বেগম জানান, তার মেয়ে মমতা স্থানীয় হাবরাবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণিতে পড়ে। তারা ত্রাণ নিয়ে নৌকায় চর হলকা গ্রামের বাড়িতে ফিরছিলেন। খারাপ আবহাওয়ায় মাঝ নদীতে নৌকা ডুবে যায়। মমতা ও অন্যরাসহ তিনিও ডুবে যান। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করেন। আর মেয়ে মমতা নদীতে ভেসে বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে চলে আসে।

গাইবান্ধার পলাশবাড়ি উপজেলার বেদকাবা গ্রামের শাহানুরের ছেলে নয়ন জানায়, সে তার বড় ভাই সেলিমের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ত্রাণ নিয়ে ফেরার সময় নৌকা ডুবে গিয়েছিল। সে সারারাত ভাসতে ভাসতে বৃহস্পতিবার ভোরে বগুড়ার সারিয়াকান্দির কুড়িপাড়া চরে যমুনা নদীর তীরে আসে। সেখানে থেকে এক ব্যক্তি তাকে উদ্ধার করেছেন।

সারিয়াকান্দি থানার ওসি আল আমিন জানান, শুক্রবার দুপুরে মমতাকে তার মায়ের কাছে ও নয়নকে তার ভাইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নদীতে ডুবে যাওয়া ওই শিশুকে ফিরে পেয়ে স্বজনরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

উল্লেখ্য, ঈদ উপলক্ষে বিতরণ করা ভিজিএফের চাল নিয়ে গত বুধবার রাত ৮টার দিকে ফুটানি বাজার ঘাট থেকে চর হলকা হাওড়াবাড়ীর দিকে রওনা হন ২৮ থেকে ৩০ জন। পথে যমুনা নদীর মাঝে প্রবল বাতাস ও স্রোতে নৌকাটি ডুবে যায়। এ ঘটনায় ২৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হই
সূত্র বাংলা ট্রিবিউন