খুললেন না ক্লিনিকের গেট, সড়কেই সন্তান প্রসব!

স্টাফ রিপোর্টার: গোপালগঞ্জে ক্লিনিকের গেট না খোলায় সড়কেই সন্তান প্রসব! 
এইচ এম মেহেদী হাসানাত, ষ্টাফ রিপোর্টার,গোপালগঞ্জ: গোপালগঞ্জে ক্লিনিকের ফটকের সামনের রাস্তায় সন্তান প্রসব করলেন গৃহবধূ রোজিনা বেগম (৩২) ।
গত সোমবার (১৯ আগষ্ট) রাত সাড়ে ১২ টায় শহরের ঘুল্লিবাড়ি মোড়ে মালঞ্চ ক্লিনিকের ফটকের সামনের রাস্তায় তিনি সন্তান প্রসব করেন।

প্রসুতির আত্নচিৎকারে আশপাশের মহিলাসহ লোকজন ছুটে আসেন। তারা কাপড় দিয়ে প্রসূতি ও তার বাচ্চাকে আড়াল করে সদ্যজাত শিশুর নারী কাটা থেকে শুরু করে প্রসূতিকে সব ধরণের কাজে সহায়তা করেন। প্রায় ৩০ মিনিট ডাকাডাকির করে প্রসুতির মুমূর্ষ অবস্থার কথা বলা হলেও মালঞ্চ ক্লিনিকের কর্মরত  নার্স  ও কতৃপক্ষের মন গলেনি। তারা ক্লিনিকের গেট খোলেনি। বরং বারবার ক্লিনিকে কর্মরত নার্স ইতি রানী রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন বলে রোগীর স্বজনরা অভিযোগ করেন। এ ঘটনায় রোগীর স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
প্রসূতি রোজিনা বেগম  গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বোড়াশী গ্রামের নিয়ামূল শেখের স্ত্রী।

প্রসূতির শাশুড়ি বিনা বেগম (৬০) বলেন, সোমবার  রাত সাড়ে ১১ টার দিকে গ্রামের বাড়িতে বসেই অন্তসত্ত্বা গৃহবধূ রোজিনা বেগমের প্রসব বেদনা উঠলে তাকে প্রথমে শহরের নার্গিস ক্লিনিকে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক না থাকায় তাকে মালঞ্চ ক্লিনিকে নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়। মালঞ্চ ক্লিনিকে পৌছানোর পর প্রসূতি প্রসব বেদনায় ছটফট শুরু করে। আমরা মালঞ্চ ক্লিনিকের গেট খুলতে অনুরোধ করি। পরে আমরা গেটে ধাক্কাধাক্কি করি। আমাদের চিৎকারে ঘুম ভেঙ্গে আশপাশের লোজন ছুটে আসেন। কিন্তু ক্লিনিক কতর্ৃপক্ষের মন গলেনি। তারা গেট খোলেনি। চিকিৎসা দেয়নি। আমাদের সাথে অমানবিক অচরণ করেছে। ক্লিনিকের নার্স ইতি রোগী হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন। এতে আমরা খুবই অবাক হয়েছি।

ঘুল্লিবাড়ি এলাকার বাসিন্দা লিমন (২০) বলেন, ক্লিনিক গেটে চিৎকার, চেচামেচি শুনে আমি আমাদের বিল্ডিং এর ছাদে যাই। সেখান থেকে দেখি প্রসূতিকে নিয়ে স্বজনরা বিপাকে পড়েছে। পরে তাদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসি। আমার দেখাদেখি আরো অনেকে এগিয়ে আসেন।

ঘুল্লিবাড়ি এলাকার  গৃহবধূ তুরানী সুলতানা (৩৫) বলেন, প্রসূতির আত্নচিৎকার শুনে বাড়ি থেকে বের হয়ে দেখি ক্লিনিক গেটের সামনের রাস্তায় গৃহবধূ বাচ্চা প্রসব করেছে। পরে কাপড় দিয়ে সদ্যজাত শিশু ও মাকে আড়াল করি। তারপর শিশুর নারী কেটে দেই। এ ছাড়া প্রসূতিকে আমরা সব ধরণের সহযোগিতা প্রদান করি। প্রসূতি ও তার স্বজনদের চিৎকারে আমরা উঠে এসেছি। কিন্তু ক্লিনিকের মালিক ডা. অনুপ কুমার মজুমদার তখন ঘুমাচ্ছিলেন। তার নার্স সহ ক্লিনিকে কর্মরতরা এগিয়ে আসেনি। এ দায় তারা এড়াতে পারেনা।

ঘুল্লিবাড়ি এলাকার অপর গৃহবধূ তহমিনা (২৫) এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বাচ্চা প্রসব করার পর রোগী ও তার স্বজনরা ক্লিনিকের সামনের  রাস্তার উপর প্রায় ৩০ মিনিট অবস্থান করেন। এ সময়েও ক্লিনিক কতর্ৃপক্ষ ক্লিনিকের গেট না খুলে রোগীর সাথে অমানবিক অচরণ করেছে। পরে প্রসূতি ও তার বাচ্চাকে শহরের বটতলার হামিদা ক্লিনিকে ভর্তি করি।

ক্লিনিকের অভিযুক্ত নার্স ইতি রানী বুধবার দুপুরে ডিউটিতে ছিলেন না। তাই তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ক্লিনিকের ম্যানেজার  স্বীকার করেছেন ঘটনার সময় নার্স ইতি রানী ডিউটিতে ছিলেন।
ক্লিনিকের মালিক ডা. অনুপ কুমার মজুমদার বলেন, ঘটনার সময় আমি ঘুমে ছিলাম। এ বিষয়টি আমি জানতে পারিনি। পরে জেনেছি প্রসূতি এক মহিলা শেষ মুহুর্তের প্রসব বেদনা নিয়ে আমার ক্লিনিকের সামনে এসেছিলো। তার স্বজনরা আমাদের ডাকাডাকি করেছিলো। কিন্তু আমরা তাতে সাড়া দিতে পারিনি। এক পর্যায়ে ওই মহিলা সেখানে বাচ্চা প্রসব করে এবং পরে চলে যায়। আমি এ টুকুই জানি।

হামিদা ক্লিনিকের মালিক ডা. গোলাম মোস্তফা বলেন, রাস্তায় বাচ্চা প্রসবের পর প্রসূতি ও সদ্যজাত শিশু গভীর রাতে আমার ক্লিনিকে আসে। তাদের আমরা চিকিৎসা সেবা প্রদাণ করি। ভর্তির সময় মা ও শিশু উভয়েই সুস্থ্য ছিলো। তাই তারা মঙ্গলবার সকালেই হামিদা ক্লিনিক থেকে বাড়ি ফিরে যায়।

মানসিক ভারসাম্যহীন মায়ের সন্তান কুকুরের মুখ থেকে রক্ষা করলেন এসআই

স্টাফ রিপোর্টার: মানসিক ভারসাম্যহীন মায়ের সন্তান কুকুরের মুখ থেকে রক্ষা করলেন এসআই মোস্তাফিজুর
চট্রগ্রাম প্রতিনিধি: রাস্তার পাশে একটি পুটলি নিয়ে টানাটানি করছে কয়েকটি কুকুর। হঠাৎ দেখি সেই পুটলিতে একটি সদ্যজাত শিশুর হাত-পা দেখা যাচ্ছে।

সঙ্গে সঙ্গে দৌড়ে গিয়ে কুকুরটির মুখ থেকে বাচ্চাটিকে ছিনিয়ে নেই। এসময় ওই রাস্তায় প্রাতঃভ্রমণে বের হওয়া এক নারীর কোলে কান্নারত বাচ্চাকে দিয়ে একটি টং দোকান থেকে কাপড় নিয়ে বাচ্চাটাকে মুড়িয়ে ওই নারীসহ আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালে যাই।
এভাবেই ঘটনার বিবরণ দেন ডবলমুরিং থানার পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোস্তাফিজুর রহমান।
ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার ভোরে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ বাদামতলী মোড়ে।

ঘটনার বিবৃতি দিয়ে তিনি বলেন, রাতে ডিউটি পালনকালে দলের সহকর্মীদের সঙ্গে আক্তারুজ্জামান সেন্টারের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। এ সময় রাস্তার উল্টো দিকে সোনালী ব্যাংকের সামনে দুটি কুকুর মারামারি করতে দেখি। তখন দেখে অন্য আরেকটি কুকুর দলের সঙ্গে ভিড়ে মুখে কিছু একটা নিয়ে টানাটানি করছে। হঠাৎ দেখি সে পুটলিতে একটি সদ্যজাত শিশুর হাত-পা দেখা যাচ্ছে।

তিনি যোগ করেন,‘সঙ্গে সঙ্গে দৌড়ে গিয়ে কুকুরটির মুখ থেকে বাচ্চাটিকে ছিনিয়ে নিই। এসময় ওই রাস্তায় প্রাতঃভ্রমণে বের হওয়া এক নারীর কোলে কান্নারত বাচ্চাকে দিই। একটি টং দোকান থেকে কাপড় নিয়ে বাচ্চাটাকে মুড়িয়ে ওই নারীসহ আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালে যাই। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসকরা শিশুটিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন।

তিনি জানান,শিশুটিকে দ্রুত চট্রগ্রাম মেডিকেলে যাওয়ার পথে শিশুটিকে উদ্ধারের স্থান থেকে একটু দূরে এক নারীকে উদ্ধার করি। তাকেও হাসপাতালে নিয়ে যাই। পরে জানতে পারি ওই নারীই শিশুটির মা ও তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন।বর্তমানে মা ও শিশু উভয়ই ভালো আছে বলে জানিয়েছে চমেক সূত্র।

চেয়ারম্যানকে বিয়ে করতে অনশনে এক সন্তানের জননী

স্টাফ রিপোর্টার:চেয়ারম্যানকে বিয়ে করতে অনশনে এক সন্তানের জননী জয়পুরহাট প্রতিনিধি:  বিয়ের দাবিতে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার আওলাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাকের(৫২)চেয়ারম্যানের বাড়িতে সোমবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত অনশন করেছেন ফারিয়া আখতার চুমকী (৩৮) নামে এক গৃহবধূ। খবর পেয়ে পালিয়ে গেছেন চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক।

ফারিয়া আখতার চুমকী গাইবান্ধার কামদিয়া এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী সনি চৌধুরীর স্ত্রী ও এক কন্যা সন্তানের জননী।চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক পাঁচবিবি উপজেলার ছাতিনআলী গ্রামের মৃত ইউনুস মন্ডলের ছেলে ও আওলাই ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য।

ফারিয়া আখতার চুমকী অভিযোগ করে বলেন, ৬-৭ মাস আগে মোবাইলে চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাকের সঙ্গে আমার পরিচয় হয়। পরিচয়ের পর ঘনিষ্ঠতার সুযোগে  বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সে বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে আমার সাথে দৈহিক সম্পর্ক গড়ে তোলে। কিছুদিন আগে আমাদের সম্পর্কের বিষয়টি আমার স্বামীসহ আত্মীয়দের মধ্যে জানাজানি হলে তারা আমার উপর বিভিন্ন রকম চাপ সৃষ্টি করতে থাকে। বিষয়টি চেয়ারম্যান রাজ্জাককে জানিয়ে বিয়ের কথা বললে সে বিভিন্ন রকম তালবাহানা করতে থাকে। এতে কোনো উপায় না পেয়ে আজ বিয়ের দাবিতে চেয়ারম্যান রাজ্জাকের কাছে এসেছি। আমি এখানে আসার পর সে পালিয়ে গেছে।

আওলাই ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার সেকেন্দার আলী বলেন, পাশের জেলার এক গৃহবধূ চেয়ারম্যানকে বিয়ের দাবি নিয়ে এসেছিল। যেহেতু এটা প্রমাণসাপেক্ষ ব্যাপার তাই তাকে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে আওলাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

পাঁচবিবি থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুনসুর রহমান জানান, ঘটনাটি শুনেছি। ওই গৃহবধূ অভিযোগ দিলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ভারত জমি চায়নি, কিছু লাইট বসাতে চেয়েছে : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার: ভারত জমি চায়নি, বাংলাদেশের অংশে কিছু লাইট বসাতে চেয়েছে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
সময়ের কন্ঠস্বর ডেস্ক:বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ত্রিপুরা বিমানবন্দর সম্প্রসারণের জন্য ভারত, বাংলাদেশের কাছে জমি চেয়েছে বলে যে কথা বলা হচ্ছে, তা জোর গলায় অস্বীকার করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম।

গত কয়েকদিন ধরে বাংলাদেশ এবং ভারতের গণমাধ্যমে এই মর্মে খবর বের হয় যে ত্রিপুরা বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণের জন্য ভারত বাংলাদেশের কাছে জমি চেয়েছে।এ বিষয়ে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে বাংলাদেশের গণমাধ্যমে নানা ধরণের পরস্পরবিরোধী খবরও বের হয়।ভারত কি আসলেই বাংলাদেশকে এরকম কোন প্রস্তাব দিয়েছে?
এ ব্যাপারে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বিবিসি বাংলাকে বলেন, “ভারত আমাদের কাছে কোন জমি চায়নি। যে খবরটি আপনারা জেনেছেন সেটা সম্পূর্ণ অসত্য।

শাহরিয়ার আলম জানিয়েছেন, “ভারত মূলত যেটা চেয়েছে, সেটা হচ্ছে ত্রিপুরা বিমানবন্দরের রানওয়েতে লাইটের কমপ্লিট ফেইজ পূরণ করতে বাংলাদেশের অংশে কিছু লাইট বসাতে।”
“যেকোনো বিমানবন্দরের রানওয়েতে বিমান ওঠানামার নির্দেশনা দেয়ার জন্য লাইটের একটি কমপ্লিট ফেইজের প্রয়োজন হয়। যেখানে কয়েক ফুট অন্তর অন্তর প্রায় ৫০টির মতো লাইট বসানো হয়। একে বলা হয় ক্যাট আই লাইট।

শাহরিয়ার আলম বলেন, “লাইটের এই কমপ্লিট প্যানেলের যে দৈর্ঘ্য সেটা বসানোর মতো জায়গা ভারতের অংশে না থাকায় তারা বাকি কিছু লাইট বাংলাদেশের অংশে বসানোর অনুরোধ করে একটি প্রস্তাবনা দিয়েছে।

সম্প্রতি ভারত এ নিয়ে একটি অনুরোধপত্র পাঠিয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, “ভারত লাইট বসানোর বাইরে রানওয়ে সম্প্রসারণের জন্য জমি বা কোন অবকাঠামো নির্মাণের জন্য কিছু চায়নি।”
“এসব লাইটের বেশিরভাগ ভারতেই অংশেই বসবে, এরমধ্যে কিছু লাইট আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে বাংলাদেশের অংশে বসানো হতে পারে।”
তিনি জানিয়েছেন, বর্তমানে বাংলাদেশের সিভিল এভিয়েশনকে ভারতের এই অনুরোধ যাচাই বাছাই করে তাদের মতামতের জন্য বলা হয়েছে। সিভিল এভিয়েশনের মতামতের ভিত্তিতে উচ্চ পর্যায়ের কমিটিতে আলাপ আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

মিস্টার আলম বলেন, “ভারতের থেকে কোন প্রস্তাব এলেই এটা নিয়ে অনেক বাড়াবাড়ি করা হয়। অন্য দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা হয়। একটি চক্র সবসময় একে তাদের সস্তা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের চেষ্টা করে।”
“কিন্তু সরকারের নীতি হল, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব এবং মর্যাদা সমুন্নত রেখে প্রতিবেশী দেশের সাথে ভাল সম্পর্কের ভিত্তিতে এগিয়ে যাওয়া।”
তিনি মনে করেন সরকারের এমন নীতির কারণেই বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও যাতায়াতে অনেক ক্ষেত্রে অনেক দূর এগিয়ে গেছে।

কাশ্মীরে অস্ত্রে সজ্জিত সেনার সামনে প্লাস্টিকের গুলতি নিয়ে একটি শিশু

স্টাফ রিপোর্টার: সেনার সামনে প্লাস্টিকের গুলতি নিয়ে একটি শিশু!
সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্কঃ চলছে কাশ্মীরিদের প্রতিবাদ, মিছিল, সমাবেশ। এর মধ্যে অনেক স্বাধীনতাকামী প্রাণ হারিয়েছেন সেনাদের গুলিতে। অনেকে আহত হয়ে পড়ে আছেন হাসপাতালে। সেনাদের শক্তির তুলনায় কাশ্মীরের স্বাধীনতাকামীরা নিতান্তই নগন্য, দুর্বল। এক মাস আগে কাশ্মীরের স্বাধীনতাকামী নেতা বুরহানের মৃত্যুর পর থেকেই উত্তাল হয়ে আছে ‘ভূ-স্বর্গ’।

স্বাধীনতাকামী কাশ্মীরিদের আন্দোলনের একটি ছবি তোলেন এক ভারতীয় ফটোগ্রাফার। যা কাশ্মীরিদের আন্দোলনের এক প্রতিকী রূপ হয়ে ঘুরছে সামাজিক মাধ্যমে। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, মাত্র বছর পাঁচের একটি শিশু প্লাস্টিকের গুলতি তাক করে আছে অস্ত্রে সজ্জিত সেনার দিকে; কাশ্মীরের এমন একটি ছবিতে তোলপাড় পড়ে গেছে বিশ্বে।

স্বাধীনতার তীব্র আকাঙ্খার কারণেই সেনাদের অস্ত্রকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে যুদ্ধে নেমে পড়েছে কাশ্মীরিরা। সেই যুদ্ধের দামামা বেজে ওঠেছে পাঁচ বছরের ছোট্ট শিশুটির মনেও। তার প্লাস্টির গুলতির ছোড়া গুলি ওই সেনার শরীর পর্যন্ত পৌঁছাবেই না, তারপরও তার কোনো ভয় নেই। এমন একটা সাহসের ছবি নিয়ে চলছে জোর আলোচনা।

ছবিটি যিনি তুলেছেন, তার নাম আদিত্য রাজ। তিনি টুইটারে ছবিটি পোস্ট করে লিখেন যে, ‘সেনার সামনে প্লাস্টিকের গুলতি নিয়ে খেলছে একটি শিশু।

কিন্তু তার এই ‘খেলার’ কথাটা মানতে পারছেন না ভারতের সাবেক আইপিএস অফিসার সঞ্জিব ভট্ট। তিনি বলছেন, পাঁচ বছরের শিশুও যখন কোনো সেনার দিকে অস্ত্র তাক করে, তখন বুঝতে হবে কাশ্মীর নিয়ে ভারত কোনো ভুল করছে।

ভারত থেকে আনা ওষুধে অজ্ঞান ৮০% মশা

স্টাফ রিপোর্টার: ভারত থেকে আনা ওষুধে অজ্ঞান ৮০% মশা
সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- মশকনিধনে ভারত থেকে আমদানি করা দুইটি ওষুধের মাঠ পর্যায়ে পরীক্ষা চালিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। মঙ্গলবার বিকেলে নগরভবনে বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে এই পরীক্ষা চালানো হয়। দুইটি ওষুধেই ৮০ শতাংশের বেশি মশা জ্ঞান হারায় (নকডাউন)।

এ কারণে প্রাথমিক পর্যায়ে নতুন আমদানি করা এ ওষুধকে কার্যকর বলে ধরে নেওয়া হয়েছে। তবে আজ বুধবার ২৪ ঘণ্টা পর এ পরীক্ষার দ্বিতীয় ধাপের ফলাফল বিশ্লেষণ করে চূড়ান্ত ফলাফল তৈরি করার কথা রয়েছে।

ভারতীয় কোম্পানি টেগ্রোস কেমিক্যাল ইন্ডিয়া লিমিটেডের তৈরি ওষুধ দুটির ফিল্ড-টেস্টে প্রাথমিক পর্যায়ে মানসম্মত ‘কার্যকারিতা’ পাওয়া যায়। চূড়ান্ত পর্যায়ে উত্তীর্ণ হওয়ার পর এ ওষুধ দ্রুত আমদানি করা হবে বলে জানিয়েছে ডিএসসিসি। টেগ্রোস কেমিক্যাল ইন্ডিয়া লিমিটেড থেকে আমদানি করা ঐ ওষুধ দুইটির নাম ম্যালাথিউন ৫ শতাংশ আরএফইউ ও ডেল্টামেথ্রিন ১১.২৫ শতাংশ ইএলভি।

প্রতিটি নমুনা পরীক্ষার জন্য তিনটি খাঁচার মধ্যে ৫০টি করে মশা রাখা হয়। ২০ মিনিট পর প্রতিটি খাঁচায় কয়টি মশা জ্ঞান হারিয়েছে বা মারা গেছে বা উড়ন্ত অবস্থা থেকে পড়ে রয়েছে সেটি গণনা করা হয়। এরপর গড় হার নির্ধারণ করা হয়। পরীক্ষায় ম্যালাথিউন ৫ শতাংশ আরএফইউ ওষুধের কার্যকারিতা প্রথম খাঁচায় ৯২ শতাংশ, দ্বিতীয় ও তৃতীয় খাঁচায় শতভাগ পাওয়া গেছে।

আর ডেলটামেথ্রিন ১ দশমিক ২৫ শতাংশ ইউএলভি স্প্রে করার পর তিনটি খাঁচায় অজ্ঞান হওয়া বা নক ডাউন মশার শতকরা সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ৮৪, ৯২ এবং ৮২ শতাংশ। এছাড়াও ডিএসসিসিতে বর্তমানে ব্যবহূত লিমিট লিকুইড ইনসেকটিসাইড ওষুধটির প্রথম নমুনায় ৯০, দ্বিতীয় নমুনায় ১০০ ও তৃতীয় নমুনায় ৮৪ শতাংশ কার্যকারিতা পাওয়া গেছে।

এরপর খাঁচাগুলো সিলগালা করে রেখে দেওয়া হয়। ২৪ ঘণ্টা পর এসব খাঁচার মশাগুলোকে আবারও গণনা করা হবে। তাতে যদি ৮০ ভাগের বেশি মশা মারা যায় তখন ধরে নেওয়া হবে ওষুধগুলো ফিল্ড পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। সিটি করপোরেশনের নিজস্ব এমন পরীক্ষার পর নমুনাগুলো আবার পাঠানো হবে আইইডিসিআর ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরে। সেখানে দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফা পরীক্ষা হবে। এর ফলাফল পাওয়ার পর তা পাঠানো হবে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার কাছে। সেখান থেকে সুপারিশ পাওয়ার পর তা মাঠ পর্যায়ে প্রয়োগ করা যাবে। এরপর শুরু হবে ওষুধ আমদানির প্রক্রিয়া।

ডিএসসিসি মেয়র সাঈদ খোকন ও প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তার উপস্থিতিতে পরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করেন ডিএসসিসির প্রধান ভান্ডার ও ক্রয় কর্মকর্তা মোহাম্মদ নুরুজ্জামান। উপস্থিত ছিলেন আইইডিসিআরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মিনতি সাহা ও কৃষি অধিদপ্তরের প্ল্যান্ট প্রটেকশন উইংয়ের যুগ্ম পরিচালক ড. আমিনুর ইসলাম।

ড. মিনতি সাহা ও ড. আমিনুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে ওষুধের মান সন্তোষজনক বলে মনে হচ্ছে। তবে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে বলা যাবে, এই ওষুধ এ দেশে মশকনিধনের জন্য ব্যবহার করা যাবে কি-না।

প্রাণনাশের হুমকিতে থানায় জিডির পর সাংবাদিক মুশফিকুর নিখোঁজ!

স্টাফ রিপোর্টার:
ঢাকা- বেসরকারি মোহনা টেলিভিশনের সিনিয়র রিপোর্টার মুশফিকুর রহমানকে খুঁজে পাচ্ছে না তার পরিবার।
শনিবার (০৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে তার মামার সঙ্গে দেখা করে মিরপুরের বাসায় ফিরছিলেন তিনি। এরপর থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না। এমনকি তিনিও যোগাযোগ করেননি।

সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে শনিবার রাতেই গুলশান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নম্বর-১৯৪) করেছেন নিখোঁজ মুশফিকুরের মামা এজাবুল হক।এর আগে প্রাণনাশের হুমকির মুখে থানায় জিডি করেছিলেন মুশফিকুর। গত ২১ জুলাই একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হয়েছিল। ২২ জুলাই জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে রাজধানীর পল্লবী থানায় জিডি করেছিলেন মুশফিক। সেই ঘটনার সুরাহা না হতেই নিখোঁজ হলেন মুশফিকুর।

রোববার (৪ আগস্ট) সকালে গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেন, সাংবাদিক নিখোঁজের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। মুশফিকুরকে খুঁজে পেতে সব রকমের চেষ্টা চালাচ্ছেন তারা। দ্রুতই তার খোঁজ পাওয়া যাবে বলেও আশা প্রকাশ করেন এই কর্মকর্তা।
সূত্র সময়ের কণ্ঠস্বর