শীতে আন্দোলনে নামবে বিএনপি: হাফিজ

স্টাফ রিপোর্টার:আবারও আন্দো লনে নামতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপি। আসছে শীতে নেতা-কর্মীদের একত্র করে রাজপথে নেমে আন্দো লনের হুঁশি য়ারি দিলো দলটি।

আজ রবিবার (২৫শে আগস্ট) জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে এসে সাংবাদিকদের একথা বলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।
তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমাদের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার জন্য যে ধরনের বলিষ্ঠ পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন ছিল, সেটা আমরা নিতে পারেনি। এই শীতে আমরা আন্দোলনের ছক করে নিয়েছি। ছাত্রদল এবং যুবদলকে সংগঠিত করে আমরা রাজপথে নামবো।’

হাফিজ উদ্দিন বলেন, ‘মধ্যরাতের সরকার সম্পূর্ণভাবে সারা পৃথিবী থেকে বি চ্ছিন্ন একটি সরকার। আজকে এদের কারণে আমাদের কোনো বন্ধু নেই। রোহিঙ্গা সমস্যা বাংলাদেশের জন্য একটি ভ য়াবহ সমস্যা। কিন্তু দুঃখের বিষয়, আমাদের সার্ক অঞ্চলে বা সারা পৃথিবী থেকে আমরা কেবল লিপ সার্ভিসই পেয়েছি। কারো কাছ থেকে এ সং কট সমাধানের জন্য বলিষ্ঠ কোনো পদক্ষেপ পাইনি। সুতরাং এটি বর্তমান সরকারের জন্য কূটনৈতিক ব্যর্থতা।’

এ সময় দেশে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা না থাকায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মিথ্যা মাম লায় কারাবন্দি বলেও অভি যোগ করেন তিনি। ছাত্রদল ও যুবদলকে সংগঠিত করে বিএনপি রাজপথের আ ন্দোলনের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবে বলেও জানান মেজর হাফিজ।
সূত্র সময়ের কণ্ঠস্বর

রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবর্তনই সমাধানের উত্তম পন্থা: স্থানীর সরকার মন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার:
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেছেন, ‘রোঙ্গিতাদের তাদের নিজ দেশে প্রত্যাবর্তন করাটাই হচ্ছে সমাধানের উত্তম পন্থা। এ জন্য জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মন্ত্রী পরিষদ কাজ করে যাচ্ছে। পাশাপাশি জাতিসঙ্গের পক্ষ থেকে কাজ করা হচ্ছে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তনের সরকারের পক্ষ থেকে উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।’

শনিবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে হবিগঞ্জ সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে বিশেষ অবদানের জন্য কোনও পুরস্কার বা স্মারক তিনি গ্রহণ করেননি। একটি সংগঠন তাদের প্রথাগতভাবে তাকে সম্মাননা জানিয়েছে। কিন্তু এটি ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সরকার আন্তরিক রয়েছে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠান আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ডেঙ্গু নিয়ে জাতির জন্য দায়বদ্ধদের অপমান অপদস্ত না করে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে।’

পরে মন্ত্রী হবিগঞ্জের পৌরসভার অর্থায়নে দুই কোটি ৮৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নবনির্মিত কিচেন মার্কেটের উদ্বোধন করেন। এসময় হবিগঞ্জ-৩ আসনের এমপি আবু জাহির, হবিগঞ্জ-২ আসনের এমপি আব্দুল মজিদ খান, হবিগঞ্জ-১ আসনের এমপি শাহ নওয়াজ মিলাদ, জেলা প্রশাসক মাহমদুল কবির মুরাদ, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যাহ, হবিগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মিজানুর রহমানসহ দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

পরে মন্ত্রী হবিগঞ্জ পৌরসভার নির্মানাধীন পানি শোধনাগার দ্বিতীয় প্রকল্পের কাজ পরিদর্শন করেন এবং পৌরসভা উদ্যোগে আয়োজিত শোক সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন।
সূত্র বাংলা ট্রিবিউন

আরও অনেক বিচারপতির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আছে: খোকন

স্টাফ রিপোর্টার: সদ্য দুর্নীতির অভিযোগ ওঠা তিন বিচারপতি ছাড়াও হাইকোর্টের আরও অনেক বিচারপতির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করেছেন সুপ্রিম কোর্ট বারের (আইনজীবী সমিতি) সম্পাদক ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন।

বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি তোলেন।
প্রসঙ্গত, সুপ্রিম কোর্টের বৃহস্পতিবারের কার্যতালিকায় অন্য বিচারপতিদের নাম ও বেঞ্চ নম্বর উল্লেখ থাকলেও তিন বিচারপতির নাম রাখা হয়নি। এই তিন বিচারপতি  হলেন—বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী, বিচারপতি কাজী রেজাউল হক এবং বিচারপতি একেএম জহুরুল হক।

দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের এই তিন বিচারপতিকে আপাতত তাদের দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রাখা হয়েছে। এ কারণে বৃহস্পতিবারের (২২ আগস্ট)  কার্যতালিকায় তাদের নাম রাখা হয়নি। সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের কয়েকটি সূত্র বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তবে কোন ধরনের দুর্নীতির অভিযোগে তাদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে এখনই কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।

দুই বাড়ির মাঝে পরিষ্কারের দায়িত্ব আমার না: আতিক

স্টাফ রিপোর্টার: দুই বাড়ির মাঝের অংশ পরিষ্কারের দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের নয় বলে দাবি করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘দুই বাড়ির মাঝখানের অংশ নোম্যানস ল্যান্ড। এটা পরিষ্কারের দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের না। ভবনের দশম, নবম, অষ্টম তলা, ছাদের ওপর, বেলকুনি, বারান্দা কিংবা গ্যারেজে এডিস মশার জন্ম নিচ্ছে। সেখানে গিয়ে পরিষ্কার করা সিটি করপোরেশনের পক্ষে সম্ভব না।’
মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) সকালে গুলশান-১ এর ফজলে রাব্বি পার্কে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরীক্ষামূলক প্রকল্প হিসেবে চিরুনি অভিযান শুরুর আগে মেয়র এসব কথা বলেন।

মেয়র বলেন, ‘আমরা চিরুনি অভিযান শুরু করছি। প্রথম সাত দিন অভিযান চালানো হবে। এর ৭-১০ দিন পর আমরা আবার সেখানে যাবো। সেখানে গিয়ে যদি লার্ভা পাই তাহলে আমরা ফাইন করবো। তবে বিভিন্ন সরকারি বা বেসরকরি প্রতিষ্ঠান বা নির্মাণাধীন ভবনেও অভিযান চালানো হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা কেন আমাদের বসবাসের জায়গাটি পরিষ্কার করবো না?  সোমবার যে জায়গায় গিয়েছিলাম (মহাখালির পারটেক্স কার্যালয়ে) তার সামনের জায়গাটি খুব সুন্দর। কিন্তু ভেতরে তার চেয়ে বেশি অসুন্দর। সেখানে আমরা লার্ভা পেয়েছি, জরিমানা করেছি।’

মেয়র আতিক বলেন, ‘আমরাএকটি ওয়ার্ডকে ১০টি ভাগ এবং ১০টি সাব ব্লকে ভাগ করেছি। আমরা একটি চিরুনি অভিযান করবো। প্রতিদিন আড়াই ঘণ্টা অভিযান চালানো হবে। আমাদেরকে এডিস মশা থেকে বাঁচতে হলে জনগণকে নিয়ে কাজ করতে হবে। প্রাথমিকভাবে ডিএনসিসি’র ১৯ নম্বর ওয়ার্ডকে বেঁচে নেওয়া হয়েছে। আমার অনুরোধ অভিযান চালিয়ে যাওয়ার পর আপনারা ঘরে বসে থাকবেন না। আপনারও কাজ করবেন। ৫৪ জন কাউন্সিলরকে অনুরোধ করবো আপনারাও মাঠে নেমে পড়ুন।’

এসময় মেয়রের সঙ্গে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আবু সাইদ, ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল হাই, সচিব রবিন্দ্র শ্রী বড়ুয়া উপস্থিত ছিলেন।

মীর কাসেম আলীর ১৪টি ফ্ল্যাট-দোকানের মালিকানা পরিবর্তন

স্টাফ রিপোর্টার: সরকারের নিবন্ধন পরিদফতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা ক মীর কাসেম আলীর সম্পদ হস্তান্তর করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অগোচরে মালিকানা পরিবর্তানের এ ঘটনা ঘটেছে।
বাংলা ট্রিবিউনের অনুসন্ধানে মীর কাসেমের মালিকাধীন প্রতিষ্ঠান কেয়ারী লিমিটেডের ৩টি ফ্ল্যাট ও ১১টি দোকান হস্তান্তরের তথ্য মিলেছে। ধানমন্ডির সাতমসজিদ রোডের ‘কেয়ারী ক্রিসেন্ট’ ভবনে [প্লট-১৪৮জি (পুরাতন), ৬০ (নতুন); রোড নং ১৩৮ (পুরাতন), ২এ (নতুন)] এসব ফ্ল্যাট ও দোকানের অবস্থান। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মীর কাসেমের সম্পদ হস্তান্তরে তৎপর ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন অধিশাখা-৭-এর দুই কর্মকর্তা। সম্পদ হস্তান্তর ও নামজারির বিষয়ে একের পর এক নির্দেশ জারি করেন তারা। গত বছরের ২৯ নভেম্বর থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে নির্দেশ জারি করে মীর কাসেমের ১৪টি ফ্ল্যাট ও ১১টি দোকান হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হয়।

এ বিষয়ে জানতে উন্নয়ন অধিশাখা-৭-এর উপসচিব এস এম নজরুল ইসলাম ও উপসচিব মো. আব্দুল ওয়াদুদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সফল হওয়া যায়নি। তাদের মুঠোফোনে দফায় দফায় ফোন করে এবং বার্তা পাঠিয়েও সাড়া মেলেনি।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এ ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ‘যুদ্ধাপরাধী মীর কাসেমের সম্পদ হস্তান্তর, বিক্রি ও দলিল রেজিস্ট্রিতে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তারপরও কীভাবে  হস্তান্তর হচ্ছে তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তিনি বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধা ও গণমানুষের দাবি যুদ্ধাপরাধীদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা করা হোক। সরকারের পরিকল্পনাও সেরকম। এই পরিকল্পনায় কারা বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে, যুদ্ধাপরাধীদের সম্পদ হস্তান্তরে কারা সহযোগিতা করছে, তা খুঁজে বের করা হবে।’

গত বছরের ২৪ এপ্রিল ঢাকা জেলা রেজিস্ট্রার দ্বীপক কুমার সরকার ‘মীর কাসেম আলী ও তার মালিকাধীন প্রতিষ্ঠানের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ হস্তান্তর এবং দলিল রেজিস্ট্রেশন না করা প্রসঙ্গে’ নিবন্ধন পরিদফতরের মহাপরিদর্শকের কাছে চিঠি পাঠান। ওই চিঠির অনুলিপি আইনমন্ত্রী ও আইন সচিবের একান্ত সচিবদেরও পাঠানো হয়।

চিঠিতে বলা হয়, যুদ্ধাপরাধী মীর কাসেম আলী কেয়ারী লিমিটেডসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, জমি ও স্থাপনার মালিক। এসব প্রতিষ্ঠান ও সম্পদ হস্তান্তর, দলিল রেজিস্ট্রেশন না করাসংক্রান্ত সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দেওয়ার অনুরোধ করা হলো।

চিঠিতে আরও বলা হয়, ২০১৮ সালের ২২ ও ২৩ এপ্রিল কেয়ারী লিমিটেডের কিছু সম্পত্তি উত্তরা সাব রেজিস্ট্রি অফিসে রেজিস্ট্রেশনের জন্য উপস্থাপিত হয়। বিষয়টি জানার পর আইন মন্ত্রণালয়ের সচিবকে তা জানানো হয়। তিনি যুদ্ধাপরাধীদের মালিকাধীন প্রতিষ্ঠানের জমি রেজিস্ট্রেশন থেকে বিরত থাকতে সাব রেজিস্ট্রারদের নির্দেশ দিতে বলেন। পরে আইনমন্ত্রীকেও জানানো হয়। মন্ত্রীও যুদ্ধাপরাধীদের সম্পদ হস্তান্তর, দলিল রেজিস্ট্রি না করার নির্দেশ দেন।

২০১৮ সালের ১৯ জুন নিবন্ধন পরিদফতরের মহাপরিদর্শক খান মো. আবদুল মান্নান ‘যুদ্ধাপরাধী মীর কাসেম আলী ও তার মালিকাধীন প্রতিষ্ঠানের জমি বিক্রি বা কোনও প্রকল্প হস্তান্তর না করা প্রসঙ্গে’ আদেশ জারি করেন। আদেশটি সারাদেশের সাব রেজিস্ট্রি অফিস, রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানি অ্যান্ড ফার্মস (যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মগুলোর পরিদফতর) ও মানি এক্সচেঞ্জে পাঠানো হয়।

এই আদেশ উপেক্ষা করে কীভাবে মীর কাসেমের সম্পদ হস্তান্তরে একের পর এক নির্দেশ জারি করা হচ্ছে—তা জানতে মহাপরিদর্শক খান মো. আব্দুল মান্নানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে বাংলা ট্রিবিউিন। তার কার্যালয়ে এবং মুঠোফোনে যোগাযোগ করেও কোনও জবাব পাওয়া যায়নি।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত বছরের ১০ ডিসেম্বর গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন অধিশাখা-৭-এর উপসচিব এস এম নজরুল ইসলাম ধানমন্ডির সাতমসজিদ রোডের (প্লট-১৪৮জি (পুরাতন), ৬০ (নতুন); রোড নং ১৩৮ (পুরাতন), ২এ (নতুন)] ৯ কাঠা ৪ ছটাক জমির ওপর নির্মিত ‘কেয়ারী ক্রিসেন্ট’ নামে ১৩ তলা ভবনের ১২ তলায় ১,০৮৪ বর্গফুটের দুটি ফ্ল্যাট (এ-১১ ও এ-১২) হস্তান্তরের আদেশ জারি করেন। ওই আদেশে দাতা হিসেবে কেয়ারী লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শামসুল হুদা এবং গ্রহীতা হিসেবে খন্দকার হাবিবার নাম উল্লেখ করা হয়।
ধানমন্ডি সাব রেজিস্ট্রি অফিস জানায়, ফ্ল্যাট দুটি হস্তান্তর করা হয় গত ২৯ জানুয়ারি। সাব রেজিস্ট্রার ছিলেন মো. লুৎফর রহমান মোল্লা। হস্তান্তরের আর্থিক মূল্য দেখানো হয় ৫৬ লাখ ৮৬ হাজার টাকা। অথচ ফ্ল্যাট দুটির বাজারমূল্য ২ কোটি টাকার বেশি।
জানতে চাইলে সাব রেজিস্ট্রার লুৎফর রহমান মোল্লা বলেন, “সম্পদের কোথাও ‘যুদ্ধাপরাধীর সম্পদ’ লেখা নেই। তাই দলিল রেজিস্ট্রিতেও বাধা নেই।”

১১ দোকান ও ১টি ফ্ল্যাট বিক্রি 
কেয়ারী ক্রিসেন্টের আরও ১১টি দোকান ও ১টি ফ্ল্যাট হস্তান্তরের নির্দেশ দেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন ও অধিশাখা-৭-এর উপসচিব মো. আব্দুল ওয়াদুদ ও উপসচিব এস এম নজরুল ইসলাম।
গত বছরের ২৯ নভেম্বর উপসচিব মো. আব্দুল ওয়াদুদ কেয়ারী লিমিটেডের ভবনের ৪১৭, ৩৬৭, ৩০৮, ৫৩৩ ও ৪১৩ বর্গফুটের ৫টি দোকান হস্তান্তর ও নামজারির নির্দেশ দেন। নির্দেশে দাতা হিসেবে কেয়ারী লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শামসুল হুদা ও গ্রহীতা হিসেবে শাহিন কবিরের নাম উল্লেখ করা হয়।
গত ৩ জানুয়ারি ৪৪৭, ১৯০ ও ২৪৭ বর্গফুটের আরও ৩টি দোকান হস্তান্তর ও নামজারির নির্দেশ দেন উপসচিব এস এম নজরুল ইসলাম। এতে দাতা হিসেবে শামসুল হুদা এবং গ্রহীতা হিসেবে আমির হোসাইন, কাজী আহমদ ফারুক ও মোহাম্মদ বোরহান উদ্দীন রব্বানীর নাম উল্লেখ করা হয়।

৯ জানুয়ারি উপসচিব নজরুল ইসলাম ১৮৩ বর্গফুটের একটি দোকান হস্তান্তর ও নামজারির নির্দেশ দেন। এতে দাতা হিসেবে শামসুল হুদা ও গ্রহীতা হিসেবে মাহবুবুল হকের নাম উল্লেখ করা হয়।
২২ জানুয়ারি উপসচিব নজরুল ইসলাম ২৫২ ও ৩৩৯ বর্গফুটের দুটি দোকান হস্তান্তর ও নামজারির নির্দেশ দেন। এতে দাতা হিসেবে শামসুল হুদা ও হস্তান্তরগ্রহীতা হিসেবে রাই হরন দেবনাথের নাম উল্লেখ করা হয়।

১৪ ফেব্রুয়ারি উপসচিব নজরুল ইসলাম ১,৬৭১ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট হস্তান্তর ও নামজারির নির্দেশ দেন। এতে দাতা হিসেবে শামসুল হুদা ও গ্রহীতা হিসেবে কাজী মো. রাশেদুল হাসানের নাম উল্লেখ করা হয়।
হস্তান্তর দাতা কেয়ারী লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামসুল হুদার বক্তব্য জানতে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে বাংলা ট্রিবিউন। তবে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

প্রসঙ্গত, জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য মীর কাসেম আলী ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় ইসলামী ছাত্রসংঘের চট্টগ্রাম শাখার সাধারণ সম্পাদক ও আল বদর বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণূ নেতা ছিলেন তিনি। জামায়াতের অর্থের জোগানদাতা মীর কাসেম ছিলেন কেয়ারী গ্রুপের মালিক। ইসলামী ব্যাংক, ইবনে সিনা ট্রাস্ট, দিগন্ত মিডিয়াসহ বেশ কিছু ব্যবসায়িক গ্রুপের উদ্যোক্তা ও অংশীদারও ছিলেন তিনি।

২০১২ সালের ১৭ জুন অভিযোগে গ্রেফতার হন মীর কাসেম। ২০১৩ সালের ৫ সেপ্টেম্বর তার বিরুদ্ধে ১৪টি অভিযোগ গঠন করে বিচারকাজ শুরু করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ২০১৪ সালের ২ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালের রায়ে দুটি অভিযোগে তার ফাঁসি ও ৮টি অভিযোগে কারাদণ্ড হয়। ২০১৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বর গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
ছবি: সাজ্জাদ হোসেন সূত্র বাংলা ট্রিবিউন

‘আমি মরলে খালেদা জিয়া শোক বার্তা দেবে, সেটাও তৈরি ছিল’

স্টাফ রিপোর্টার: ‘আমি মরলে খালেদা জিয়া শোক দেবে, সেটাও তৈরি ছিল’- প্রধানমন্ত্রী
সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্কঃ বুধবার রাজধানীর ফার্মগেট খামারবাড়ি কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে একুশে আগস্ট উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমি মরলে (তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি প্রধান) খালেদা জিয়া শোক দেবে। সেটাও নাকি তার তৈরি করা ছিল। বিএনপি-জামায়াত সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া এই ধরনের ঘটনা ঘটা কোনোদিনই সম্ভব না। এটা আজকে প্রমাণিত সত্য।’

শেখ হাসিনা বলেন, একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলায় বেঁচে থাকার কথা নয়। ওরা ভাবেনি যে বেঁচে থাকবো। অনেক ছোট ছোট ঘটনা আমি জানি। যারা হামলা করেছে তারা এক জায়গায় গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে। সেখান থেকে ফোন করেছে যে আমি মারা গেছি কী না।
একুশে আগস্টের গ্রেনেড হামলায় নিহতদের স্মরণ করে তিনি বলেন, অজ্ঞাতনামা দুজন যে মারা গেল তাদের খবর কেউ নেয়নি, লাশও কেউ নেয়নি। এখন ধীরে ধীরে সবই বের হচ্ছে। কীভাবে ওই জজ মিয়াকে নিয়ে এসেছে। একজন সাধারণ মানুষকে নিয়ে এসে নির্যাতন করে স্বীকারোক্তি নেওয়া হয়েছিল।

সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা অনেক তথ্য বের করেছেন। এই তথ্যটা বের করেন, তারেক রহমান খালেদা জিয়ার বড় ছেলে ৫ নম্বরে তার যে শ্বশুরবাড়ি ওখানে এসে সে ১০ মাস থাকলো এবং পহেলা আগস্ট চলে গেল ক্যান্টেনমেন্টের বাসায়। ওখানে থেকে সে কী করলো? তার কাজটা কী ছিল?
তিনি বলেন, অনেক পরে মামলা করে আমরা একটা রায় পেয়েছি। আমরা আশা করি এর বিচার হবে। কিন্তু যাদের আমরা হারিয়েছি তাদের তো আর ফিরে পাবো না।

শেখ হাসিনা বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে খালেদা জিয়া তার দায় এড়াতে পারেন না, বাবর তো স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ছিল। যদিও খালেদা জিয়াকে এ মামলায় আসামি করা হয়নি।
সভায় সূচনা বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। সভা সঞ্চালনা করেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এবং উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমীন।
আলোচনায় আরও অংশ নেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য আমির হোসেন আমু, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, সাহারা খাতুন, নির্বাহী সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য এস এম কামাল হোসেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজি আবুল হাসনাত, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান প্রমুখ।

প্রতিদিন লাপাত্তা ৯০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস!

স্টাফ রিপোর্টার:
অনুমোদিত মাত্রার চেয়ে তিতাস গ্যাস বিতরণ কোম্পানি ৪ শতাংশের বেশি সিস্টেম লস করছে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) সিস্টেম লসের পরিমাণ সর্বোচ্চ ২ শতাংশ নির্ধারণ করে দিলেও বিতরণ কোম্পানিটির এ হার তিনগুণের বেশি, ৬ দশমিক ১২। এ অনুযায়ী প্রতিদিন প্রায় ৯০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের হিসাব মেলানো যাচ্ছে না।

বিইআরসি জানায়, তিতাস গ্যাসের সিস্টেম লস ২০১৮-১৯ অর্থবছরের ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ছিল ৬ দশমিক ১২ ভাগ। তাদের গ্রহণযোগ্য সিস্টেম লস সর্বাধিক ২ ভাগ। এর বেশি সিস্টেম লস গ্যাসের মূল্যহারের মাধ্যমে ভোক্তাদের কাছ থেকে কোনোভাবেই আদায় করার সুযোগ নেই।

তিতাসসংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা জানান, বিতরণ কোম্পানিটি সর্বোচ্চ ২ হাজার ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট পর্যন্ত গ্যাসের সরবরাহ পেয়ে থাকে। এলএনজি আসার পর অন্য কোম্পানির মতো তিতাসও গ্যাসের সরবরাহ বেশি পাচ্ছে। শতকরা হিসাবকে গ্যাসের হিসাবে রূপান্তর করলে সিস্টেম থেকে হারিয়ে যাওয়া এই গ্যাসকে বিপুল পরিমাণই বলতে হবে।

হিসাব করলে দেখা যায়, বিদ্যমান ৬ দশমিক ১২ শতাংশে প্রতিদিন তিতাসের সিস্টেম লসে পড়ে ১৩৪ দশমিক ৬৪ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। কিন্তু অনুমোদিত ২ ভাগ সিস্টেম লস হিসাব করলে তা দাঁড়ায় ৪৪ মিলিয়ন ঘনফুটে।

অর্থাৎ প্রতিদিন অতিরিক্ত ৯০ দশমিক ৬৪ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সিস্টেম লসে পড়ছে। কোথায় এই লস হচ্ছে তারও হিসাব কোম্পানিটি দিতে পারছে না।

জ্বালানি বিভাগের নির্দেশনা ছিল, এলএনজি সরবরাহের আগেই তিতাস সব অবৈধ পাইপলাইন অপসারণ করবে। কিন্তু এখনও অপসারণের খরব দিয়ে আসছে তিতাস।
জানতে চাইলে তিতাস গ্যাস বিরতণ কোম্পানির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা জানান, এখনও অবৈধ পাইপলাইন রয়ে গেছে বলেই এ ধরনের খবর দিতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক বিবেচনায় অবৈধ পাইপলাইন অপসারণে তিতাসকে ধীরে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে তিতাস আর সেভাবে কাজ করতে পারেনি। তিনি বলেন, ‘যেখানে অবৈধ লাইন রয়েছে সেখানের ব্যবহারকারীরা তো গ্যাস ব্যবহার করে টাকা দিচ্ছে না। ফলে বিষয়টি সিস্টেম লস হিসেবে অন্তর্ভুক্তই হচ্ছে।’

সম্প্রতি তিতাস বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) জ্বালানি বিভাগে যে প্রতিবেদন দিয়েছে সেখানেও অবৈধ গ্যাস ব্যবহারকারীদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। দুদক বলেছে, তিতাসের এক শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এর সঙ্গে জড়িত। এরপর কোম্পানিটি নানা শুদ্ধিমূলক কর্মসূচিও হাতে নেয়। তবে এরপরও সিস্টেম লসের নির্দেশনা এখনও বাস্তবায়ন করতে পারেনি তারা।

তিতাসের পরিচালক (অপারেশন) মো. কামরুজ্জামান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, সিস্টেম লস কমাতে তিতাস বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। মিটারিং ব্যবস্থা আপডেট করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অবৈধ সংযোগ চিহ্নিতকরণ, বিচ্ছিন্নকরণ কার্যক্রম চলছে। হিসাব পদ্ধতির মডিফিকেশন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘এসব কার্যক্রম গতিশীল করার জন্য কর্মকর্তা-কর্মচারী রদবদলও করা হচ্ছে।’
কবে নাগাদ সিস্টেম লস কমাতে পারবেন জানতেই চাইলে তিনি বলেন, ‘এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। এক দিনে তো সম্ভব নয়। আমার কাজ করে যাচ্ছি।’ যত দ্রুত সম্ভব কমিয়ে আনা হবে বলে জানান তিনি। সূত্র বাংলা ট্রিবিউন

মানুষ বোঝে না, আল্লাহর শক্তি কত : প্রধানমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার: মানুষ বোঝে না, আল্লাহর শক্তি কত: প্রধানমন্ত্রীসময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ২১ আগস্টের আগে খালেদা জিয়া বক্তব্য ছিল- ‘আওয়ামী লীগ ১০০ বছরেও ক্ষমতায় আসতে পারবে না। শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী তো দূরের কথা জীবনেও বিরোধীদলীয় নেতাও হতে পারবে না।’ কিন্তু আল্লাহর মাইর দুনিয়ার বাইর বলে একটা কথা আছে। মানুষ বোঝে না আল্লাহর শক্তি কত? যে অভিশাপ খালেদা জিয়া আমার জন্য দিয়েছিল এখন তা তার কপালেই জুটে গেছে।এটা হলো বাস্তবতা।

বুধবার (২১ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনিস্টিটিউশন মিলনায়তনে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ সব কথা বলেন। ২১ শে আগস্ট গ্রে নেড হামলায় নি হত ও আহতদের স্মরণে এই সভা হয়।

২০০৪ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের মেয়াদে নৃশংস গ্রে নেড হামলার ঘটনায় তৎকালীন সরকারের জড়িতের বিষয়ে বিভিন্ন যোগসূত্রতা তুলে ধরেন তৎকালীন হামলার স্বীকার হওয়া শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, বিএনপি জামায়াতের পৃষ্টপোষকতা ছাড়া ২১ আগস্টের মত ঘটনা ঘটনা সম্ভব না-এটা আজকে প্রমাণিত সত্য। এটা নিয়ে আমরা একটা রায়ও পেয়েছি।
শেখ হাসিনা বলেন, তদন্ত করা হয়েছে। যারা আসামি তারা শাস্তি পেয়েছে। ২১ আগস্টের ঘটনায় খালেদা জিয়ার সহযোগিতা থাকলেও তাকে আসামি করা হয়নি।

সে তো প্রধানমন্ত্রী ছিল-তার সম্পূর্ণ দায়দায়িত্ব ছিল। এটা অস্বীকার করা যায় না। কারণ খালেদা জিয়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিল। আর বাবর কিন্তু স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ছিল। সে ক্ষেত্রের তার দায়িত্ব তো অস্বীকার কেউ করতে পারে না।
শেখ হাসিনা বলেন, একুশে আগস্ট গ্রে নেড হামলায় বেঁচে থাকার কথা নয়। ওরা ভাবেনি যে বেঁচে থাকবো। অনেক ছোট ছোট ঘটনা আমি জানি। যারা হামলা করেছে তারা এক জায়গায় গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে।

সেখান থেকে ফোন করেছে যে আমি মারা গেছি কী না।
একুশে আগস্টের গ্রে নেড হা মলায় নি হতদের স্মরণ করে তিনি বলেন, অজ্ঞাতনামা দুজন যে মারা গেল তাদের খবর কেউ নেয়নি, লাশও কেউ নেয়নি। এখন ধীরে ধীরে সবই বের হচ্ছে। কীভাবে ওই জজ মিয়াকে নিয়ে এসেছে। একজন সাধারণ মানুষকে নিয়ে এসে নি র্যাতন করে স্বীকারোক্তি নেওয়া হয়েছিল।

সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা অনেক তথ্য বের করেছেন। এই তথ্যটা বের করেন, তারেক রহমান খালেদা জিয়ার বড় ছেলে ৫ নম্বরে তার যে শ্বশুরবাড়ি ওখানে এসে সে ১০ মাস থাকলো এবং পহেলা আগস্ট চলে গেল ক্যান্টেনমেন্টের বাসায়। ওখানে থেকে সে কী করলো? তার কাজটা কী ছিল?

তিনি বলেন, অনেক পরে মামলা করে আমরা একটা রায় পেয়েছি। আমরা আশা করি এর বিচার হবে। কিন্তু যাদের আমরা হারিয়েছি তাদের তো আর ফিরে পাবো না।

জেলের তালা ভেঙেই খালেদা জিয়াকে আনব : দুদু

স্টাফ রিপোর্টার: জেলের তালা ভেঙেই খালেদা জিয়াকে আনব:ঢাকা- বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খা‌লেদা জিয়া‌কে জেলের তালা ভেঙেই মুক্ত করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান ও কৃষক দলের আহ্বায়ক শামসুজ্জামান দুদু।

তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে মুক্ত কর‌তে হ‌লে রাজপ‌থে আন্দোলন-সংগ্রাম করতে হবে। জেলের তালা ভেঙেই তাঁকে মুক্ত করে আনতে হবে।’বুধবার (২১ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ‘দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলন’র উদ্যোগে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আয়োজিত এক মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।

শামসুজ্জামান দুদু বলেন, পাকিস্তান আমলে শেখ মুজিবকে বের করার জন্য যেমন স্লোগান দিতে ‘জেলের তালা ভাঙব শেখ মুজিবকে আনব’ তেমনি বর্তমানে স্লোগান দিতে হবে ‘জেলের তালা ভাঙব খালেদা জিয়াকে আনব’।

তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া যদি এখন জেলের বাইরে থাকতেন তাহলে তিনি কৃষকদের পাশে দাঁড়াতেন, শ্রমিকদের পাশে দাঁড়াতেন, ছাত্রদের পাশে দাঁড়াতেন, ঢাকা শহরে ডে ঙ্গু আ ক্রান্ত হয়ে মানুষ যে অসহায় জীবন-যাপন করছেন তাদের পাশে গিয়ে দাঁড়াতেন, কৃষকরা ধানের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে ধান ক্ষেতে আগুন দিয়েছেন তাদের পাশে গিয়ে দাঁড়াতেন।

তিনি আরও বলেন, ব্যাংকে, শেয়ার মার্কেটে যে টাকা লুট হয়েছে তার বিরুদ্ধে তিনি (খালেদা জিয়া) প্রতিবাদ করতেন। বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়িয়ে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার জন্য লড়াই করতেন, রাজপথে নেমে আসতেন। কিন্তু তাকে জেলে আটকে রাখা হয়েছে, যাতে তিনি দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে না পারেন, অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়াতে না পারেন।

দেশ বাঁচাও, মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপনের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, শহিদুল ইসলাম বাবুল, বিএনপির সহ-তথ্যবিষয়ক সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী, ছাত্রদ‌লের সহ-সাধারণ সম্পাদক আরিফা সুলতানা রুমা, কৃষকদ‌লের সদস্য লায়ন মিয়া মো: আনোয়ার,ভিপি ইব্রাহিম ইন্জি: ছালাম, জিয়া আদর্শ একাডেমির সভাপতি আজম খান, মৎস্যজীবী দ‌লের নেতা ইসমাঈল হো‌সেন সিরাজী প্রমুখ।

অপরাধীদের শাস্তি দ্রুত নিশ্চিত না করায় ধ র্ষণ বেড়েছে : হাইকোর্ট

স্টাফ রিপোর্টার:দ্রুততম সময়ে অপরাধীদের বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়ায় ধ র্ষণের মতো অপরাধ বেড়েছে বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

ধর্ষণ সংক্রান্ত মামলায় দুই আসামির জামিন আবেদন খারিজ করা আদালতের লিখিত আদেশ মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে। বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চের স্বাক্ষরের পর প্রকাশিত ওই লিখিত আদেশে আদালতের পর্যবেক্ষণের বিষয়গুলো উঠে এসেছে।

আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে— ‘সাম্প্রতিক সময়ে দেশে ধর্ষণ বিশেষত শিশু ধ র্ষণ ও ধ র্ষণ পরবর্তী হত্যার মতো ঘৃণ্য অপরাধ বেড়েই চলেছে। এই অপরাধের সঙ্গে জড়িত অপরাধীর দ্রুততম সময়ে বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে না পারার দায় মূলত রাষ্ট্রের ওপরেই বর্তায়। এক্ষেত্রে বিচার বিভাগও জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে নয়।

আদালত তাদের লিখিত আদেশে আরও  বলেছেন, ‘আমাদের অভিজ্ঞতা হলো যে, ধ র্ষণ সংক্রান্ত মামলার আসামিগরা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই বেপরোয়া ও ধূর্ত প্রকৃতির। এরা ভিকটিম ও তার পরিবারের ওপরে চাপ-প্রভাব বিস্তার, আদালতে সাক্ষ্য দিতে ভয়-ভীতি, প্রলোভনসহ বিভিন্ন ধরনের কূটকৌশল অবলম্বন করে।

ক্ষেত্র বিশেষে সালিশের নামে সামাজিক বিচার করে ভিকটিম ও তার পরিবারকে মামলা প্রত্যাহারে বাধ্য এবং আদালতে সাক্ষ্য প্রদানে বিরত থাকার জন্য চাপ প্রয়োগ করে থাকে। এ অবস্থায় ‘সাক্ষী সুরক্ষা আইন’ প্রণয়নের বিকল্প নেই। আমরা প্রত্যাশা করছি, সরকার দ্রুততম সময়ে এ বিষয়ে আইন প্রণয়ন করবে।

আদালত বলেন,‘দেশের বিভিন্ন নারী ও শিশু নি র্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ধ র্ষণ ও ধ র্ষণ পরবর্তী হত্যাসহ নারী ও শিশু নি র্যাতন দমন আইনের মামলাগুলো বিচারের জন্য অপেক্ষমান। এর মধ্যে ৪/৫ বছরের পুরনো মামলার সংখ্যাও নেহাত কম নয়।

অভিযোগ গঠনে বিলম্ব এবং যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া ধার্য তারিখে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী উপস্থিত না হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক কয়েক মাস পরপর তারিখ পড়ছে। যদিও এই (নারী ও শিশু নি র্যাতন দমন আইন- ২০০০) আইনের ২০(৩) ধারায় সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে যে, মামলা বিচারের জন্য নথি প্রাপ্তির তারিখ হতে ছয় মাসের মধ্যে বিচার কাজ সমাপ্ত করার।

প্রসঙ্গত, ধ র্ষণের মামলায় বিচারিক আদালতে জামিন না মঞ্জুরের পর আসামি মো. রাহেল ওরফে রায়হান এবং মো. সেকান্দার আলী জামিন বিষয়ে হাইকোর্টে আপিল দায়ের করেন। কিন্তু আদালত তাদের আবেদন নামঞ্জুর করে পর্যবেক্ষণসহ এই আদেশ দেন।